
সাম্যের গান গাইছে ইদের মরশুম
প“সাম্যের গান গাই-/ আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই”
নজরুল ইসলাম বহুবছর আগে এই কথা বললেও আজ এতবছর পর বাস্তব পরিস্থিতি কী? মসজিদে প্রার্থনা হোক বা পড়াশোনা, কতটা পথ পেরোতে হয়েছে সাম্যের জন্য? পৃথিবীতে যা কিছু শুভ, যা কিছু কল্যাণকর তাই প্রার্থিত। আর এই প্রার্থনায় সামিল হয় মঙ্গলকামী সকল নারী-পুরুষ। তাই একমাস পবিত্র রমজান পালনের মাধ্যমে চলে খুশির ইদের আবাহন। তবে, ইদের নামাজে বিভিন্ন মসজিদে নামাজ পড়ার ক্ষেত্রে মেয়েদের ভূমিকা কতটা? তাঁরা কি আদৌ মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ার সুযোগ পান? মসজিদে গিয়ে মহিলাদের নামাজ পড়ার বিষয়ে ২০১৯ সালে ‘অল বেঙ্গল ইমাম অ্যাসোসিয়েশন’-এর তরফে ওয়াকফ বোর্ড-সহ নাখোদা মসজিদ ও টিপু সুলতান মসজিদ কমিটিতে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তারপরে কি মহিলারা মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তে পারছেন? নাকি আগেও পারতেন?
২০১৯ সালে ‘অল বেঙ্গল ইমাম অ্যাসোসিয়েশন’-এর তরফে ওয়াকফ বোর্ড-সহ নাখোদা মসজিদ ও টিপু সুলতান মসজিদ কমিটিতে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তারপরে কি মহিলারা মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তে পারছেন? নাকি আগেও পারতেন?
এই প্রসঙ্গে বঙ্গদর্শন.কম-এর পক্ষ থেকে কথা বলা হয়েছিল কলকাতার নাখোদা মসজিদের ইমাম মৌলানা সাফিক সাহেবের সঙ্গে। তিনি জানান, “ইসলাম ধর্মে মহিলাদের মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তে কোনো বাধা নেই। নাখোদা মসজিদে বরাবরই মহিলারা নামাজ পড়তে পারেন। এখানে মেয়েদের জন্য নামাজ পড়ার সুব্যবস্থার পাশাপাশি আলাদা শৌচালয়ও আছে। ফলতঃ প্রতিদিন এখানে অনেক মেয়েরা আসছেন, নামাজ পড়ছেন, ইফতার করছেন। ২০১৯ সালে ওই চিঠির আগেও এখানে মহিলারা আসতেন এখনও আসছেন।” কিন্তু তারপরেও ওই চিঠির প্রয়োজন হয়েছিল কেন? এই প্রসঙ্গে তিনি জানান, “বিভিন্ন এলাকার ছোটো ছোটো মসজিদে যেখানে আলাদা করে মহিলাদের জন্য ব্যবস্থা নেই সেইসব জায়গার জন্য এই চিঠি, তবে জায়গার অভাবে অনেক জায়গায় এখনও আলাদা করে ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। তাই সেখানে হয়তো মহিলারা যেতে পারছেন না। কিন্তু মসজিদে মহিলাদের নামাজ পড়ার ক্ষেত্রে কোনো ধর্মীয় বাধা নেই।” তিনি আরও জানান, ধর্মীয় বাধা না থাকার ফলেই প্রতিবছর হাজার হাজার মহিলা পাড়ি দেন মক্কা-মদিনায়।

শুধু প্রার্থনা কেন, পড়াশোনার ক্ষেত্রেও আজ একই পংক্তিতে নারী-পুরুষ। কিন্তু দীর্ঘদিনের পর্দা সরিয়ে জ্ঞানের আলোর কাছে পৌঁছতে লেগে গেছে অনেকটা সময়। মুসলিম সমাজে মেয়েদের জ্ঞানের আলো পৌঁছে দিতে বেগম রোকেয়ার লড়াই, যুক্তি আজও তুলে দেয় সব ধরনের মানসিক অবরোধ। তাঁর কথায়, “আমরা সমাজেরই অর্ধ অঙ্গ। আমরা পড়িয়া থাকিলে সমাজ উঠিবে কী রূপে? কোনো এক পা বাঁধিয়া রাখিলে, সে খোঁড়াইয়া কতদূর চলিবে? পুরুষের স্বার্থ ও আমাদের স্বার্থ ভিন্ন নহে, একই। তাহাদের জীবনের উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য যাহা আমাদের লক্ষ্যও তাহাই।”

“বিশ্বে যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণ-কর/ অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর…”
আসলে মানুষের শুভ কামনা, শুভ চিন্তার জোরেই এগিয়ে চলে সমাজ, গতি পায় সভ্যতা, লিঙ্গের বিভাজন সেখানে যুক্তিহীন। তাই আজও তরুণী মালালা ইউসুফজাই লড়ে চলছেন শিক্ষা ও নারী অধিকারের জন্য, আর নামাজের মঙ্গল প্রার্থনার সুরে মিলিয়ে যাচ্ছে সকল সামাজিক বৈষম্য।
