আজকের দিনেই ১১১ বছর আগে তিনি শহিদ হয়েছিলেন
অরবিন্দ ঘোষ এবং ভগিনী নিবেদিতা মেদিনীপুরের বিভিন্ন জায়গায় বক্তৃতা দিয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামে যুবসমাজকে অনুপ্রাণিত করতেন, বিপ্লবীদের সঙ্গে গোপনে বৈঠক এবং আলোচনা চালাতেন। সেইসব আলোচনায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিতেন কিশোর ক্ষুদিরাম বসু। ১৫ বছর বয়সেই ক্ষুদিরাম অনুশীলন সমিতির সদস্য হয়ে ওঠেন। আজকের দিনেই ১১১ বছর আগে তিনি শহিদ হয়েছিলেন।
১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন শুরু হলে তা স্কুল কলেজের পড়ুয়াদেরও প্রভাবিত কয়েছিল। ক্ষুদিরাম স্কুলে যাওয়া ছেড়ে সত্যেন্দ্রনাথ বসুর নেতৃত্বে এক গুপ্ত সমিতিতে যোগদান করেন। পিস্তল চালানো শেখেন। ইংল্যান্ড থেকে আসা কাপড় পোড়ানো এবং ইংল্যান্ড থেকে আসা নুন ভর্তি নৌকো ডুবিয়ে দেওয়ার কাজেও তিনি অংশ নিয়েছিলেন। ১৯০৬ সালের মার্চে মেদিনীপুরের এক মেলায় রাজনৈতিক ইস্তেহার বণ্টন করার সময়ে ক্ষুদিরাম পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। কিন্তু পালিয়ে যান। পুলিশ তাঁকে ধরে রাখতে পারেনি। পরের মাসে আবার ধরা পড়েন তিনি অন্য একটি কাজের জন্য। তবে অল্প বয়স হওয়ায় আদালত তাঁকে মুক্তি দেয়। তবে অল্প বয়স হওয়ায় আদালত তাঁকে মুক্তি দেয়। এর পরেও একাধিকবার পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিলেন।
আলিপুর প্রেসিডেন্সি বিচারালয়ের মুখ্য হাকিম ডগলাস কিংসফোর্ডকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় যুগান্তর বিপ্লবী দল। ক্ষুদিরাম বসু এবং প্রফুল্ল চাকী এই কাজের দায়িত্ব নিলেন। এদিকে কিংসফোর্ড তখন বদলি হয়ে চলে গেছেন মুজফফরপুর। সেখানে কিংসফোর্ডকে হত্যা করে গিয়ে এই দুই বিপ্লবী ভুল করে এক ইউরোপীয় মহিলাও তার মেয়েকে মেরে ফেলেছিলেন। এই ঘটনার পর দু’জনকে পুলিশ খুঁজতে থাকে। পুলিশের হাতে ধরা পড়েন ক্ষুদিরাম। প্রফুল্ল চাকী আত্মহত্যা করেন। ১৯০৮ সালের ১১ আগস্ট ক্ষুদিরামের ফাঁসি হয়।