
যে মসজিদ তৈরি করিয়েছিলেন টিপু সুলতানের ছোটো ছেলে
আমাদের মহানগর কলকাতা মসজিদের শহরও বটে। অন্যান্য সব পুরোনো স্থাপত্যের মতোই কলকাতার ঐতিহ্যবাহী মসজিদগুলি ইতিহাসকে এখনও মানুষের চোখের সামনে তুলে ধরে। চিৎপুর রোডের নাখোদা মসজিদ, টালিগঞ্জের গোলাম মহম্মদ শাহ মসজিদ, ধর্মতলা মোড়ের উত্তর ধার ঘেঁষে টিপু সুলতান মসজিদ, এছাড়া শহরের আনাচে কাছে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য পিরের মাজার, যেগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটির অলংকরণ তারিফ করার মতো – সবই কলকাতার সমৃদ্ধ কৃষ্টির অংশ। তবে এই শহরের সবথেকে জনপ্রিয় দু’টি মসজিদ অবশ্যই নাখোদা আর টিপু সুলতান মসজিদ। বেশির ভাগ মানুষ টিপু সুলতান মসজিদ বলতে এসপ্ল্যানেড অঞ্চলের বিশাল ইসলামিক স্থাপত্যটিকেই বোঝেন। তবে টিপু সুলতানের নামেই আরেকটি মসজিদ কলকাতায় রয়েছে। টালিগঞ্জের সেই মসজিদ অবশ্য গোলাম মহম্মদ শাহ মসজিদ নামেও পরিচিত।
আসলে দু’টি মসজিদই তৈরি করিয়েছিলেন শের-ই-মহীশূর টিপু সুলতানের সবথেকে ছোটো ছেলে প্রিন্স গোলাম মহম্মদ। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বিরুদ্ধে লড়াই করে ১৭৯৯ সালে তিনি যুদ্ধেক্ষেত্রে বীরের মতো শহিদ হন। তাঁর ১২ জন ছেলেকে ব্রিটিশরা দক্ষিণ ভারতের ভেলোর শহরে বন্দি করে রেখেছিল। কয়েক বছর পর ১৮০৭ সালে তাঁদের নিয়ে আসা হল কলকাতায়। টিপু সুলতানের সবথেকে ছোটো ছেলে গোলাম মহম্মদ তখন ছিলেন শিশু। পরবর্তী কালে নানারকম সমাজসেবার কাজে নিজেকে তিনি যুক্ত করেছিলেন। বাবার স্মরণে মধ্য কলকাতার এসপ্ল্যানেড অঞ্চলে ১৮৩২ সালে জমি কিনে তিনি টিপু সুলতান শাহি মসজিদ বানানো শুরু করেন। ১৮৪২ সালে বানানোর কাজ শেষ হয়। পরে লোক মুখে এই মসজিদটির নাম হয়ে যায় টিপু সুলতান মসজিদ। ‘শাহি’ কথাটি হারিয়ে যায় কালের গর্ভে।

এসপ্ল্যানেডে মসজিদের লাগোয়া জমিতে একটা বিশাল জলাশয় ছিল। নামাজ পড়ার আগে মানুষ সেখানে অজু করতেন, অর্থাৎ হাত-পা ধুয়ে নিতেন। এখন সেই জলাশয় আর নেই। সেই জলাশয় যে কোথায় ছিল, কীভাবে তা হারিয়ে গেল, এখন তা আর জানা যায় না। তবে মসজিদ সংলগ্ন প্রশস্ত উঠোন এখনও দেখা যায়। মুঘল স্থাপত্যের ঘরানায় তৈরি এই সৌধের কারুকার্য এখনও মানুষকে মুগ্ধ করে। মূল ভবনকে ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকা দশটি মিনার মসজিদের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আর মসজিদে বাস করে নানান ধরনের পায়রা। নামাজের পর নামাজিরা নিয়মিত সেই পায়রাদের খেতে দেন।
তথ্যসূত্র – বাংলা নিউজ টুয়েন্টি ফোর, কালের কণ্ঠ, সময়ের প্রয়োজনে পরিবর্তন।
