ঐতিহাসিক মেদিনীপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে ‘ফ্রিডম ফাইটার্স আর্কাইভ’

মেদিনীপুর জেলা ছিল বিপ্লবীদের জায়গা। অগ্নিযুগের সাক্ষী ছিল মেদিনীপুর সেন্ট্রাল জেল তথা, মেদিনীপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার। মেদিনীপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে এখানেই তৈরি হয়েছে এক নতুন ইতিহাস চর্চার কেন্দ্র। মেদিনীপুর জেলাকে ঘিরে দেশের যে স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস, তা তুলে ধরা হয়েছে একটি আর্কাইভের মাধ্যমে। আলিপুরের মতো এবার এই সংশোধনাগারও ঘুরে দেখতে পারবেন জনসাধারণ।

সংরক্ষিত হয়েছে ব্রিটিশ শাসনকালে জেলে বন্দী, সাজাপ্রাপ্ত ও ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত স্বাধীনতা সংগ্রামীদের জীবন, তাঁদের লেখা চিঠি, সরকারি নথি, পেপার কাটিং সহ ব্রিটিশ শাসনের অত্যাচারের বহু অজানা দলিল।

১৮৬০ সালে শুরু হয়েছিল এই জেলের নির্মাণ। ১৮৭২ সালে তা কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের স্বীকৃতি পায়। স্বাধীনতা-পূর্ব যুগে বাংলার জেলগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল আলিপুর, হিজলি এবং মেদিনীপুর। হিজলি জেলেই তৈরি হয়েছে খড়্গপুর আইআইটি। আলিপুরে তৈরি হয়েছে মিউজ়িয়াম। এ বার মেদিনীপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারেও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আর্কাইভ গড়া হল। মেদিনীপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের প্রবেশদ্বারের উল্টোদিকে থাকা ‘কর্নেল এম এ সিং গার্ড ভবন’-কে সংস্কার করে তৈরি হয়েছে একটি সংগ্রহশালা। নাম দেওয়া হয়েছে ‘ফ্রিডম ফাইটার্স আর্কাইভ’ (Freedom Fighters Archive)। স্বাধীনতার আদর্শ, আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের মূল্যবোধ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার এক প্রয়াস। ক্ষুদিরাম বসু, পেডি-ডগলাস-বার্জ নিধনের নায়ক বিমল দাশগুপ্ত, জ্যোতিজীবন ঘোষ, প্রদ্যোৎ কুমার ভট্টাচার্য, অনাথবন্ধু পাঁজা, মৃগেন্দ্রনাথ দত্ত, ব্রজকিশোর চক্রবর্তী, রামকৃষ্ণ রায়, নির্মলজীবন ঘোষ-সহ অখণ্ড মেদিনীপুরের অসংখ্য স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বলিদানের ইতিহাস লিখিত আকারে সংরক্ষণ করা হয়েছে এই আর্কাইভে। এখানে সংরক্ষিত হয়েছে ব্রিটিশ শাসনকালে জেলে বন্দী, সাজাপ্রাপ্ত ও ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত স্বাধীনতা সংগ্রামীদের জীবন, তাঁদের লেখা চিঠি, সরকারি নথি, পেপার কাটিং সহ ব্রিটিশ শাসনের অত্যাচারের বহু অজানা দলিল।

জেল সুপার বিনোদ সিং সংবাদমাধ্যমে বলেন, বহুদিন ধরে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী ও গবেষকরা মেদিনীপুর সেন্ট্রাল জেলের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস জানতে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু প্রশাসনিক অনুমতির নানা জটিলতায় তাঁরা অনেক সময়ই তা জানতে পারতেন না। তাঁদের সুবিধার্থেই আমরা এই আর্কাইভটি গড়ে তুলেছি, যাতে আগামী প্রজন্ম খুব সহজেই জানতে পারে এই জেলের ভিতরে ঘটে যাওয়া বীরত্বগাথা ও আত্মত্যাগের গল্প।

আপাতত, রবিবার এবং ছুটির দিন ছাড়া সব দিনই খোলা থাকবে এই আর্কাইভ। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত যে কেউ বিনামূল্যে সেখানে প্রবেশ করতে পারবেন।

কীভাবে যাবেন:

ট্রেন পথে কলকাতা থেকে পশ্চিম মেদিনীপুরের দূরত্ব প্রায় ১২৮ কিমি। হাওড়া স্টেশন থেকে এক্সপ্রেস/ লোকাল ট্রেনে পশ্চিম মেদিনীপুরে পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিটের কাছাকাছি। সড়ক পথে কলকাতা থেকে পশ্চিম মেদিনীপুরের দূরত্ব প্রায় ১৩২ কিলোমিটার। কলকাতা থেকে এনএইচ-৬ (মুম্বই-কলকাতা হাইওয়ে) হয়ে বাসে বা গাড়িতে প্রায় ৩ ঘণ্টা লাগে। পশ্চিম মেদিনীপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে পৌঁছে যান পুলিশলাইন সংলগ্ন এলাকায়, সেন্ট্রাল রোডের ওপর অবস্থিত এই ঐতিহাসিক সংশোধনাগার।

Written by