বাজার চলতি রেডিমেড আচারের গুণগত মান যাচাই করছেন তো?
আচার খেতে ভালবাসেন না, এখনও কিন্তু এরকম মানুষ পাওয়া মুশকিল। বাঙালি বাড়িতে ভাত-পাতে এছাড়া, রুটি-পরোটার সঙ্গে আচারের স্বাদ অন্য মাত্রা এনে দেয়। আবার আচার দিয়ে যদি মুড়ি মাখেন, তার স্বাদেও কিন্তু জিভে জল আসতে বাধ্য। ঠাকুমা-দিদিমারা দৌলতে এক সময় মোটামুটি সব বাড়িতেই খোঁজ করলে লঙ্কার আচার, আমের আচার, তেঁতুলের আচার, লেবুর আচার, কুলের আচার -একটা না একটা মিলতই। ‘সেই রামও নেই! সেই অযোধ্যাও নেই।’ এই প্রবাদবাক্যটি এক্ষেত্রে একেবারে মোক্ষম! সময়, রুচি, স্বাদ সব বদলে গেছে, বদলে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। তবে, প্রজন্মের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন, আচার খেতে নিখাদ ভালোবাসেন, প্রবীণ-নবীন এরকম মানুষ এখনও আছেন। বহুসংখ্যকই আছেন। তাঁদের জন্যই মূলত এই প্রতিবেদন।
চামড়া খানিক কুঁকড়ে যাওয়া পাকা কুল আর কলাপাতায় মোড়া খোসা ছাড়ানো খয়েরি রঙা পাকা তেঁতুল – বাজারে গেলেই এই দুই মরশুমি ফলের দেখা মিলছে এখন। খাদ্যগুণে ভরপুর কুল বা তেঁতুল বাঙালি রান্নাঘরে কোনওদিন চাটনি আবার কোনওদিন আচার হওয়ার জন্য জুড়ে বসছে কি? বড়োদের হাতে বানানো কুল বা তেঁতুলের আচারের যা অপূর্ব স্বাদ! অনেকেই এখনও স্মৃতি উসকে দেওয়া সেই রকম আচার বাড়িতে বানাতে চান। কেউ পারেন, কেউ পারেন না। এখন অবশ্য সকলে বাজারের রেডিমেড আচার কিনতেই অভ্যস্ত। ব্যস্ত জীবনধারায় সুবিধের মনে হলেও এবং স্বাদে কখন কখনও মনে ধরলেও, সেসবের আচারের গুণগত মান রীতিমত ভেবে দেখবার বিষয়।

এপর্যন্ত বিভিন্ন সমীক্ষাতে পাওয়া গেছে রেডিমেড আচারে চিনির সিরাপ বা বিভিন্ন কৃত্রিম সুইটনার দেওয়া হয় ভেজাল হিসেবে। সম্প্রতি একটি জনৈক ইংরেজি সংবাদপত্র এই কৃত্রিম মিষ্টি-ভেজালের যথেচ্ছ ব্যবহার এবং এর কারণে যেধরনের স্বাস্থ্যহানির আশঙ্কা রয়েছে, তা তুলে ধরেছে একটি প্রতিবেদনে। কৃত্রিম মিষ্টি ছাড়াও আচারে ব্যবহৃত আরও কিছু ভেজাল উপাদান থাকে, যেমন- তেল, মশলা। আচার বানাতে সরষের তেলের বদলে অন্য কোনও তেল ব্যবহার করা যায় না। কিন্তু, খাঁটি সরষের তেল পাওয়াই তো দুষ্কর! মশলার ক্ষেত্রেও একই কথা খাটে। তাহলে, খাঁটি আচার কি বাজারে একেবারেই অমিল?

না, একেবারে অমিল একথা বলাটা ঠিক হবে না। বাজারে খুঁজলে খাঁটি আচার পাওয়াই যায়। তার জন্য আপনাকে জহুরী হতে হবে, বিচক্ষণ হয়ে তবেই আচার কিনতে হবে। বাংলার বহু ছোটো স্বাধীন সংস্থা বা ব্যক্তিগত উদ্যোগ মানুষের কাছে গ্রাম বাংলার মহিলাদের হাতে বানানো খাঁটি আচার পৌঁছে দিয়ে ভরসা জিতে নিচ্ছে। যেমন, এ বিষয়ে আমরা কথা বললাম ‘দ্য বেঙ্গল স্টোর’ নামে একটি ছোটো বানিজ্যিক সংস্থার সঙ্গে।
ভেজালহীন, ১০০% খাঁটি খাদ্যদ্রব্য বিক্রির জন্য অনেকদিন ধরেই নির্ভরযোগ্য অবস্থান ধরে রেখেছ অনলাইন বিপণিটি। বিজ্ঞাপনের চটক নয়, ‘দ্য বেঙ্গল স্টোর’-এর ইউএসপি হল ‘খাঁটি খাবার’। তাঁরা মনে করেন, খাবার জিনিস খাঁটি হলে এমনিতেই চাহিদা তৈরি হয়, দেখনদারির প্রয়োজন পড়ে না। আর সেকারণেই এই বিপণির আচারগুলি বেশ জনপ্রিয়। তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ‘বঙ্গদর্শন’-কে স্টোর-এর পক্ষ থেকে রোহিত সেন বলেন, “যেসব আচার আমরা ক্রেতাদের পৌঁছে দিই, তা সরাসরি গ্রাম বাংলা থেকে সংগ্রহ করা। যাঁরা বানান তাঁদেরকে আমরাই ১০০% খাঁটি সরষের তেল ও আনুষঙ্গিক মশলাপাতি সরবরাহ করে থাকি। এই মশলাপাতিগুলো আমাদের স্টোরেই পাওয়া যায়। আমাদের আচার ভেজালহীন শুধু নয় সবথেকে খাঁটিও বলা চলে।” আইআইটি খড়গপুর (এএফটি ল্যাব)-এ পরীক্ষিত এবং প্রত্যায়িত সার্টিফিকেট দেখিয়েছেন রোহিত। সেখানে প্রত্যেক উপাদানের পরিমান উল্লেখ করা আছে শতাংশের হিসেবে।
‘দ্য বেঙ্গল স্টোর’-এর আচার কিনতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন
তাই, চাইলে সব দিকটা বিবেচনা করে বাড়িতেই বানিয়ে নিতে পারেন তেঁতুল বা কুলের আচার। আর, তা যদি অসম্ভব মনে হয়, যদি মনে হয় কিনেই খাবেন তাহলে ‘দ্য বেঙ্গল স্টোর’-এর ঠিকানা তো রইলোই এছাড়াও নিজ নিজ তদন্তে খুঁজে নিতেই পারেন খাঁটি স্বাদ ও স্বাস্থ্যের ঠিকানা।