
সাধু-সন্তদের জায়গা পার্লামেন্ট নয়
সাধু-সন্তদের জায়গা পার্লামেন্ট নয়। রাজনীতিকদের জায়গাও মন্দির-মসজিদে নয়। আমাদের সংবিধান এরকম কথাই বলে। কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলেও, মোটামুটি এই ব্যাপারটা ভারতীয় রাজনীতির চালিকাশক্তি ছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত দিয়ে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল বিজেপি এই পরম্পরাটা ভাঙতে চাইছে। অনেকটা ভেঙেও ফেলেছে। তারই লক্ষ্মণ কর্নাটকের ভোট-প্রচারে প্রধানমন্ত্রীর ‘জয় বজরংবলী’ স্লোগান দেওয়া। তারই আরও বড়ো প্রমাণ, নতুন সংসদ ভবনের উদ্বোধনে সাধু-সন্তদের উপস্থিত করানো, প্রধানমন্ত্রীর সাষ্টাঙ্গ প্রণাম।
সামনের বছর লোকসভা ভোট। তার ঠিক আগে, সামনের বছরের গোড়ায় রাম মন্দির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। সম্ভবত বিজেপি এবং সহযোগী দলগুলি যে ১৫টি রাজ্যে ক্ষমতায় আছে, সেগুলিতে ‘ইউনিফর্ম সিভিল কোড’-ও চালু করে দেওয়া হবে। গত বেশ কয়েকটি বিধানসভা ভোটে বিজেপি এই প্রচার করেছে। এই সব কিছুর সঙ্গে একটু পাকিস্তানের মশলা মিশিয়ে সামনের ভোট লড়তে চায় বিজেপি। তার ব্লুপ্রিন্টটা দেখা যাচ্ছে। দেখা যাচ্ছে এই কারণে যে বিজেপি চায় না এটা গোপন থাকুক।
এটা ঠিক যে লোকসভায় বিজেপির একার হাতেই এখন ৩০০-র বেশি আসন। সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি সমীক্ষাতেও বলা হয়েছে, ২০২৪-এর ভোটে, বিজেপি একা ৩০০ না পেরোলেও, একক গরিষ্ঠতা পাবে। কিন্তু যদি আমরা ছবিটা বিধানসভার মধ্যে দিয়ে দেখি, তাহলে একটা ভিন্ন ছবিও দেখা যায়। সেটা কী রকম? গত পাঁচ বছরের সবকটি বিধানসভা ভোটের ফল ধরে দেখা যাচ্ছে, দেশের মোট ৪,০৫৩ জন বিধায়কের মধ্যে বিজেপির বিধায়ক ১৩১২ জন। তাঁরা প্রতিনিধিত্ব করছে দেশের ৪৮ কোটি ৮০ লক্ষ মানুষের। কংগ্রেসের বিধায়ক সংখ্যা ৭৭০ জন। তারা প্রতিনিধিত্ব করছে ২৪ কোটি ৪০ লক্ষ মানুষের। আর বিজেপি এবং কংগ্রেসের বাইরে যে সব রাজনৈতিক দল আছে, তাদের মোট বিধায়ক সংখ্যা ১,৯৭১ জন, তারা প্রতিনিধিত্ব করছে মোট ৫৫ কোটি ৪০ লক্ষ মানুষের। ছবিটা বিজেপির জন্য খুব সুখকর নয়।
সামনের বছর লোকসভা ভোটের আগে এই বছরের শেষে মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, তেলেঙ্গানা-সহ পাঁচ রাজ্যে ভোট আছে। বিজেপি মূলত হিন্দুত্বের উপর নির্ভর করেই যে এই সব ভোটে লড়বে তার ইঙ্গিত স্পষ্ট। কর্নাটকে প্রধানমন্ত্রীর ঝড়ের মতো সফর এবং তাঁর প্রবল ধর্মীয় স্লোগান বিজেপিকে ক্ষমতায় ফেরাতে পারল না। ফলে এই ধর্ম এবং রাজনীতিকে আগের থেকেও আরও কড়াপাকে বাঁধতে চাইছেন নরেন্দ্র মোদী। তারই প্রমাণ নতুন সংসদ ভবনের ক্যামেরার মাধ্যমে সারা দেশের মানুষকে এই বার্তা দেওয়া যে, দেখুন পূজা আর রাজনীতি কেমন হাত ধরে চলতে পারে আমাদের শাসনে।

তাহলে কর্নাটকে এই হিন্দুত্ব পাচন কাজ করল না কেন? নাকি কাজ করার পরেও এমন কিছু ঘটল যে বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে অনেকটা দূরেই থাকতে হল? ২০১৮-র নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচনে কর্নাটকে বিজেপির ভোট কমেনি। একই আছে। ৩৬ শতাংশ। তার মানে এটাই দাঁড়ায় যে, ‘বিজেপির বোম্মাই সরকার ৪০ শতাংশ কাটমানির সরকার’ এবং বিজেপির ঘৃণার রাজনীতি, যা ছিল ভোটের প্রচারে কংগ্রেসের প্রধান অস্ত্র, তাই দিয়ে বিজেপির ভোট কমানো গেল না। ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতির সমালোচনাতে কমল না বিজেপির ভোট। তাহলে ঠিক কী ঘটল যে কংগ্রেস জয়ী হল? ঘটল এটাই যে, বিজেপির জনসমর্থন অটুট থাকলেও তাকে ভোটে হারাতে কংগ্রেসের বাইরে, বিভিন্ন দলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বহু ভোটার কংগ্রেসের পক্ষে চলে এল। এর ফলে, বিজেপির জনসমর্থন অপরিবর্তিত হওয়া সত্ত্বেও কংগ্রেসের সমর্থনের পাল্লা ভারি হয়ে গেল। কংগ্রেসের ভোট বেড়ে ২০১৮-র ৩৮ শতাংশ থেকে হল ৪৩ শতাংশ। শক্তি অটুট রেখেও বড়ো ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ল ভারতীয় জনতা পার্টি। কর্নাটকের ভোটে এটাই একটি নতুন ঘটনা। এর মধ্যে একটা পরিবর্তনের বার্তা আছে। তবে তা কর্নাটকের বাইরেও কাজ করবে কিনা, সেটা অনেকটা বোঝা যাবে এই বছরের শেষে যে পাঁচটি বিধানসভা ভোট আছে তার ফলের উপর।
আরও একটা ব্যাপার। ২০১৯-এর লোকসভা ভোটে যে সব আসনে বিজেপি এবং কংগ্রেসের মুখোমুখি লড়াই হয়েছিল, এমন ১৯২টি আসনের ১৭৬টি জিতেছিল বিজেপি। অর্থাৎ জয়ের স্ট্রাইক রেট ৯২ শতাংশ। কর্নাটকে এই ধরনের মুখোমুখি লড়াইয়ের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ আসন জিতে নিয়ে কংগ্রেস এই পরিসংখ্যানটিকে উল্টে দিয়েছে। এখান থেকেও বোঝা যাচ্ছে, বিজেপি জিতুক, এমন যারা চাইছে সেই ভোটারদের সংখ্যায় কোনও পরিবর্তন না হলেও, বিজেপিকে হারিয়ে কংগ্রেসকে এই নির্বাচনে জেতাতে চাওয়া ভোটারের সংখ্যা ২০১৮-র তুলনায় এবারে দেখা যাচ্ছে অনেক বেড়ে গিয়েছে।
হিজাব, হালাল, আজান থেকে শুরু করে ‘ওবিসি-মুসলিম’ কোটা বাতিল, বিজেপির পক্ষ থেকে হিন্দুত্বভিত্তিক একটা ভোট করার আপ্রাণ প্রচেষ্টা ছিল কর্নাটকে। সবার শেষে প্রধানমন্ত্রী নিজে সভায়, রোড শো-তে ‘জয় বজরংবলী’ স্লোগান আউড়ে আরও তীব্র করেছেন ধর্মীয় প্রচার। হিন্দুত্বের আওয়াজ। এর ফলে বিজেপি তাদের সমর্থন বাড়াতে না পারলেও দেখা যাচ্ছে ধরে রাখতে পেরেছে। নরেন্দ্র মোদী এমন উদ্দাম ভাবে আসরে না নামলে হয়তো এটা কমে যেত। এই যে বিজেপির প্রচারে ধর্মের এতটা উগ্রতা, এটা তেমন নতুন নয়। কিন্তু যেটা নতুন, সেটা হল, বিজেপিকে রুখতে বিভিন্ন দলের ভোটারদের কংগ্রেসের পিছনে এসে একজোট হওয়া।
তাহলে কর্নাটকে এই হিন্দুত্ব পাচন কাজ করল না কেন? নাকি কাজ করার পরেও এমন কিছু ঘটল যে বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে অনেকটা দূরেই থাকতে হল? ২০১৮-র নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচনে কর্নাটকে বিজেপির ভোট কমেনি। একই আছে। ৩৬ শতাংশ। তার মানে এটাই দাঁড়ায় যে, ‘বিজেপির বোম্মাই সরকার ৪০ শতাংশ কাটমানির সরকার’ এবং বিজেপির ঘৃণার রাজনীতি, যা ছিল ভোটের প্রচারে কংগ্রেসের প্রধান অস্ত্র, তাই দিয়ে বিজেপির ভোট কমানো গেল না। ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতির সমালোচনাতে কমল না বিজেপির ভোট। তাহলে ঠিক কী ঘটল যে কংগ্রেস জয়ী হল? ঘটল এটাই যে, বিজেপির জনসমর্থন অটুট থাকলেও তাকে ভোটে হারাতে কংগ্রেসের বাইরে, বিভিন্ন দলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বহু ভোটার কংগ্রেসের পক্ষে চলে এল। এর ফলে, বিজেপির জনসমর্থন অপরিবর্তিত হওয়া সত্ত্বেও কংগ্রেসের সমর্থনের পাল্লা ভারি হয়ে গেল। কংগ্রেসের ভোট বেড়ে ২০১৮-র ৩৮ শতাংশ থেকে হল ৪৩ শতাংশ। শক্তি অটুট রেখেও বড়ো ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ল ভারতীয় জনতা পার্টি।
কেন হলেন একজোট? একটা কারণ অবশ্যই এই যে, তাঁরা বিজেপির রাজনীতি পছন্দ করেন না। দ্বিতীয় কারণটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেটা হল এই যে, কংগ্রেসের বাইরের একাংশ ভোটার, কংগ্রেসের রাজনীতিতে আস্থা জানালেন।
তাহলে কি কংগ্রেসের রাজনীতিতে নতুন কোনও উপাদান যোগ হয়েছে? সম্ভবত এটা চার হাজার কিলোমিটার ভারত জোড়ো যাত্রার ফল। যেই যাত্রা, প্রায় অকিঞ্চিৎকর হয়ে পড়া কংগ্রেসকে ফের কিছুটা বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে। এটা কিছুটা বোঝা যায় একটি ঘটনা দিয়ে। সেটা হল, রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেসের ভারত জোড়ো যাত্রা কর্নাটকের মধ্যে দিয়ে যখন গিয়েছিল, সেই পথে পড়েছিল মোট ২১টি বিধানসভা কেন্দ্র। যার পাঁচটি ২০১৮-তে কংগ্রেস জিতেছিল। এবার ওই ২১টির মধ্যে ১৬টি জিতেছে কংগ্রেস।

লোকসভা ভোটে দেখা যায় বিজেপির বাইরে ৬০ শতাংশের বেশি ভোট কর্নাটকের মতোই বিভিন্ন দলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। ২০২৪-র লোকসভা ভোটে, বিজেপির বাইরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা (যারা কংগ্রেসকেও ভোট দিচ্ছিলেন না) এই ভোটাররা, অন্যতম বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে কংগ্রেসকে কতটা বিশ্বাস করবে, কতটা নির্ভর করবে কংগ্রেসের উপর, কংগ্রেস কতটা প্রভাব ফেলতে পারবে এই বাইরের ভোটারদের মনে, তা অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে যাবে আগামী দিনগুলোয় কংগ্রেস কোন পথে হাঁটে, কী ধরনের কর্মসূচি নেয় এবং বছরের শেষের পাঁচটি বিধানসভা ভোটে কী ফল করে তার উপর।
নরেন্দ্র মোদী ২০১৪-র লোকসভা ভোটের প্রচারে ধর্মের কথা বলেননি। বলেছিলেন কালো টাকা উদ্ধারের কথা, দুর্নীতি থেকে মুক্তির কথা, উন্নয়নের কথা। কিন্তু দেখা গেল তাঁর সেই বিখ্যাত স্লোগান, ‘না খাউঙ্গা না খানে দুঙ্গা’, তিনি একবারও উচ্চারণ করলেন না কর্নাটকের ভোটে। কারণ, ওখানে বিজেপির বিরুদ্ধে দুর্নীতিই ছিল কংগ্রেসের প্রধান অস্ত্র।
১৯৯০-এ আদবাণীর ৭৮০০ কিলোমিটার রথযাত্রা, যে যাত্রাপথের আশেপাশে ২৬টি রক্তাক্ত সংঘর্ষ হয়েছিল, ১৯৯২-এ বাবরি মসজিদ ধ্বংস হওয়া, তার পরের যে লোকসভা ভোট ১৯৯৬ সালে, সেখানে বিজেপি পেয়েছিল ২০ শতাংশ ভোট। সেটা আরও প্রায় ৬ % বেড়েছিল ১৯৯৮-এ। এখন যে বিজেপি ৩৮ শতাংশ ভোট পাচ্ছে তার অনেকটাই নরেন্দ্র মোদীর ব্যক্তগত ক্যারিশমা।
২০০৪-এর লোকসভা ভোটে জিততে বিজেপি ১২,০০০ কিলোমিটার ‘ভারত উদয় যাত্রা’ করছিল আদবাণীর নেতৃত্বে। সেই সময় বিজেপির সঙ্গীদল যারা ছিল তারা শর্ত দিয়েছিল রাম মন্দির, ৩৭০, কমন সিভিল কোড, এসব প্রচারে বলা যাবে না। ৯৯ থেকে ২০০৪ বাজপেয়ীর শাসন। ২০০৪-এর লোকসভা ভোটের আগে বিজেপি স্লোগান দিল ‘শাইনিং ইন্ডিয়া’। ১২ হাজার কিলোমিটার রথযাত্রায় আদবাণী শুধু উন্নয়নের কথা বললেন। ভোটের ফল বেরোলে দেখা গেল ২০০৪-এর নির্বাচনে বিজেপি হেরে গেল। ২০১৪ তে কংগ্রেসের বিপুল ব্যর্থতা এবং দুর্নীতির ফলে যে প্রবল প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া ছিল, তাতে ধর্মের কথা না বলেও মোদী দলকে জেতাতে পেরেছিলেন। কিন্তু সেই পথ বিজেপি ছেড়ে দিয়েছে। ২০১৪-র পর প্রায় ন’বছর কেটেছে। মোদী সরকারের নবম বর্ষ পূর্তিতে দেখা যাচ্ছে, কর্নাটকে ধর্ম বিজেপিকে ভোট-বৈতরণী পার করাতে পারল না। পারলেন না নরেন্দ্র মোদীও। এটা আসলে বিজেপির একটা সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এটা ঠিক যে মানুষ নরেন্দ্র মোদীকে দশ বছর সময় ইতিমধ্যেই দিয়েছেন। তার এক বছর এখনও বাকি। তারপর ফের ভোট-পরীক্ষা। মানুষ নরেন্দ্র মোদীকে সময় দিচ্ছেন আরও আগে থেকে। তিনি যখন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী, তখন ২০০২ সালে গোধরা এবং তার পরবর্তী সাম্প্রদায়িক হিংসায় গুজরাতে হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মোদী তাঁর রাজ্যে হাজারের বেশি মানুষকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। ভোটাররা কিন্তু তাঁকে তার জন্য শাস্তি দেয়নি। পুরস্কৃত করেছে। আরও বেশি ভোটে তিনি জয়ী হয়েছিলেন পরের গুজরাত নির্বাচনে।

ডিমনিটাইজেশনের ফলে কোটি কোটি মানুষ বিপাকে পড়ে। বহু মানুষ কর্মহীন হয়। মোদী দাবি করেছিলেন, এর ফলে কালো টাকার স্রোত বন্ধ হবে, সন্ত্রাসবাদীরা নিষ্ক্রিয় হবে। কোনওটাই হয়নি। মানুষ তার জন্য মোদীকে শাস্তি দেয়নি। আরও বেশি করে ভোট দিয়েছে। লকডাউনে পরিযায়ী শ্রমিকদের ভয়ঙ্কর দুর্দশা, মৃত্যু কর্মহীনতার পরেও মোদীর জনপ্রিয়তায় টান পড়েনি। কোভিডের সেকেন্ড ওয়েভে উত্তরপ্রদেশের গঙ্গায় লাশ ভেসে গেছে, ভোট কমেনি বিজেপির। সারা পৃথিবীর চোখে গণতন্ত্রের সূচকে ভারত ক্রমাগত নীচে নেমে চলেছে। একই ছবি সাংবাদিকদের স্বাধীনতা, ধর্মীয় সহিষ্ণুতার সূচকেও। ওই দুই সূচকেই আমরা দুনিয়ার চোখে নিম্নগামী। তবুও ভোটাররা মোদীর কাছ থেকে দূরে সরে যাননি। নরেন্দ্র মোদীকে ভোটে হারিয়ে শাস্তি দেওয়ার কথা ভাবেনি। অবশেষে কর্নাটকে একটা অন্য ছবি দেখা গেল, মোদীর গতি রুখতে চান এমন ভোটারদের কিছুটা একজোট হওয়ার একটা ছোট কিন্তু খুব স্পষ্ট চেষ্টা দেখা গেল। এই হাওয়া কি এই ভাবেই বইবে? সামনের ভোটগুলোর উপর আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে এটা বোঝার জন্য। আপাতত, যারা ধর্ম আর রাজনীতিকে একই পাত্রে দেখতে চান না, সংসদে ‘সাধু’ সমাবেশের ছবি দেখে তাঁদের উদ্বেগে থাকা ছাড়া আর কোনও পথ নেই।
