পাইপ কী, কোথা থেকেই বা এল, কেনই বা তা ধূমপায়ীদের প্রিয় : জানাচ্ছেন পাইপ সংগ্রাহক ধ্রুবন সরকার

ভারতে অতটা না হলেও সারা বিশ্বে ছড়িয়ে আছে পাইপপ্রীতি

প্রবাদ আছে, বুদ্ধির গোড়ায় ধোঁয়া দেওয়া না হলে অনেকক্ষেত্রেই মাথা কাজ করে না। সেই ধোঁয়া মূলত সাদা কাঠি থেকেই এসে থাকে, কিন্তু যারা যত্নবান, যারা শৌখিন, তাদের কাছে ধোঁয়া দেওয়ার আর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান পাইপ। বঙ্গদর্শন.কম-এ আজ সেই পাইপ নিয়েই কথা, যার মূলকেন্দ্রে রয়েছেন হুগলি জেলার শ্রীরামপুরের বাসিন্দা ধ্রুবন সরকার। দেশ-বিদেশের নানান পাইপ সংগ্রহ তাঁর শখ। শুধু সংগ্রহ না, ধূমপান ও পাইপের নাড়িনক্ষত্রের খবর তাঁর ঠোটস্ত। এই মুহূর্তে বই ও গিফট গ্যালারির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। পাইপের সংগ্রহ বহুদিনের। ফ্রান্স, ইতালি, আয়ারল্যান্ড, আমেরিকা, মায়ানমার, আফ্রিকা, তুরস্ক, চিন, জাপান-সহ বহু দেশের প্রায় আট শতাধিক পাইপের সংগ্রহ আছে ধ্রুবনের। বঙ্গদর্শন.কম-এর মুখোমুখি পাইপ সংগ্রাহক ধ্রুবন সরকার।

ধ্রুবন সরকার

প্রশ্ন: হঠাৎ পাইপ সংগ্রহের কথা ভাবলেন কীভাবে?

ধ্রুবন: ছোটোবেলায় গোয়েন্দা গল্পের চরিত্ররা খুব আকর্ষণ করত, মনে হত পাইপ না খেলে শার্লক হোমস হওয়া যায় না। একটা সময়ের পর ব্রেখট পড়ে ফেললাম। ব্রেখট খুবই আকর্ষণ করতো আমায়। এসব থেকেই নিজের অজান্তে কখন যেন পাইপকে ভালোবেসে ফেলি। লেখালিখির সূত্রে পরিচয় হয় সুমন ভট্টাচার্যের সঙ্গে। এখন তিনি কৃষ্ণনগর উইমেনন্স কলেজে পড়ান। সুমনদার অজস্র পাইপের নেশা ছিল। সুমনদা না থাকলে কখনোই হয়তো এত কাছ থেকে পাইপকে ভালোবাসা হত না। পরবর্তীকালে পাইপ নিয়ে, বিশেষ করে তার গঠনের ইতিবৃত্ত আর নানা ধরনধারণ, তৈরির বিবিধ উপাদান, বিভিন্ন পাইপের নামকরণের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ইতিহাস, বিশেষ কোনো অঞ্চলের সাংস্কৃতিক প্রেক্ষিত, এই সবকিছুই খুব আকর্ষণ করে আমায়। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে পাইপ সংগ্রহের সূত্রপাত।

প্রশ্ন: ভারতীয় সংস্কৃতিতে পাইপ আছে, আবার নেইও, সেক্ষেত্রে ধূমপায়ীদের কাছে পাইপ কতটা গ্রহণীয়? 

ধ্রুবন: ভারতীয় সংস্কৃতিতে যে পাইপ বেশ অনেকটা জায়গা অধিকার করে রয়েছে এমনটা নয়। অবনীন্দ্রনাথের বিভিন্ন লেখায় যখন তামাকের বর্ণনা পাচ্ছি তখন সেখানে কোথাও পাইপ আছে কিনা খুঁজে দেখার চেষ্টা করতাম। অবনীন্দ্রনাথের বাবা গুণেন্দ্রনাথের হুঁকো বরদার ছিলেন বিশ্বেশ্বর। খুব ভোরে উঠে হাত-মুখ ধুয়ে গুণেন্দ্রনাথ যখন রামায়ণ পড়তে বসতেন তখন বিশ্বেশ্বর তামাক সেজে ‘ফরসী সাজিয়ে নিয়ে উপস্থিত করত’। এই বিশ্বেশ্বরই অবনঠাকুরের তামাক সেবন বা ধূম্রপানের গুরু। ‘জোড়াসাঁকোর ধারে’ বইতে এসবের উল্লেখ আছে। জোড়াসাঁকোর বাড়ির বর্ণনা দিতে গিয়ে লিখেছেন, “উত্তরের একটা বারান্দা… সেখানে আহারের পর আরামে বসে তামাক খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে…।” এছাড়া আরও অনেক জায়গায় অবন ঠাকুর তামাক খাওয়ার উল্লেখ করেছেন, পাইপের উল্লেখ চোখে পড়েনি একটিমাত্র জায়গা ছাড়া।

নীহাররঞ্জন গুপ্তের কিরীটী রায় পাইপে ধূমপান করতেন বটে, তবে তেমন ইম্প্রেসিভ মনে হয়নি। আরও কয়েকটি গোয়েন্দা গল্পে পাইপের উল্লেখও শার্লক হোমস-এর মতো আচ্ছন্ন করেনি আমায়। কেমন যেন আরোপিত মনে হয়েছে।

জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ির সে আমলের কর্তা ডাকসাইটের দুঁদে জমিদার দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের জ্যেষ্ঠ পুত্র দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর তখন বাবার সঙ্গে পার্ক স্ট্রিটের ভাড়া বাড়িতে বাস করছেন। তাঁর ছিল পাইপে তামাক ফোঁকার অভ্যেস। দেবেন্দ্রনাথের ঘরটি ছিল ওপরে দোতলায় আর তার নিচের তলার একটি ঘরে থাকতেন দ্বিজেন্দ্রনাথ। একদিন দুপুরবেলা তিনি পাইপ ধরিয়ে আরাম করছেন, এমন সময় ওপরের ঘরে শুয়ে থাকা দেবেন্দ্রনাথ চাকরকে ডেকে পাঠালেন। ডেকে তিনি বললেন, গাঁজা খাচ্ছে কে? চাকররা তো ছোটাছুটি করতে লাগল বাড়িময় খোঁজ খোঁজ, শেষে দেখা যায় দ্বিজেন্দ্রনাথের ঘর থেকে গন্ধ বেরোচ্ছে। এসব শুনে দ্বিজেন্দ্রনাথ জানলা দিয়ে পাইপ তামাক সব ছুঁড়ে বাইরে ফেলে দিলেন। দেবেন্দ্রনাথ যখন খবর পেলেন, বললেন দ্বিজেন্দ্র তামাক খাবেন, তো খান না, তবে পাইপ টাইপ কেন। ভালো তামাক আনিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা হোক।

নীহাররঞ্জন গুপ্তের কিরীটী রায় পাইপে ধূমপান করতেন বটে, তবে তেমন ইম্প্রেসিভ মনে হয়নি। আরও কয়েকটি গোয়েন্দা গল্পে পাইপের উল্লেখও শার্লক হোমস-এর মতো আচ্ছন্ন করেনি আমায়। কেমন যেন আরোপিত মনে হয়েছে। ‘কলিকাতা শহরের ইতিবৃত্ত’ গ্রন্থে বিনয় ঘোষ লিখেছেন ১৭৭৫-এ কলকাতা শহরে আসার পর হুঁকোর সঙ্গে প্রথম পরিচিত হন উইলিয়াম হিকি। কিন্তু এরপর যখন বিভিন্ন লেখায় পাইপ সংক্রান্ত অনুসন্ধান করি তখন হতাশ-ই হয়েছি। বঙ্কিমচন্দ্র, পরশুরাম, প্রমথনাথ বিশী, বিমল মিত্র এরকম আরও অনেকের লেখায় তামাকের উল্লেখ থাকলেও পাইপের কোনো নিদর্শন আমার চোখে পড়েনি।

নিশ্চিতভাবেই ধূমপানের বহু আগে মানুষ আগুন জ্বালাতে শিখেছে। কিন্ত ধূমপায়ীদের মধ্যে এক অদ্ভুত মিথ আজও প্রচলিত আছে। তারা বলে ‘আগুনের জন্মই ধূমপানের জন্য’। সভ্য দেশগুলি তাদের পৃথিবী অন্বেষণের কারণে সামুদ্রিক অভিযান শুরু করার অনেক আগে থেকেই মেক্সিকো এবং মধ্য আমেরিকার আদিম সংস্কৃতির মধ্যে পাইপীয় ধূমপানের প্রচলন ছিল।

তাই পাইপীয় ধূমপানে যারা অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিলেন তারা কেউই ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে নিজেকে মিলিয়ে বা মিশিয়ে তামাকু সেবন করেছেন বলে মনে হয় না। নিজেদের মতো করে নিজের জীবনদর্শন বা বিলাসিতাকে নির্মাণ করেছেন বলেই আমি মনে করি। তবে হ্যাঁ, বিভিন্ন বাঙালির পৃথক পৃথক পাইপের নেশা ছিল। বিবেকানন্দের একটি দুর্দান্ত ছোটো Gourd Cabash Pipe ছিল, যা এখনও রক্ষিত আছে বেলুড় মঠ মিউজিয়ামে। পরবর্তীকালে সত্যজিৎ, মুজিবুর রহমান, এন বিশ্বনাথন প্রমুখকে বেশ অনেকবারই পাইপের সং করতে দেখা গেছে।

প্রশ্ন: পাইপের এবং ধূমপানের ইতিহাস ঠিক কেমন ছিল? পৃথিবীর নিরিখে এর ব্যাপকতা কতটা?

ধ্রুবন: পাইপে ধূমপানের সূচনা ঠিক কবে তা সঠিকভাবে নির্ণিত করা সম্ভব হয়নি। প্রথম পাইপ ব্যবহারকারী আসলে কে ছিলেন তাও অজানাই থেকে গেছে। তবে এ বিষয়ে উদ্ধার হওয়া প্রাচীনতম নথিটি হল একজন মায়ান পুরোহিতের ভাস্কর্য, যা প্রত্নতাত্ত্বিকরা মেক্সিকোর চিয়াপাসের (Chiapas, Mexico) একটি মন্দিরে আবিষ্কার করেছিলেন। পুরোহিতের মূর্তিটি সমৃদ্ধ আনুষ্ঠানিক পোশাক পরিহিত, একটি নলে ফুঁ দিচ্ছেন, যা ধোঁয়াটে আগাছা দিয়ে ভরা। মূর্তিটি প্রায় একশো খ্রিস্টাব্দের আশেপাশে খোদাই করে তৈরি করা হয়েছিল বলে অনুমান করা যায়। যেসব প্রত্নতথ্য আবিষ্কৃত হয়েছে তা থেকে মনে করা হয়, রোমান সাম্রাজ্যের অনেক আগেও বিশেষ ধরনের ধূমপানরীতি প্রচলিত ছিল।

হয়তো কোনওভাবে অন্ধকার জঙ্গলে, হয়তো আবহাওয়ার প্রতিকূলতা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য অপ্রচলিত কিছু উদ্ভিদের পাতা জড়ো করে আগুন লাগিয়ে তাকে ফুঁ দিয়ে ধিকি ধিকি জ্বালিয়ে রাখার প্রয়োজনে কোনো প্রাণীর ফাঁপা হাড় থেকে একটি পাইপের মতো যন্ত্র তৈরি করে ফুঁ (blow) দেওয়ার সময় কোনোভাবে হাওয়া টেনে নেওয়ায় (Draw) প্রথম ধূম্রপানের রসাস্বাদন ঘটেছিল এবং প্রচলন হয়েছিল পাইপীয় ধূমপানের। তবে এসবই অনুমান।

নিশ্চিতভাবেই ধূমপানের বহু আগে মানুষ আগুন জ্বালাতে শিখেছে। কিন্ত ধূমপায়ীদের মধ্যে এক অদ্ভুত মিথ আজও প্রচলিত আছে। তারা বলে ‘আগুনের জন্মই ধূমপানের জন্য’। সভ্য দেশগুলি তাদের পৃথিবী অন্বেষণের কারণে সামুদ্রিক অভিযান শুরু করার অনেক আগে থেকেই মেক্সিকো এবং মধ্য আমেরিকার আদিম সংস্কৃতির মধ্যে পাইপীয় ধূমপানের প্রচলন ছিল। মায়ান, টলটেক এবং অ্যাজটেক জাতিগুলি ঔষধি এবং ধর্মীয় উভয় উদ্দেশ্যেই ধূমপান করত। আফ্রিকা এবং উত্তর আমেরিকার উপজাতিরা তাদের বিভিন্ন সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রতীকী উপাদান হিসেবে তামাক সেবনে অভ্যস্ত ছিল। এক ধরনের মাটি জাতীয় উপাদান দিয়ে তৈরি হত আধার এবং তার সঙ্গে যুক্ত করা হত নলখাগড়া প্রজাতির তৃণ, যার ফাঁপা কাণ্ড নল হিসেবে ব্যবহৃত হত।

১৪৯২ সালকে কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের বছর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে ১৪৯২ সালটি ইউরোপীয়দের তামাক আবিষ্কারের বছরও বটে। সঠিক তারিখটি ছিল মঙ্গলবার, ৬ নভেম্বর, সান সালভাদর দ্বীপের বাহামায়। ওই দিন ক্রিস্টোফার কলম্বাসের দুই সহযাত্রী লুইস দে তোরেস এবং রডরিগো দে জেরেথের নতুন দ্বীপটি অন্বেষণ করতে গিয়ে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে জাদুকরী তামাক পাতা পোড়ানোয় ব্যস্ত স্থানীয় একটি উপজাতির সঙ্গে দেখা হয়ে যায় এবং প্রথম ধূমপানের স্বাদ আস্বাদন করেন তারা। এর আগেই অবশ্য ১৫ অক্টোবর ১৪৯২, কলম্বাসের জাহাজ বন্দরে ভিড়লে তাঁর সঙ্গে যখন স্থানীয় মানুষজন দেখা করতে আসেন, তাঁরা উপহার স্বরূপ সযত্নে সঙ্গে এনেছিলেন সেই আশ্চর্য শুষ্ক পত্রগুচ্ছ। তবে ঐতিহাসিক নথি অনুসারে লুইস দে তোরেস এবং রডরিগো দে জেরেথ প্রথম ইউরোপীয় তামাক সেবনকারীর মর্যাদা পেয়েছেন। যদিও সেই সময়ে কেউ এই ঘটনাকে খুব বেশি গুরুত্ব দেয়নি। যে কারণে প্রতি ১২ অক্টোবর (কারণ ওই দিনই  প্রথম বাহামা দ্বীপপুঞ্জের একটি ভূমি জাহাজ থেকে দেখতে পাওয়া গিয়েছিল) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাইপ তামাক দিবস-এর পরিবর্তে কলম্বাস দিবস উদযাপন করে। তবে হ্যাঁ, একটা কথা বলতেই হয়ে, প্রথম পাইপের মতো যন্ত্রে ধূম্রপান করার কৃতিত্ব অবশ্যই মেক্সিকো এবং মধ্য আমেরিকার মায়ানদেরই প্রাপ্য।

শট বোঝাচ্ছেন সত্যজিৎ রায়, সঙ্গী তখনও পাইপ

ধীরে ধীরে সাংস্কৃতিক সমন্বয়ের হাত ধরে তামাক সেবন ছড়িয়ে পড়ল দক্ষিণ আমেরিকা থেকে উত্তর আমেরিকা, ইউরোপেও। প্রথমে ধারণা ছিল এটি একটি আশ্চর্য ঔষধি। যাঁর নামে ‘নিকোটিয়ানা টোবাকাম্’এর নামকরণ সেই জাঁ নিকোত্ ছিলেন ফরাসি রাষ্ট্রদূত। যখন নিকোত্ ফ্রান্সে তামাক আর ধূম্রপানের অভ্যাসকে ঔষধিরূপে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন সেটা ষোড়শ শতকের মধ্যভাগ। জাঁ নিকোত্’এর পর চিকিৎসক নিকোলাস মোনার্দে তামাক পাতাকে ‘Holy Herb’ বলে উল্লেখ এবং প্রচার করেছিলেন। ১৫৩০’এ গিরোলামো ফ্রাকাসতারো, যিনি ‘সিফিলিস’ নামটির আবিষ্কারক, তিনি এই মতে বিশ্বাসী ছিলেন যে তামাক সেবনে সিফিলিস প্রতিহত হয়। ক্রমশ এর ব্যবহারে সমাজ আকৃষ্ট হল এবং নারী পুরুষ নির্বিশেষে তামাকসেবন সামাজিক রীতি হয়ে উঠল। বিভিন্ন সংস্কৃতির অঙ্গ হিসেবে সাধারণ মানুষ তা গ্রহণ করে। 

আরও একটি বিষয় উল্লেখ করি, ১৫৮৬’তে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী টমাস হ্যারিয়ট, র্যালফ লেন’এর উত্তর আমেরিকা অভিযানের সঙ্গী ছিলেন এবং তামাক পাতার নানান ব্যবহারে তিনি অভ্যস্ত ছিলেন। নাসারন্ধ্রে কর্কট রোগের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়। ইতিহাস বলছে এই হ্যারিয়টই ধূমপানজনিত কারণে প্রথম শহিদ। কিন্ত ততদিনে স্পেন, পর্তুগাল, ফ্রান্সের অভিজাত সম্প্রদায়ের ভেতর ছড়িয়ে পড়েছে তামাকপ্রীতি।

ইওরোপে পাইপের প্রথম প্রচলন ঘটান স্যার ওয়াল্টার র্যালে। একদিন র্যালে যখন তাঁর ঘরে পাইপ ফুঁকছেন এবং অনর্গল ধোঁয়া নির্গত হচ্ছে মুখ থেকে তখন তাঁর কাজের লোকটি ভেবে বসল বাবুর ওপর শয়তানের ভর হয়েছে এবং নিশ্চয়ই তার বাবুর পেটে আগুন লেগেছে। এই মনে করে সে পেছন দিক থেকে স্যার র্যালের মাথায় ঢেলে দিল এক বালতি বীয়ার। স্যার ওয়াল্টার র্যালের পাইপপ্রীতি এতই গভীর ছিল যে ১৬১৮-তে যখন মুণ্ডচ্ছেদ হবে, সেই হননমঞ্চেও তাঁর সঙ্গী ছিল পাইপ।

পাইপ হাতে বঙ্গবন্ধু

তামাকের যেমন ভেদ আছে, আছে পাইপ তৈরির উপকরণের বিভিন্নতা। ভারতে অতটা না হলেও সারা বিশ্বে ছড়িয়ে আছে পাইপপ্রীতি। ধ্রুবনবাবুর সঙ্গে কথা বলে সেই ইতিহাসের একটি ছোটো কিন্তু সার্বিক রূপরেখার পরিচয় পাওয়া গেল। তবে শেষে একটা কথাই বলার থেকে যায়, তামাক স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর, এতে কর্কটরোগের ঝুঁকি থেকে যায়। পাইপের শিল্পরস গ্রহণ করুন, ইতিহাসে মজে থাকুন, তবে পাইপে ধূমপান থেকে বিরত থাকাই ভালো।

_____________ 
ছবি: ধ্রুবন সরকারের ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে নেওয়া

 

Developed by DXDasia