পায়ের পেশি আহত, তাও এক অবিশ্বাস্য অভিযান
দৌড়নোর জন্যে প্রথম স্টেপ ফেলেই বুঝলাম দিনটা আমার নয়, শেষ সপ্তাহের এক্লামাইটেজশন ট্রেক থেকে আমি এখনো রিকভারি করিনি।
আসলে চেষ্টা করতে চাইছিলাম একদিনে ইউকসাম থেকে জোংরিলা, গোচালা পেরিয়ে আবার ইউকসামেই নেমে আসা যায় কিনা! অসম্ভব কঠিন কাজ, প্রায় ৯০-৯২ কিমি দীর্ঘ পথ, সঙ্গে সব মিলিয়ে প্রায় ৮০০০ মিটার ক্লাইম্ব, পেরোতে হবে ৪০০০+ এবং ৫০০০+ মিটারের দুটো পাস। রাস্তা বলেও প্রায় কিছু নেই। বরফ,কাদা,পাথর… তার মধ্যেই ট্রেকিং করে পুরো রাস্তা শেষ করতে সময় লাগে ৭-১০ দিন। আর আমি ভাবছি সেই রাস্তাই পেরোব ১৭ ঘণ্টায়! যদি করে ফেলা সম্ভব হয় ভারতীয় পর্বতারোহণের জগতে নতুন মাইলফলক যুক্ত হবে।
পরিকল্পনা থেকে একটু পিছিয়ে ভোর ৪টের জায়গায় ৫টায় শুরু করলাম। তখনো আলো পৌছায়নি জঙ্গলে, আগের দিনের বৃষ্টির জল তখনও পাতা বেয়ে পড়ছে। প্রথম স্টেপ ফেলেই বুঝলাম শরীর তখনও ক্লান্ত। আসলে তার আগের সপ্তাহেই সান্দাকফু ইয়াক ফেস্টে পুরো মালপত্র নিয়ে একদিনে উঠেছিলাম উচ্চতার সঙ্গে শরীরকে মানিয়ে নিতে। কিন্তু তার জন্য পেশির যেভাবে ক্ষতি হয়েছে, সেটা তখনো সারিয়ে তুলতে পারিনি। আর এমন দুর্গম রাস্তা এত দ্রুত শেষ করার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত পেশি দরকার! এই অবস্থায় দুটো সুযোগ ছিল, হয় ছেড়ে দেওয়া অথবা যতটা হয় ধীরে-সুস্থে শেষ করা। দ্বিতীয়টাই বেছে নিলাম।

সিকিমের অন্যতম বিখ্যাত জোংরি গোচালা ট্রেকিংরুটের বর্ণনা এর আগে অনেকবার দিয়েছি, আর নতুনভাবে দিচ্ছি না। ক্রমাগত চড়াই-উতরাই পেরিয়ে একাকী ঘন জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে পৌঁছোলাম চার নম্বর ব্রিজে। ফের ওখান থেকে সোজা চড়াই উঠে গিয়েছে দেওরালি টপে। যখন পৌঁছোলাম প্রচণ্ড তুষারপাত শুরু হয়েছে, রাস্তায় বরফ কাদা জমে দৌড়ের জন্য গোটা রাস্তাই আরো দুর্গম হয়ে উঠেছে। স্থানীয় লোকেরা অনেকেই চিনে গিয়েছে আমায় ‘পাহাড়ে দৌড়াতে যাওয়া ছেলে’ বলে। জোংরিতে চৌকিদারের সঙ্গে গল্প করতে করতে এককাপ কফি খেয়ে ম্যাপ ধরে ধরে জোংরিলা পেরিয়ে ফের নেমে পৌছে গেলাম কোকচুরাং-এ। ততক্ষণে অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছে, প্রায় ১টা বেজে গিয়েছে। ঠিক ছিল ২টো থেকে ফেরা শুরু করবো, বেশি রাত হওয়ার আগেই জঙ্গল পেরিয়ে ইউকসাম নেমে আসতে হবে। তাই আরো এগিয়ে পৌছলাম থামসিং-এ।
আর ২ ঘণ্টা হাতে থাকলেই গোচালা ঘুরে চলে আসা সম্ভব হত। তবে তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে পরের বছর অবধি। তখন আমি হয়ে উঠব আরো দ্রুতগামী, শক্তিশালী। ততদিন জোংরি গোচালা রুটের এই নতুন রেকর্ড নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে।