‘সহজ পাঠের গপ্পো’ ছবির অভিনেত্রী স্নেহা বিশ্বাসের সাক্ষাৎকার…
মেদিনীপুরে বাস এই অভিনেত্রীর। তাঁর প্রথম জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত ছবি ‘সহজ পাঠের গপ্পো’। আর প্রথম ছবিতেই শক্তিশালী অভিনয়ে নজর কেড়েছিলেন দর্শক, সমালোচক থেকে গোটা টলি পাড়ার। বাংলা সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করছেন এই মুহূর্তে। পাশাপাশি সমানতালে চলছে অভিনয়ের কাজ। বঙ্গদর্শনে অভিনেত্রী স্নেহা বিশ্বাসের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন সুমন সাধু।
• গোপাল, ছোটুর মা এখন কেমন আছেন?
এককথায় বলতে গেলে আগের তুলনায় অনেক ভালো আছে। আর শারীরিক দিক থেকে বলতে গেলে বলব, একটু অসুস্থ। এই শীতকালে যা হয় আর কি!
• আপনি তো মেদিনীপুরে থাকেন। অভিনয়ের ইচ্ছাটা কবে থেকে জন্মালো?
মেদিনীপুরে আমি দিদির বাড়ি থেকে পড়াশোনা করি। ক্লাস এইট নাইন থেকে। সেইসময় এক দাদার কাছ থেকে জানতে পারি মেদিনীপুরেই অভিনয় শেখানো হয়। তবে আমার খুব ইচ্ছা ছিল নাচ শেখার। কিন্তু আমি যেখানে থাকতাম, ওরা অ্যালাও করেনি। আর্থিক অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল তখন, বাবার পক্ষে চালানো সম্ভব ছিল না। তখন নিজে টিউশন পড়িয়েছি। ওই কোর্সটা ছয় মাসের মতো চালিয়ে যেতে পেরেছিলাম। সেখান থেকেই আমাকে পাঠানো হলে ফার্স্ট সিলেকশনে আসি। শুরুটা এইভাবেই হয়।

• ‘সহজ পাঠের গপ্পো’ ছবি মুক্তি পাবার পর প্রায় দেড় বছর কেটে গেছে। আপনার জীবনে কিছু পরিবর্তন এল?
হ্যাঁ কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। কিছুটা পরিচিতিলাভ করেছি। আর অনেক মানুষের ভালোবাসা, আশীর্বাদ রয়েছে আমার মাথার উপরে। যারা আমাকে চিনতেন না, তাঁরাও আমার পরবর্তী কাজের জন্য অপেক্ষা করে থাকেন।
• আপনি তো বাংলা সাহিত্যের ছাত্রী। এমন কোনো চরিত্র আছে, যা পড়ে আপনি নিজেকে দেখতে পান? বা ভবিষ্যতে সেই চরিত্রে অভিনয় করতে চান?
সেইরকমভাবে সাহিত্য চর্চা করা হয়ে ওঠেনি। অনেক ভালো ভালো বই পড়েছি বা ভালো ভালো সিনেমা দেখেছি, এরকম সুযোগ এখনও অবধি আসেনি। কিন্তু কেউ যদি বলেন যে, তুই এই চরিত্রটা করতে পারবি কিনা দ্যাখ। তাহলে নিশ্চয় পারব। সেই জায়গায় আমি নিজেকে বসাতে চাই।
• যতদূর জানি, আপনি অর্জুন চক্রবর্তীর ‘জেব্রা ক্রসিং’-এ অভিনয় করেছেন। সেই ছবির কাজ শেষ হল?
ইউটিউবে অলরেডি রিলিজ হয়ে গেছে। ফেস্টিভ্যালের জন্য বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয়েছে। তারপর ইউটিউবে পুরো ছবিটাই দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

• ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে গেলে অনেকে বলেন পিআর করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আপনাকে যদি এটা করতে বলা হয়, কতটা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন?
সত্যি কথা বলতে আমি ইন্ডাস্ট্রির খুব গভীরতা জানি না। খুব সহজ সরল মন নিয়ে সহজভাবেই কাজ শুরু করেছি। শূন্য থেকেই সবটা শুরু হয়েছে। পথ যদি কখনও বেঁকে যায়, তখন দেখা যাবে। আর আমি মনে করি না কাজ করার ক্ষেত্রে পিআর করা খুব জরুরি। আসলে অত জটিলতা আমি বুঝি না।
• আপনি এমন একটা ছবিতে কাজ করেছেন যেটা দেশ বিদেশে সমাদৃত হয়েছে, জাতীয় পুরস্কার পেয়েছে। কিন্তু তারপরেও টলি পাড়ায় স্নেহা বিশ্বাসকে চিনতে মানুষের এত সময় লাগছে কেন?
আমার কাছে এর কোনো উত্তর নেই। ইন্ডাস্ট্রির অধিকাংশ লোকই দেখেছেন ছবিটা। যারা মনে করেছেন তাঁদের কোনো কাজে লাগাতে পারবেন, তাঁরা লাগিয়েছেন।
• এই মুহূর্তে বাংলায় কোন কোন পরিচালকের সঙ্গে আপনি কাজ করতে চান?
কৌশিক গাঙ্গুলি, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। এছাড়াও আগে যাঁদের সঙ্গে কাজ করেছি, তাঁদের সঙ্গেও আবার কাজ করতে চাই। মানসদা যদি আবার ডাকেন, নিশ্চয় যাব।
