গরুর কৃত্রিম প্রজনন ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব
পশ্চিমবঙ্গ গো-সম্পদ বিকাশ সংস্থা আক্ষরিক অর্থেই জেলায় জেলায় গো-সম্পদ বিকাশের কাণ্ডারি হয়ে উঠেছে। প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তরের এই সংস্থা গুরুত্ব দিচ্ছে গরুর কৃত্রিম প্রজনন ব্যবস্থাপনায়। তাতে একদিকে যেমন দুধের চাহিদা মিটছে, অন্যদিকে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও এর প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরে গো-সম্পদ বিকাশের লক্ষ্যে জেলায় জেলায় কাজ করে চলেছে এই সংস্থা। প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী কৃত্রিম প্রজননের নিরিখে, গো-সম্পদ বিকাশে উত্তর দিনাজপুর জেলা রাজ্যের মধ্যে প্রথম সারিতে উঠে এসেছে। সরকারি এই উদ্যোগে উৎসাহী গো-পালকরাও।
২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছিল ‘লিঙ্গ-নির্ধারিত গো-বীজ ব্যবহারে দ্রুততর প্রজাতিগত উন্নয়ন’ প্রকল্প। উদ্দেশ্য কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে বকনা বাছুরের জন্ম ৯০% অবধি সুনিশ্চিত করা। বর্তমানে রাজ্যের ১২টি জেলায় যথাক্রমে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান ও পশ্চিম বর্ধমানে এই প্রকল্প চলছে। ইতিমধ্যেই প্রায় ২৫০০০ গাভী/বকনা বাছুরকে এই প্রকল্পে কৃত্রিম প্রজনন করা সম্ভব হয়েছে এবং ৪৬৪২টি বকনা বাছুরের জন্ম হয়েছে। বকনা বাছুর জন্মের নিরিখে রাজ্যের গড় ৯৩.৪ শতাংশ। বর্তমানে ৪৮৩ জন প্রশিক্ষিত কৃত্রিম প্রজনন কর্মী গো-পালকদের দুয়ারে এই পরিষেবা পৌঁছে দিচ্ছেন। প্রকল্পের সকল তথ্য রাজ্যস্তরে ePBGSBS পোর্টাল ও কেন্দ্রস্তরে ‘ভারত পশুধন’ পোর্টালে নথিভুক্ত করা হয়। পশ্চিমবঙ্গ গো-সম্পদ বিকাশ সংস্থা আগামীদিনে সুনির্দিষ্টভাবে রাজ্যের ২৩ টি জেলাতেই এই প্রকল্পের প্রসার ঘটাতে চলেছে।
দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী কৃত্রিম প্রজননের নিরিখে, গো-সম্পদ বিকাশে এই জেলা রাজ্যের মধ্যে প্রথম সারিতে উঠে এসেছে।
শুধুমাত্র স্বাভাবিক বকনা অথবা ১-৩ বিয়ানের গাভীকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা যাবে। নির্বাচিত গবাদি প্রাণীর বন্ধ্যাত্ব বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা থাকা চলবে না। প্রত্যেক গবাদি প্রাণীকে কানে ট্যাগ পরানো বাধ্যতামূলক। প্রত্যেকটি কৃত্রিম প্রজননের জন্য ২৫০ টাকা ব্যয় করতে হবে। প্রথমবার সফল না হলে দ্বিতীয়বার ২৫০ টাকা দিয়ে কৃত্রিম প্রজনন করতে হবে। দু’বারই ব্যর্থ হলে উপভোক্তা ৫০০ টাকা ফেরৎ পাবেন। তৃতীয়বার এই পদ্ধতিতে আর কৃত্রিম প্রজনন করা হবে না, সাধারণ পদ্ধতিতে কৃত্রিম প্রজনন করতে হবে। যদি দ্বিতীয় কৃত্রিম প্রজনন-এ গাভীন হয় এবং এঁড়ে বাছুর জন্মায়, তবে ২৫০ টাকা ফেরৎ দেওয়া হবে। তবে প্রথম কৃত্রিম প্রজনন-এ এঁড়ে বাছুর জন্মালেও কোনো অর্থ ফেরত দেওয়া হবে না। বর্ণিত বিষয় অনুযায়ী সব গো-পালক এই প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করতে পারেন।
