কলকাতা কর্পোরেশনের পাঁচটি স্কুলে শিশুদের জন্য বিশেষ ‘গল্পঘর’

শিশুদের জন্য এই বিশেষ কক্ষ তৈরি করেছে ‘একতারা’ এনজিও

‘তারে জমিন পর’ সিনেমার নিকুম্ভ স্যারকে মনে আছে? অনেকটা ভালোবাসা, গল্প আর রং-তুলির মাধ্যমে যে ফুটিয়ে তুলতে আধবোজা কুঁড়ির মতো শৈশবকে, শিশুদের মনের মতো করেই বুঝতো তাদের মনকে। রিল জগতের সেই নিকুম্ভ স্যারের মতো রিয়্যাল জগতেও কলকাতার বুকে এমন এক সংস্থা আছে, যাদের জাদুকাঠির স্পর্শে ফুটে উঠছে একের পর এক শৈশবের কুঁড়ি। সংস্থাটির নাম ‘একতারা’, যারা তিলজলা ও তপসিয়া এলাকায় কলকাতা কর্পোরেশনের অধীনে চলা পাঁচটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৈরি করেছে ‘গল্পঘর’।

‘গল্পঘর’ আসলে কী? ‘গল্পঘর’ হচ্ছে, স্কুলের মধ্যে এমন আশ্চর্য রঙিন ঘর যেখানে নিয়মে বাঁধা ক্লাসরুমে পড়াশোনার বাইরে গিয়ে শিশুরা হাতে পায় তাদের মনের মতো বেশ কিছু রঙিন গল্পের বই, যেগুলো প্রসারিত করতে পারে শিশুমনের দুনিয়াকে। আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবার, শিশুদের নামী প্লে স্কুলে পড়ানো যাদের আর্থিক সামর্থ্যের বাইরে, তবুও সন্তানদের দিতে চান শিক্ষার আলো, তাদের জন্যই কলকাতা কর্পোরেশনের উদ্যোগে তৈরি এই স্কুলগুলোতে ছোটো ছোটো ছেলেমেয়েদের আরও বইমুখী করে তুলতেই ‘গল্পঘর’-এর উদ্যোগ নিয়েছে ‘একতারা’ এনজিও। আসলে ‘গল্পঘর’ এমন এক গ্রন্থাগার যেখানে ছোটোদের কাছে পড়া হয়ে ওঠে আরও আকর্ষণীয়। আর ‘গল্পঘর’-কে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে ‘একতারা’ পাশে পেয়েছে স্কুলের গ্রন্থাগার বিষয়ক বিশেষ সংস্থা ‘ভাবুক’-কে। বিভিন্ন ধরনের খেলা, শব্দছক প্রভৃতি বুদ্ধিদীপ্ত কৌশলে শিশুদের কীভাবে পড়াশোনাকে ভালোবাসতে শেখানো যায়, তা বিভিন্ন স্কুলের লাইব্রেরির শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বুঝিয়েছেন ‘ভাবুক’-এর সদস্যরা। ফলে ওই শিশুদের কাছে পড়া হয়ে উঠেছে আরও মনোগ্রাহী।

‘গল্পঘর’ হচ্ছে, স্কুলের মধ্যে এমন আশ্চর্য রঙিন ঘর যেখানে নিয়মে বাঁধা ক্লাসরুমে পড়াশোনার বাইরে গিয়ে শিশুরা হাতে পায় তাদের মনের মতো বেশ কিছু রঙিন গল্পের বই, যেগুলো প্রসারিত করতে পারে শিশুমনের দুনিয়াকে।

২০১১ সালে ৬০ জন শিশুকে নিয়ে পথচলা শুরু হয় এই সংস্থার। স্কুলছুটদের জন্য শুরু হয় ক্লাসরুমের বাইরে ক্লাস, আর মহিলাদের জন্যও শুরু হয় বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। এরপরে বিভিন্ন সময়ে ডিজিটাল লার্নিং, শারীরশিক্ষা প্রভৃতি কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশুদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যোন্নতির প্রচেষ্টা করে চলেছে ‘একতারা’। কোভিড মহামারীর সময়েও খাদ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন ‘একতারা’-র সদস্যরা।

বই মানুষের শ্রেষ্ঠ বন্ধু, তবে মোবাইল নির্ভর এই প্রজন্মের শিশুরা হয়তো খোঁজই পাচ্ছে না এই বন্ধুর। বিশেষত যেসব পরিবারে এই শিশুরাই প্রথম প্রজন্ম যারা বইয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব করার সুযোগ পাচ্ছে, তাদের জন্য কলকাতা কর্পোরেশন এবং ‘একতারা’ ও ‘ভাবুক’-এর এই গল্পঘরের উদ্যোগ আগামী প্রজন্মকে সুস্থ ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দিতে পারবে একথা বলাই বাহুল্য।

_____

ছবিঃ এক তারা-র ফেসবুক পেজ

Developed by DXDasia