
বাঙালিকে ফের ক্যালেন্ডারমুখী করে তুলতেই কি এমন উদ্যোগ?
বিগত ছয় দশকেরও বেশি সময় দেড় হাজারেরও বেশি কমিকস আমাদের উপহার দিয়েছেন তিনি। গতবছরই ৫০-এ পা দিয়েছে নন্টে-ফন্টের কমিকস কে ভাল, কে খারাপ, কে ওপরচালাক, কে নালিশবাজ, কে পক্ষপাতদুষ্ট— নন্টে-ফন্টে কমিকসের মধ্যে মজার ছলে এ সব শিখে নেওয়ার কৌশলই শিশুদের শিখিয়ে দিয়েছেন শিল্পী নারায়ণ দেবনাথ। ২০২১ সালের শুরুতেই ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে ভূষিত হয়েছেন তিনি। সম্প্রতি তাঁর নানারকম কাজকে কেন্দ্র করে নতুন বছরের জন্য তৈরি করা হয়েছে ‘পদ্মশ্রী নারায়ণ দেবনাথ ক্যালেন্ডার ২০২২’। পরিকল্পনায় অগ্নিভ চক্রবর্তী।
কমিক্স-এর জনপ্রিয়তার আড়ালে চাপা পড়ে যায় তাঁর অলংকরণ শিল্পী পরিচয়। যদিও নন্টে-ফন্টে, হাঁদা-ভোঁদা, বাঁটুল সৃষ্টির অনেক আগেই তিনি এই কাজে হাত পাকিয়েছিলেন। এক সময় বিখ্যাত সাহিত্যিকদের লেখার অলংকরণ করে বেশ নামডাক হয়েছিল এবং এখনও তাঁর আঁকা প্রচ্ছদ-অলংকরণগুলি বিশ্ব-প্রকাশনার এক দুর্লভ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়।
আরও পড়ুন: নারায়ণ দেবনাথ : ৯৬ নট আউট
‘কিশোর ভারতী’ পত্রিকার ১৯৬৯ সালের ডিসেম্বরে প্রথম প্রকাশিত হয় ‘নন্টে আর ফন্টের কান্ডকারখানা’। সাদা-কালো বই আকারে প্রথম প্রকাশ ১৯৮১-র ডিসেম্বরে। এদের প্রথম দিকের কাহিনিতে ‘হাঁদা-ভোঁদা’র মতো পারস্পরিক দ্বন্দ্ব দেখা গেলেও মনোরঞ্জন ঘোষের ‘পরিবর্তন’ কাহিনির অনুপ্রেরণায় ১৯৭১ সালে ‘শারদীয়া কিশোর ভারতী’তে প্রথম আবির্ভাব হয় মজার সুপারিন্টেন্ডেন্ট স্যার ‘পাতিরাম হাতি’র ও বোর্ডিং স্কুলের কীর্তিকলাপের। এরপরে ১৯৭২ সালে এন্ট্রি নেয় ‘কেল্টু’দা। এই কমিক্সে তিনি একার হাতেই তৈরি করেছিলেন কাহিনি, চিত্রনাট্য, ছবি। এই সব তথ্যের পাশাপাশি ক্যালেন্ডারের বিভিন্ন পাতায় পাওয়া যাবে গোয়েন্দা কৌশিক, ডানপিটে খাঁদু আর তার কেমিক্যাল দাদু, পটলচাঁদ দি ম্যাজিশিয়ান, শুঁটকি আর মুটকি; যা ৮ থেকে ৮০, সব বয়সের মানুষ তথা বাঙালিদের কাছে চিরন্তন হয়ে রয়েছে। রয়েছে শিল্পীর করা একাধিক পূজাবার্ষিকীর প্রচ্ছদ ও অলংকরণ, কার্টুন স্ট্রিপ, বিখ্যাত সাহিত্যিকদের গল্পের নামাঙ্কন আরও অনেক কিছুই। বিশেষ আকর্ষন শিল্পীর করা ৩টি ‘অরিজিন্যাল’ আর্টওয়ার্ক।
এই ক্যালেন্ডারে স্বল্প পরিসরে, ‘শিল্পী’ নারায়ণ দেবনাথকে ফিরে দেখানোর চেষ্টা করছে দক্ষিণ কলকাতার লেক মার্কেট লাগোয়া সর্দার শঙ্কর রোডে একটি বই বিপণি, রিড বেঙ্গলি বুকস্। ক্যালেন্ডারটি পাওয়া যাচ্ছে তাঁদের স্টোর এবং অনলাইনে। নারায়ণ বাবুকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁরই সৃষ্টি, একাধিক বিখ্যাত চরিত্র এবং নিঃসন্দেহে এটি তাঁর স্বল্প আলোচিত কাজগুলো একত্রিত করে তুলে ধরার একটি অভিনব প্রয়াস। ২১ পেরিয়ে ২২ পড়লো বলে! নতুন বছর আসার সঙ্গে সঙ্গে খোঁজ পড়বে নিউ ইয়ার ক্যালেন্ডারের। যদিও মোবাইল-সভ্যতায় ক্যালেন্ডার তার কৌলিন্য হারিয়েছে, ক্রেতা বলতে হাতে গোনা কয়েকজনই। শিল্পীকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন তো বটেই, বাঙালিকে ফের ক্যালেন্ডারমুখী করে তুলতেই কি এমন উদ্যোগ?
