বিষমুক্ত দেশি ধানের চাষ ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী ঝাড়গ্রাম কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র

শ্চিমবঙ্গের অধিকাংশ জায়গা কৃষির উপর নির্ভরশীল। ধান চাষ তার মধ্যে অন্যতম। চাষিদের উচ্চ ফলনশীল ধান চাষের উপর ঝোঁক বাড়ায়, বর্তমানে দেশি ধানের ফলন অপেক্ষাকৃত কমে গেছে। একসময় ক্ষতিকর কোনো রাসায়নিক সার-কীটনাশক ছাড়াই বেশ ভালো ফলন হতো নানারকম দেশি ধানের। ঝাড়গ্রামের নদী তীরবর্তী ও সমতল এলাকার দোঁআশ মাটিতে নানা জাতের দেশীয় ধান চাষ হত। তার মধ্যে অনেক ধানই হারিয়ে গেছে। তাই এবার ভূতমুড়ি, কলমকাঠি, বাঘফুল, হরিণ পাঁজরের মতো বিলুপ্তপ্রায় দেশি ধান পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নিচ্ছে ঝাড়গ্রাম কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে, জিআই ট্যাগ পাওয়া রাঁধুনি পাগল ধান চাষের প্রসারে পরিকল্পনাও শুরু হয়েছে।

বর্তমানে দেশীয় প্রজাতির ধানের চাহিদা আবার বাড়ছে। বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। ঝাড়গ্রাম কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের উদ্যোগে হারিয়ে যাওয়া জেলার নানা প্রজাতির দেশি ধান পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ শুরু হয়েছে।

অন্যান্য জেলার তুলনায় ঝাড়গ্রামের ভূপ্রকৃতি বৈচিত্র্যময়। পাহাড়, সমতল ও নদী তীরবর্তী এলাকায় যেসব দেশি জাতের ধান চাষ হতো তার তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। চাষিদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলা হচ্ছে। বর্তমানে দেশীয় প্রজাতির ধানের চাহিদা আবার বাড়ছে। বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। ঝাড়গ্রাম কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের উদ্যোগে হারিয়ে যাওয়া জেলার নানা প্রজাতির দেশি ধান পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ শুরু হয়েছে। জানা যাচ্ছে, জিআই ট্যাগ মেলার পর নয়াগ্ৰাম, বিনপুর-১, গোপীবল্লভপুর-১ ও ঝাড়গ্রামের কিছু অংশে রাঁধুনি পাগল ধান চাষের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। চাষিদের এই ধানের বীজ সরবরাহ করা হবে। ধানের উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ ও বিপণন নিয়েও সচেতন করা হবে। সার্বিক এই উদ্যোগ জেলার চাষবাসের ছবি বদলে দেবে বলেই আশা করছেন কৃষি-অধিকর্তারা।

প্রাকৃতিক দূষণ গত কারণ থাকলেও একটা সময়ের পর থেকে প্রচুর সার, বিষ ব্যবহার করার ফলে মাটি ও মানুষের স্বাস্থ্যহানির আশঙ্কা দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিমাত্রায় রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহারের ফলে বিভিন্ন কৃষিজ ও প্রাণিজ খাদ্যের মাধ্যমে কীটনাশক মানবদেহে প্রবেশের কারণে মানুষের হার্ট, কিডনি, লিভার, স্নায়ু, ত্বক আক্রান্ত হচ্ছে। কীটনাশক ব্যবহারের পর পরিবেশে তা ছেড়ে দেওয়া হয়, ফলে অরক্ষিত কৃষি ও শিল্প শ্রমিকদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। শিশুরা প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় কীটনাশকের বিষাক্ত প্রভাবের জন্য বেশি সংবেদনশীল। তবে, এখন পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে এই বিষয়ে সচেতনতা ক্রমশ বাড়ছে, আর সে কারণেই চাষিরা উৎসাহ পাচ্ছেন জৈব চাষ পদ্ধতিতে, বাংলার দেশজ ধান সংরক্ষণে বিভিন্ন সময়ে নানান উদ্যোগ গ্রহণ করছে জেলার কৃষি বিভাগ।

________________
ছবি ঋণ: ঝাড়গ্রাম কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র

Written by