বাংলার খিচুড়িতে মিশে আছে বৃষ্টিদিনের রোমান্টিসিজম

বাংলার খিচুড়ি বিশ্বের সবথেকে সুস্বাদু খাবারগুলোর মধ্যে অন্যতম

বাংলার দোরগোড়ায় বর্ষা এসে হাজির। এই মরশুমে ভোজনরসিক বাঙালির পাতে খিচুড়ি যেন অমৃত। এমন এক খাবার, যা একই সঙ্গে রসনাকে তৃপ্ত করে, আবার প্রাণেও নিয়ে আসে প্রশান্তি। বাংলার খিচুড়ি বিশ্বের সবথেকে সুস্বাদু খাবারগুলোর মধ্যে অন্যতম। ২০১৭ সালে ভারতের জাতীয় খাদ্যের মর্যাদা পেয়েছিল এটি, অন্যান্য রাজ্যের আলাদা আলাদা ধরনের খিচুড়ির সঙ্গে মিলিতভাবে। তবে ভারতব্যাপী প্রচলিত ‘খিচড়ি’-র থেকে বাংলার ‘খিচুড়ি’ একটু হলেও অন্যরকম। অনেক আদর এবং ভালোবাসা মিশে থাকে আমাদের এই খাবারে। যখন কালো মেঘ বয়ে আনে কালিদাসের স্মৃতি, জানলার শার্সি বেয়ে অবিরাম নামতে থাকে জলের ধারা, বৃষ্টির ঝংকারে বেজে ওঠে সুর, মনে তখন খিচুড়ি খাওয়ার সাধ জাগবে না, এমন বাঙালি প্রায় বিরল। 

অনেক আদর এবং ভালোবাসা মিশে থাকে বাঙলার খিচুড়িতে 

বর্ষা, বাঙালি আর খিচুড়ি যেন এক সুতোয় বাঁধা। বৃষ্টিদিনের রোমান্টিসিজম জড়িয়ে থাকে এই খাবারে। এমনকি, কলকাতার পাঁচতারা হোটেলগুলোতেও বর্ষাকালে আয়োজিত হয়ে থাকে খিচুড়ি উৎসব। গরম গরম সোনামুগ ডালের খিচুড়ি, খানিকটা সুগন্ধি ঘি, সঙ্গে বেগুনি আর পেঁয়াজি – একেবারে স্বর্গীয় সমাহার। নিজের পরিবারের জন্য তো বটেই, অতিথিকেও সহজে তৃপ্ত করতে পারে এটি। 

এমন লা-জবাব খাবার কীভাবে রান্না করা হয়, চলুন দেখে নেওয়া যাক – 
 

উপকরণ
১ কাপ সোনামুগ ডাল
অর্ধেক কাপ চাল, ধুয়ে অন্তত ২০ মিনিট গরম জলে ভিজিয়ে রাখতে হবে
১ চা চামচ হলুদ গুড়ো
১ চা চামচ তেল
এক-চতুর্থাংশ কাপ হিং
১ টেবিল চামচ করে আদা, রসুন এবং কাঁচা লঙ্কা বাটা
১ চা চামচ সর্ষে গুড়ো
১ চা চামচ লাল লঙ্কা গুড়ো
১ চা চামচ ধনে গুড়ো
৩ টেবিল চামচ ঘি
১ চা চামচ জিরে গুড়ো
৩টি লাল শুকনো লঙ্কা
প্রয়োজন অনুযায়ী নুন, চিনি
পরিমাণ মতো জল
 
প্রণালী
চাল এবং ডাল মিশিয়ে প্রেসার কুকারে বসান।
অন্য একটি প্যানে তেল গরম করুন। তাতে সর্ষের দানা, হিং এবং লঙ্কা যোগ করুন।
ভালো করে নাড়ানোর পর এগুলো স্বচ্ছ হয়ে এলে আদা-রসুনের মিশ্রণ ঢালুন, ৩০-৪০ সেকেন্ডের মতো নাড়াচাড়া করুন।
তার মধ্যে সেদ্ধ হয়ে যাওয়া চাল-ডাল এবং নুন-চিনি-হলুদ ঢেলে নাড়তে থাকুন, যতক্ষণ না বুদ্বুদ ওঠে।
আরেকটি পাত্রে ঘিয়ের সঙ্গে জিরে গুড়ো এবং শুকনো লঙ্কা মেশান।
নামানোর আগে খিচুড়ির ওপর এই মিশ্রণ ঢেলে দিন।
তারপর গরম গরম পরিবেশন করুন।
Developed by DXDasia