পনেরো বছরের কিশোরী হয়ে উঠল গোয়েন্দা

এই ছবিতে এক কিশোরী পারভেসিভ ডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত

“কিয়া অ্যান্ড কসমস”-কে অনেকের মতো আমরাও একজন “স্পেশাল চাইল্ড”-এর গল্প বলব না। বলব না-টা বেশ জোর দিয়েই। কারণ অটিস্টিক কিশোর/কিশোরীদের আলাদা নামে অভিহিত করাটা রুচিশীল নয়। তারা সমাজের মূল স্রোতেরই অংশ। আমার, আপনার মতো। তাদের একটা আলাদা জগৎ আছে। যেখানে পৃথিবীটা অনেক বেশি শান্ত, যেখানে মানুষে মানুষে ভালোবাসাবাসি আছে, যেখানে সূক্ষ ব্যক্তি সম্পর্কের গভীরতা সমুদ্র-সমান। দৈনন্দিন ব্যস্ত যাত্রায় গা না ভাসিয়ে, তারা পালন করে নিজেদের চাওয়া পাওয়া। বরং, তাদের দেখার চোখ অনেক বিস্তৃত এবং সহজ। বাংলা চলচ্চিত্রে সত্যজিৎ রায় পরিচালিত “সোনার কেল্লা” ছাড়া এই শিশুদের নিয়ে খুব বেশি কাজ দেখা যায়নি। সাম্প্রতিককালে সৌকর্য ঘোষাল “রেনবো জেলি” নির্মাণ করেছিলেন। এই এতগুলি প্রসঙ্গ চলে আসছে কিয়া এবং কসমস-দের জন্য। পরিচালক সুদীপ্ত রায়ের “কিয়া অ্যান্ড কসমস” মুক্তি পাচ্ছে আগামী ২৯ মার্চ।

 

কিশোর বয়সে রহস্য-গোয়েন্দা কাহিনি নিয়ে কমবেশি অনেকেরই আগ্রহ থাকে। গোয়েন্দা উপন্যাস পড়তে পড়তে বাস্তব জীবনেও অনেক কিশোর-কিশোরী রহস্যের গন্ধ পেতে শুরু করেন। ধীরেধীরে জট খোলে সেখানেই। এবার হঠাৎ কেউ মনে করেন, তিনিই সেই গোয়েন্দা। তারপর কল্পনা আর বাস্তবে ঘটতে থাকা ঘটনাদের নিয়ে বেরিয়ে পড়েন একটা লম্বা সফরে। ১৫ বছর বয়সী কিয়ার ক্ষেত্রে তেমনটাই ঘটে। পাশের বাড়ির বিড়াল ‘কসমস’-এর মৃত্যুর খবরে সে রহস্যের গন্ধ পায়। শুরু হয় কসমসের খুনের তদন্ত। কিয়া পারভেসিভ ডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত। যে কারণে তার বয়স ১৫ হলেও মানসিক বিকাশ বয়সের তুলনায় কম। নিজের মতো করেই কসমসের মৃত্যুর তদন্ত শুরু করে। এসব চিন্তাভাবনার সবটা কিয়া আর ব্যক্তিগত ডায়েরিতে গোয়েন্দা উপন্যাসের আকারে লিখতে শুরু করে। মেয়ের কাণ্ডকারখানা জানতে পেরে ডায়েরি লুকিয়ে রাখে কিয়ার মা দিয়া। কিয়া ক্লাস সিক্সে পড়ে। কিয়ার বাবা তাকে এবং তার মাকে ছেড়ে বছর তিনেক আগে চলে গেছে কালিম্পঙে। কিয়াকে সেকথা জানতে দেয় না তার মা। সে জানে তার বাবা মারা গেছে। হঠাৎ করেই কিয়া জানতে পারে, তার বাবা বেঁচে আছে। বাবার খোঁজে এবার কিয়া রওনা হয় কালিম্পঙের উদ্দেশে। এসবের মাঝেই কিয়া’র জীবনে ঘটে চলে নানান ঘটনা। তার বন্ধু রবি। পেশায় রিক্সাচালক। রবি প্রতিটা মুহূর্তে কিয়া’র পাশে থাকতে চায়। কিয়া এই বন্ধুত্বের সমীকরণ জানে। তাই যেকোনো আনন্দ বা দুঃখের সমস্ত কথা রবিকে উজাড় করে বলতে চায়। ছবির গল্পে নানারকম গ্রাফ আছে। 

 

এই ছবিতে কিয়া’র মায়ের চরিত্রে দেখা যাবে স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়কে। কিয়া’র ভূমিকায় নবাগতা ঋত্বিকা পাল। কিয়া’র বাবার চরিত্রে জয় সেনগুপ্ত। এছাড়াও অভিনয় করেছেন শ্রমণ চট্টোপাধ্যায়, জাহিদ হোসেন। পরিচালক সুদীপ্ত রায়ের এটিই প্রথম ছবি। ইতিমধ্যেই “কিয়া অ্যান্ড কসমস” কান, গ্লাসগো, বার্সেলোনা মিলানের চলচ্চিত্র উৎসবে বহুলভাবে প্রশংসিত হয়েছিল। আগামী ২৯ মার্চ পশ্চিমবঙ্গে মুক্তি পাচ্ছে এই ছবি। প্রযোজনায় পবন কানোড়িয়া ও প্রাচী কানোড়িয়া। একটা লম্বা সফরে কিয়া আর কসমস সম্পর্কের মিষ্টত্ব কোথায়? আর কয়েকদিনের অপেক্ষা। কিয়া আর কসমস আপনাকে আপন করবেই। দেখে নেবেন।

 

Developed by DXDasia