
ভারতীয় একশৃঙ্গ গন্ডার
বেশিরভাগ সময় ধরে গরুমারা জাতীয় উদ্যান পরিচিত ছিল গরুমারা অভয়ারণ্য নামে। ২০২০ সালে এটি অভয়ারণ্য হিসেবে ৭০ বছরে এবং জাতীয় উদ্যান হিসেবে ২৫ বছরে পা দিল। উদযাপনের পরিকল্পনা সম্ভবত করা হলেও করোনা মহামারির কারণে স্থগিত রাখা হয়েছে।
তবে সেই উপলক্ষ্যেই আপনি ঘুরে আসতে পারেন গরুমারা। ১৮৯৫ সালে সংরক্ষিত অরণ্য হিসেবে যাত্রা শুরু করে এই অরণ্যভূমি। ভারতের নিজস্ব একশৃঙ্গ গন্ডারের বংশবৃদ্ধির জন্য অভয়ারণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায় ১৯৪৯ সালে। ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি পরিপূর্ণ জাতীয় উদ্যানে পরিণত হয়। ৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা থেকে বেড়ে হয় ৮০ বর্গকিলোমিটার। দেশের অন্যান্য জাতীয় উদ্যানের তুলনায় আকারে মোটেই কম নয়।

গরুমারা জাতীয় উদ্যানের প্রবেশদ্বার
ভারতের নিজস্ব একশৃঙ্গ গন্ডারের বংশবৃদ্ধির জন্য অভয়ারণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায় ১৯৪৯ সালে। ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি পরিপূর্ণ জাতীয় উদ্যানে পরিণত হয়। ৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা থেকে বেড়ে হয় ৮০ বর্গকিলোমিটার। দেশের অন্যান্য জাতীয় উদ্যানের তুলনায় আকারে মোটেই কম নয়।
মাঝারি আকৃতির হলেও গরুমারা জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। কত রকম অজানা প্রাণী এবং উদ্ভিদের দেখা মেলে। প্রায় ৫০ রকম প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ১৯০-র বেশি প্রজাতির পাখি, ২০-র বেশি প্রজাতির সরীসৃপ, ৭ ধরনের কচ্ছপ, ২৫ রকমেরও বেশি প্রজাতির মাছ এবং আরও নানা জন্তু-জানোয়ার। বড়ো বেড়াল জাতীয় প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে কেবল লেপার্ড। তবে কখনও কখনও রয়েল বেঙ্গল টাইগার ঢুকে পড়ে গরুমারা অরণ্যে।
গন্ডার ছাড়াও গৌড় (বড়ো আকারের ভারতীয় বাইসন), এশিয়ান হাতি, ভালুক, চিতল হরিণ, সম্বর হরিণের জন্যও গরুমারা বিখ্যাত। সারা বিশ্বে হরিণ প্রজাতির মধ্যে সম্বর অন্যতম বৃহৎ সদস্য। এছাড়া মায়া হরিণ, নাত্রিণী হরিণ, বুনো শুয়োরও আছে। দেখা যায় বিভিন্ন ধরনের ভাম, বেজি, ছোটো বেড়ালের মতো মাংসাশী প্রাণী। সরীসৃপদের মধ্যে আছে পৃথিবীর সবথেকে বড়ো বিষধর ও বিষহীন সাপ – ভারতীয় অজগর এবং শঙ্খচূড়।

গরুমারা জিপ সাফারি
নানা বিরল প্রজাতির জীবজন্তু গরুমারাকে করে তুলেছে অনন্য। লুপ্তপ্রায় হয়ে আসা পিগমি হগ এবং হিসপিড খরগোশ এখানে থাকে। কত বিচিত্র পাখি, যেমন সিঁদুরে সহেলি, মৌটুসি, শাহ বুলবুল, কেশরাজ, ভারতীয় ধনেশ, কাঠঠোকরা, মথুরা। চখাচখি পাখির উড়ে যাওয়ার পথে গরুমারা পরে। আরও প্রচুর পরিযায়ী পাখি আসে এই জাতীয় উদ্যানে।
মানুষ এবং প্রকৃতির আশ্চর্য সহাবস্থান দেখা যায় গরুমারায়। কেউ কাউকে বিরক্ত করে না, অনধিকার প্রবেশ করে না অন্যের বাসস্থানে। উত্তরবঙ্গে বিভিন্ন আদিবাসী গোষ্ঠীর প্রায় ১০ হাজার মানুষ এখানে থাকেন। বন দপ্তরের নানা কাজ এবং পরিবেশ-পর্যটনে সাহায্য করে জীবিকা নির্বাহ করেন তাঁরা।

অরণ্যের দিকে যাওয়ার পথ
জায়গাটির ভৌগোলিক অবস্থানও আসাধারণ। মূর্তি এবং রায়ডাক নদীর প্লাবনভূমিতে গড়ে উঠেছে অরণ্য। উদ্যানের ভিতর দিয়ে বয়ে চলেছে ব্রহ্মপুত্রের উপনদী জলঢাকা। গঙ্গা এবং ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার মাঝখানে জলবিভাজিকা হয়ে উঠেছে গরুমারা।
কীভাবে যাবেন
গরুমারার সবথেকে কাছের বিমানবন্দর হল দার্জিলিং জেলার বাগডোগরা। দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার। নিউ ময়নাগুড়ি, নিউ মাল এবং চালসা রেল স্টেশন রয়েছে কাছে। তিনটেই জলপাইগুড়ি জেলায়। তবে কাছাকাছির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রেল স্টেশন নিউ জলপাইগুড়ি, জাতীয় উদ্যানের প্রায় ৪২ কিলোমিটার দক্ষিণে। কলকাতা থেকে সড়কপথে নিজের গাড়িতে অথবা বাসে করেও যেতে পারেন। কম করে ১৬ ঘণ্টা সময় লাগবে তাতে।

মূর্তি ট্যুরিজম প্রপার্টি
কোথায় থাকবেন
কাছেই রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের নিজস্ব মূর্তি ট্যুরিজম প্রপার্টি। জাতীয় উদ্যান থেকে মাত্র ১১ কিলোমিটার দূরে। সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। বন্ধু-বান্ধব কিংবা আত্মীয়-স্বজনকে নিয়ে কয়েকদিন স্বচ্ছন্দে থাকতে পারেন। বিস্তারিত জানতে ফোন করুন (+৯১) ৯৮৭৪০৫৩২৯২ নম্বরে অথবা মেইল করুন murtitouristresort2015@gmail.com আইডিতে। অথবা যোগাযোগ করুন –
West Bengal Tourism Development Corporation Ltd
DG Block, Sector-II, Salt Lake
Kolkata 700091
Phone: (033) 2358 5189, Fax: 2359 8292
Website: https://www.wbtdcl.com/
Email: visitwestbengal@yahoo.co.in, mdwbtdc@gmail.com, dgmrwbtdc@gmail.com
