
ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল নাখোদা ও টিপু সুলতান মসজিদ
শুরুতেই কিছু প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খায়, পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় ২০১৯ সালেও কি মহিলারা ক্রমশ কোণঠাসা হচ্ছেন? এই সমাজ কি আরও একপেশে হয়ে উঠছে? একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে কেনই বা আমরা উনিশ শতকীয় ধ্যানধারণায় পড়ে থাকব, তা নিয়ে বারবার প্রশ্ন আসে সমাজের একাংশের মনে। সেটা যে ধর্মই হোক না কেন। কিন্তু এবার হয়তো ঘুরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে। স্রোতের মূলে থেকেই একটু অন্যরকম হাওয়া। সামনেই ঈদ। ঈদের আগেই গত মঙ্গলবার একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল কলকাতার নাখোদা এবং টিপু সুলতান মসজিদ।
তাঁরা ঘোষণা করলেন মহিলারা শুধুমাত্র ঈদের দিনেই নয়, সারা বছর মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তে পারবেন। কলকাতার বিখ্যাত দুই মসজিদে পর্দা দিয়ে ঢাকা পৃথক কক্ষের ব্যবস্থা করা হবে। যেখানে মহিলারা নামাজ পড়তে পারবেন। সম্প্রতি নাখোদা এবং টিপু সুলতান মসজিদ কমিটিকে চিঠি পাঠিয়েছিল অলবেঙ্গল ইমাম অ্যাসোসিয়েশন। তাতে সাড়া দিয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুই মসজিদ কর্তৃপক্ষ। এখানেই শেষ নয়, মহিলাদের জন্য পৃথক শৌচালয়ের ব্যবস্থা করা হবে। ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের তরফ থেকে এই চিঠি কলকাতা পুরসভার কাছেও পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে মূলত তিনটি বিষয়ে স্পষ্ট কথা বলা হয়েছে– পর্দা দেওয়া পৃথক কক্ষ মহিলাদের জন্য, মহিলাদের জন্য শৌচালয় এবং শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা শৌচালয়। প্রতিটি বিষয়েই সম্মতি দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে ধর্মতলার টিপু সুলতান ও চিৎপুরের নাখোদা মসজিদ।
১৮৪২ সালে টিপু সুলতানের কনিষ্ঠ পুত্র প্রিন্স গোলাম মহম্মদ এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। শুধুমাত্র মুসলিম নয়, সকল ধর্মের মানুষের জন্য এই মসজিদের দ্বার উন্মুক্ত। অন্যদিকে একটি ছোট্ট সুন্নি মুসলিম সম্প্রদায় কুচ্চি মেমন জামাত আগ্রার সিকান্দ্রায় অবস্থিত মুঘল সম্রাট আকবরের সমাধি সৌধের অনুকরণে নির্মাণ করেন নাখোদা মসজিদ। ১৯২৬ সালের ১১ সেপ্টেম্বর এই মসজিদটি স্থাপিত হয়। নাখোদা শব্দের অর্থ নাবিক। ঐতিহ্যবাহী দু’টি মসজিদ যে শুধুমাত্র মুসলিমদের কথাই বলে তা নয়, সর্বধর্ম সমন্বয়ের কথাও কর্তৃপক্ষের মুখে বারবার শোনা গেছে। কিন্তু এত বছর পর এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল শহরের এই দুটি মসজিদ। ঈদ আসার আগে এর থেকে ভালো সিদ্ধান্ত আর কিছুই হতে পারে না।
