Like a Dog Foundation : অবলা প্রাণীদের প্রকৃত বন্ধু

অবহেলিত পশুরা বিনামূল্যে শুশ্রুষা পায় যেখানে

মাদের দেশে অবলা প্রাণীদের পুজো করা হয় নয়তো তাচ্ছিল্য করা হয়। এর মাঝামাঝি কিছু হয় না। অথচ সাম্প্রতিককালে পশুদের জন্য যে সচেতনতা দেখা যাচ্ছে, তা প্রথম থেকেই থাকা উচিত ছিল। পশুরাও যে আমাদের মতো নানা ধরনের রোগের প্রকোপে জর্জরিত, সে খবর ক’জন রাখে! ওদের দিকে ফিরে তাকানোর সময় বা মানসিকতা মানুষের থাকে না। তবে, এখন চিন্তাভাবনা পাল্টাচ্ছে, এগিয়ে আসছে ‘লাইক এ ডগ ফাউন্ডেশন’ (Like a Dog Foundation)-এর মতো সংস্থাগুলো।

‘লাইক এ ডগ ফাউন্ডেশন’ হল কলকাতায় অবস্থিত একটি অলাভজনক সংস্থা, যেখানে পশুদের চিকিৎসা হয়। পোষ্যদের জন্য যারা ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ বহন করতে পারে না, ছোটো ছোটো কর্মসূচীর মাধ্যমে তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে এই সংস্থা। শুধু বাড়ির পোষ্য নয়, রাস্তার ভবঘুরে পশুদের জন্যেও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিনামূল্যে শুশ্রুষার জন্য বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় সংস্থার কর্মীদের।

২০১৪ সালে ৪নং ধারা অনুযায়ী একটি অলাভজনক সংস্থা হিসেবে নিবন্ধিত হয় ‘লাইক এ ডগ ফাউন্ডেশন’। প্রতিষ্ঠাতা দুই বোন, ডাঃ  রেশমি সেনশর্মা (VMD) ও শ্বেতা সেনশর্মা। ফাউন্ডেশনের বর্তমান পরিচলক শ্বেতা। সংস্থার অন্যতম সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও পরামর্শদাতা হিসেবে ২০১৫ সালে যুক্ত হন সংকল্প ঘোষ। শ্বেতা সেনশর্মা’র কথায়, “বাড়ির হোক বা রাস্তার, যেকোনও ধরনের পশুদের জন্যই আমাদের সমবেত ভালোবাসা আর সহমর্মিতা প্রয়োজন। প্রয়োজন তাদের স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখা। টিকা, স্পে এবং নিউটারিং সার্জারির পাশাপাশি তাদের নিয়মিত স্বাস্থ্য-পরীক্ষার কথাও ভাবতে হবে।” 

২০১৪ সালে ৪নং ধারা অনুযায়ী একটি অলাভজনক সংস্থা হিসেবে নিবন্ধিত হয় ‘লাইক এ ডগ ফাউন্ডেশন’। প্রতিষ্ঠাতা দুই বোন, ডাঃ রেশমি সেনশর্মা (VMD) ও শ্বেতা সেনশর্মা। ফাউন্ডেশনের বর্তমান পরিচলক শ্বেতা। সংস্থার অন্যতম সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও পরামর্শদাতা হিসেবে ২০১৫ সালে যুক্ত হন সংকল্প ঘোষ।

অবলা প্রাণীদের ওপর সমাজের আচরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কলকাতায় অনেক পশুপ্রেমী আছেন, পশুদের সেবাযত্ন করে এমন অনেক জায়গাও আছে। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে তৈরি ছোটো ছোটো গোষ্ঠী আছে, যারা অসহায় প্রাণীদের জন্য চিকিৎসা ও অন্যান্য সহায়তা দেয়। এর পাশাপাশি শ্বেতা একথাও মেনে নিয়েছেন যে অবলা প্রাণীদের ওপর হিংসা, নিষ্ঠুরতার উদাহরণও এ সমাজে ভুরিভুরি, বিশেষত জনাকীর্ণ এলাকায়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে তাঁদের সংস্থার লক্ষ্য, “স্পে এবং নিউটার পদ্ধতিতে পশুদের জন্মনিয়ন্ত্রণ করা এবং টিকা দিয়ে রোগসংক্রমণ রোধ করা।”

এই লক্ষ্য পূরণের জন্য প্রতিবছর ১ মার্চ থেকে ১০ মার্চের মধ্যে তাঁরা কমিউনিটি অ্যানিমাল কেয়ার উইক-এর আয়োজন করে থাকেন। অল্প সময়ের মধ্যে মেগা ভ্যাকসিন ড্রাইভ। এবছর এই মেগা ভ্যাকসিন ড্রাইভ-এ তাঁদের সঙ্গে অংশীদারিত্ব করেছে কলকাতার ইন্টারন্যাশনাল ভেটেরিনারি স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন। তাদের সহায়তায় স্বনামধন্য পশুচিকিৎসকরা এই ড্রাইভে অংশ নিয়েছিলেন। পাম এভিনিউ, তোপসিয়া, তিলজালা, ট্যাংরা, গড়িয়া, শ্যামবাজার, শোভাবাজার, বাগবাজার এবং সোনাগাছির মতো জনবহুল, ঘিঞ্জি এলাকাগুলোয় অভিযান চালিয়ে ৫৭৫টিরও বেশি প্রাণীকে ১২০০টিরও বেশি টিকা দেওয়া হয়। টিকাগুলির মধ্যে রয়েছে অ্যান্টি-র‍্যাবিস, DHPPiL, FVRCP ইত্যাদি। অনুদানের ওপর ভিত্তি করেই এই সমস্ত খরচ চালানো হয়। www.likeadog.org এই ওয়েবসাইটি খুঁটিয়ে দেখে, চাইলে আপনিও অনুদান দিতে পারবেন। 

 

টিকাকরণ ছাড়াও ভ্যাকসিন ড্রাইভ চলাকালীন পশুদের প্রাথমিক চিকিৎসা করে প্রয়োজনে অস্ত্রোপচারও করা হয়। বড়োবাজার, রাজাবাজারের মতো এলাকায় ৬০টিরও বেশি স্পে এবং নিউটার সার্জারি করা হয়েছে। সংস্থার নামে শুধুমাত্র ‘কুকুর’-এর উল্লেখ থাকলেও সব ধরনের প্রাণীদেরই বন্ধু হয়ে উঠেছে। সব প্রাণীরই সমানভাবে সাহায্যের প্রয়োজন। এই সারকথাটিই মেনে চলার চেষ্টা করছে এই সংস্থা এবং পশুদের টিকাকরণের মধ্যে দিয়ে তারা জলাতঙ্ক এবং অন্যান্য বিপজ্জনক সংক্রমণ থেকে রক্ষা করছে প্রাণীদের সেই সঙ্গে আমাদেরও।  

এই সংস্থা উৎসাহী পশুসেবকদের জন্য অনলাইন এবং ব্যক্তিগত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে থাকে। বিশেষ করে কমিউনিটি অ্যানিমাল কেয়ার উইক-এর আগে। জরুরী পরিস্থিতিতে সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারার জন্য উপযুক্ত জ্ঞান এবং দক্ষতা রয়েছে এই সংস্থার স্বেচ্ছাসেবকদের। এবছর কলকাতার 26/F তপসিয়া রোডে, ডাঃ রেশমি সেনশর্মার তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণ কর্মসূচীর আয়োজিত হয়েছিল। যাঁরা শারীরিকভাবে প্রশিক্ষণ নিতে আসতে পারেন না, তাঁদের জন্য অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা থাকে। শ্বেতা বলছিলেন তাঁদের সংস্থার মূল নীতি ও ট্যাগলাইন “Compassion is Contagious” অর্থাৎ “সহানুভূতির সংক্রমন”। তাঁর কথায়, “সমাজের অংশ হিসেবে আমরা যদি আরও সহানুভূতিশীল হয়ে উঠি, যেকোনও সমস্যার সমাধানও সহজ হয়ে উঠবে।”     

‘লাইক এ ডগ ফাউন্ডেশন’-এর মতো ফাউন্ডেশন আজ অপরিহার্য। সম্প্রতি গুজরাটে একটি বিপথগামী কুকুরের কামড়ে একজন কলেজ ছাত্রের মৃত্যু হয়। সঠিক টিকা নেওয়া থাকলে এবং যথা সময়ে কুকুরটির চিকিৎসা হলে এমনটা ঘটতো না। ‘লাইক এ ডগ ফাউন্ডেশন’ চেষ্টা করছে এই ফাঁকগুলোই পূরণ করতে।

____________
ইংরেজিতে মূল প্রতিবেদনটি পড়ুন

Post Tags
Developed by DXDasia