প্রথমবার কোনও সার্বজনীন দুর্গোৎসবের থিম গান গাইলেন IAS বিবেক কুমার

চালতাবাগানের দুর্গাপুজোর থিম গান গেয়েছেন তিনি

দুর্গোৎসব শেষ হয়েছে সদ্য। তবে শেষ হয়নি উৎসবের মরসুম। আর তাই ফিকে হয়নি দুর্গাপুজোর রেশও। প্রতি বছরের মতো এই বছরও কলকাতা আর মফস্‌সলের বহু পুজো জুড়ে ছিল থিম পুজোর রমরমা। তার মধ্যে আলাদা করে নজর কেড়েছে উত্তরের চালতাবাগান সার্বজনীন দুর্গোৎসব। তাদের এবছরের থিম প্রশংসিত হয়েছে, পুরস্কৃত হয়েছে। তবে আসল চমক ছিল থিম গানে (Theme Song)। কারণ চালতাবাগান দুর্গাপুজোর থিম গান-টি গেয়েছেন আইএএস বিবেক কুমার। বর্তমানে তিনি বন ও প্রাণীসম্পদ উন্নয়ন দপ্তরের সচিব। তাঁর গানের রেকর্ডিং করেছে আশা অডিয়ো। গীতিকার সুব্রতা ঘোষ রায়। সংগীত আয়োজনে দ্রোণ আচার্য। শুধুমাত্র গান গাওয়াই নয়, গানটিতে সুরও দিয়েছেন বিবেক কুমার। সেই গান রীতিমতো ভাইরাল হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে।

পেশায় প্রশাসনিক কর্তা হলেও নেশায় সুরকার ও গায়ক বিবেক কুমার। এর আগেও তাঁর বেশ কিছু গান মুক্তি পেয়েছিল সামাজিক মাধ্যমে। জনপ্রিয়তাও পেয়েছে সেই গানগুলি। শহর কলকাতাকে ট্রিবিউট জানিয়ে তাঁর গাওয়া গান ‘চিরনতুন কলকাতা’, ‘আমার কলকাতা’, প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিশতবর্ষে গাওয়া তাঁর থিম সং প্রশংসা কুড়িয়েছে সবার। এবার প্রথমবারের জন্য কোনও দুর্গাপুজোর থিম সং গাইলেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, প্রথমবার কোনও প্রশাসনিক অধিকর্তা দুর্গাপুজোর থিম সং গাইলেন। ফলে দুর্গাপুজোর থিম সং-এর ইতিহাসেও জুড়ল নতুন পালক। 

বিবেক কুমার জন্মসূত্রে হিন্দিভাষী। কর্মসূত্রে ১৯৯১ সালে বাংলার প্রশাসনিক অধিকর্তার পদে যোগদান করার পর তিনি বাংলা ভাষা শিখেছেন। পেশাদার সংগীতশিল্পী না হয়েও তিনি আদ্যন্ত ভাষাপ্রেমী, সংগীতপ্রেমী, সর্বোপরি বাংলাপ্রেমী। বাংলা আর দৈনন্দিন জীবনের প্রতি আবেগ মিশে থাকে তাঁর সব গানেই। এই গানও তার ব্যতিক্রম নয়। এবার চালতাবাগান সর্বজনীনের থিম ছিল স্পর্শ। মানুষের সমস্ত কাজে, পুজোর আচারে থাকে স্পর্শ। স্পর্শের আরেক সমার্থক শব্দ ছোঁয়া। এই গানটি জুড়ে রয়েছে উৎসব আর দৈনন্দিন জীবনের ছোঁয়া- “স্পর্শ জানে অন্ধ চোখ, স্পর্শ চেনে কায়া/ স্পর্শে স্পর্শে নিত্যদিন, বোনে কত মায়া… বই দেখে যে স্পর্শ করে, দু-মলাটে শক্তি ধরে… তীরে তীরে শহর জাগে, চায়ের স্পর্শে তুফান লাগে, ভোরের স্পর্শে বিশুদ্ধ সমীর…”, গানে একাকার হয়ে গিয়েছে শহর, আমাদের জীবনযাপন আর অনুভূতি। তাঁর গান যে মানুষের কাছে পৌঁছেছে, হৃদয় ছুঁয়েছে সকলের, তা বোঝা যায় আশা অডিয়োর ইউটিউব চ্যানেলের কমেন্ট বিভাগে চোখ বোলালেই। কথা, সুর, কণ্ঠ, সবকিছুর কথাই আলাদা করে উঠে এসেছে শ্রোতাদের প্রশংসায়। মানুষ সাদরে গ্রহণ করেছেন তাঁর এই প্রয়াসকে।

 

আমরা আগেও দেখেছি বহু প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিকে, যাঁরা নিজের পেশার পাশাপাশি ছাপ রেখে গিয়েছেন শিল্প-সাহিত্যেও। অনিতা অগ্নিহোত্রী, প্রসাদরঞ্জন রায়, সুখবিলাস বর্মা প্রমুখ। তাঁদের মতো বিবেক কুমারও পেশাগত দক্ষতা ও কৃতিত্বের সঙ্গে সঙ্গে সাংস্কৃতিক পরিসরে নিজেকে যুক্ত রেখেছেন। কলকাতা তথা বাংলার প্রতি তাঁর ভালোবাসা-আবেগ স্পষ্ট করে দিয়েছেন  তাঁর গাওয়া এবং সুর দেওয়া গানের মাধ্যমে; এবার যার সাক্ষ্মী থাকল বাংলার মানুষের প্রিয় উৎসব। তিনি নিজেও জানিয়েছেন, এই অভিজ্ঞতা তাঁর সঙ্গে থেকে যাবে আজীবন।

প্রসঙ্গত, বিবেক কুমার পশ্চিমবঙ্গের ‘রাজ্য সংগীত সম্মান’ প্রাপক। 

Developed by DXDasia