১৪ জুলাই রাজ্যজুড়ে শুরু হলো বনমহোৎসব ২০২৫

২০১১ থেকে প্রায় ৪.৫ লক্ষ বিঘা জমিতে বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে

বুজ বাঁচাও, সবুজ দেখাও,/ সবুজের মাঝে বিবেক জাগাও।” এই শ্লোগানকে পাথেয় করে প্রতি বছরের মতো ১৪ জুলাই রাজ্যজুড়ে শুরু হলো বনমহোৎসব ২০২৫। গতকাল বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে প্রচার গাড়ির যাত্রা শুরু করে অরণ্য ভবন থেকে। ২০১১ থেকে প্রায় ৪.৫ লক্ষ বিঘা জমিতে বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। ২০২৩ সালের মধ্যে রাজ্যে মোট বনভূমি ও বৃক্ষ আচ্ছাদনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ২২.২৮%।

২০১৬ সালের মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘সবুজশ্রী’ প্রকল্প চালু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত নবজাতকদের মায়েদের প্রায় ৬৬ লক্ষ চারা বিতরণ করা হয়েছে। ‘কর্মশ্রী’ প্রকল্পে এ পর্যন্ত বনসম্পর্কিত কর্মকাণ্ডে ২৪,৫৬৪ জন শ্রমিককে ২০.০৫ কোটি টাকা মজুরি হিসেবে দেওয়া হয়েছে।

প্রান্তিক স্থান যেমন জঙ্গলমহল, সুন্দরবন এবং পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত বিদ্যালয়গুলিতে সর্বাধিক ৫০০টি চারাগাছ প্রদান করা হবে। বিনামূল্যে চারা বিতরণ করা হবে রাজ্যের বনদপ্তর অধিকৃত নার্সারিগুলিতেও।

সুন্দরবন সন্নিহিত তিনটি উপকূলীয় জেলায় ২০ কোটি ম্যানগ্রোভ চারা রপণ করা হয়েছে। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি-র সহায়তায় ৬৫০ কোটি টাকা প্রকল্পব্যয়ে রূপায়িত হচ্ছে ‘প্রজেক্ট ফর ফরেস্ট অ্যান্ড বায়োডারিভারসিটি কনজারভেশন ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ রেসপন্স ইন ওয়েস্ট বেঙ্গল’। প্রকল্পের সময়সীমা ২০৩১ সাল পর্যন্ত।

ফ্রান্স-এর আর্থিক সহযোগিতায় জলবায়ু পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ৮০০ কোটি টাকার প্রকল্প রাজ্য সরকার মঞ্জুর করেছে। বর্তমানে জঙ্গল থেকে প্রাপ্ত কাঠের যাবতীয় নিলাম পশ্চিমবঙ্গ বন উন্নয়ন নিগমের 'ই-অকশন'-এর মাধ্যমেই করা হচ্ছে। ২০২৪-২৫-এ আনুমানিক বিক্রয়মূল্য ২১৪.৫৯ কোটি টাকা। রয়্যালটি বাবদ রাজ্য কোষাগারে জমা হয়েছে ৮৮.৮৪ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।

সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্য থেকে মৌলিদের সংগ্রহ করা ঐতিহ্যবাহী সুন্দরবনের প্রাকৃতিক মধু পশ্চিমবঙ্গ বন উন্নয়ন নিগমের নামে ভৌগলিক নির্দেশাবলি (জি আই)-র জন্য নিবন্ধিত হয়েছে। কোনও বন্যপ্রাণীর দ্বারা মানুষের প্রাণহানি ঘটলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৫ লক্ষ টাকা অনুদান প্রদান ও নিহত ব্যক্তির পরিবারের একজনকে বনদপ্তরের 'ফরেস্ট ভলান্টিয়ার' হিসেবে নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৫৫৪ জনের নিয়োগ হয়েছে।

২০২২ থেকে ২০২৩-এর মধ্যে সেন্ট্রাল জু অথরিটি-র র্যাং কিং-এ দার্জিলিং চিড়িয়াখানা ভারতের মধ্যে প্রথম ও কলকাতার আলিপুর চিড়িয়াখানা চতুর্থ স্থান পেয়েছে। ২০২৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের ১২টি চিড়িয়াখানায় ৫৮.৮৮ লক্ষ মানুষ এসেছেন। ওয়ার্ল্ড এ্যাসোসিয়েশন অফ জু এ্যান্ড এ্যাকোয়ারিয়াম দার্জিলিং চিড়িয়াখানায় তুষার চিতা সংরক্ষণ ও প্রজনন কর্মসূচিকে বিশ্বের সফলতম সর্মসূচিগুলির একটি বলে স্বীকৃতি দিয়েছে।

২০১৬ সালের মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘সবুজশ্রী’ প্রকল্প চালু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত নবজাতকদের মায়েদের প্রায় ৬৬ লক্ষ চারা বিতরণ করা হয়েছে। ‘কর্মশ্রী’ পরকল্পে এ পর্যন্ত বনসম্পর্কিত কর্মকাণ্ডে ২৪,৫৬৪ জন শ্রমিককে ২০.০৫ কোটি টাকা মজুরি হিসেবে দেওয়া হয়েছে।

নাগরিক সবুজায়ন প্রকল্প অনুসারে, শহরাঞ্চলগুলিতে সবুজায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শহরাঞ্চলে বৃক্ষরোপন সংক্রান্ত কার্যাবলী বাস্তবায়নের জন্য হাউজিং সোসাইটিগুলির উপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হাউজিং সোসাইটিগুলির ক্ষেত্রে, আগামী ১৪ই জুলাই থেকে ৩১শে অগাস্ট ২০২৫-এর মধ্যে, উপলব্ধ বৃক্ষরোপণের জায়গা সাপেক্ষে, ফ্ল্যাট মালিক পিছু একটি করে চারাগাছ দেওয়া হবে।

বনমহোৎসব উপলক্ষে, শিক্ষাঙ্গনে বৃক্ষরোপণের বিশেষ ভূমিকা পালন করবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবেদনের ভিত্তিতে বিনামূল্যে সর্বাধিক ১০০টি চারাগাছ প্রদান করা হবে। এছাড়া, প্রান্তিক স্থান যেমন জঙ্গলমহল, সুন্দরবন এবং পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত বিদ্যালয়গুলিতে সর্বাধিক ৫০০টি চারাগাছ প্রদান করা হবে। বিনামূল্যে চারা বিতরণ করা হবে রাজ্যের বনদপ্তর অধিকৃত নার্সারিগুলিতেও। এর পাশাপাশি, বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ ও মানব-বন্যপ্রাণী সংঘাতের মতো বিষয়গুলিকে যথাসম্মত গুরুত্বের সঙ্গে বিভিন্ন সভায় আলোচনা করা হবে, যাতে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা এর থেকে শিক্ষালাভ করতে পারে এবং এর অংশ হয়ে উঠতে পারে। এই উৎসব চলবে আগামী ২০ জুলাই পর্যন্ত।
 

Developed by DXDasia