
ম্যাগনেটে সেরকমই করে দেখিয়েছেন বিশিষ্ট শিল্পী উদয় দেব
কলকাতা এক মায়াবী শহর। যাঁরা এখানে থাকেন, বা ঘুরতে এসেছেন – সবারই কোনো না কোনোভাবে নাড়ির টান জন্মে গিয়েছে মহানগরের সঙ্গে। হতে পারে তার প্রেক্ষিত ভিন্ন। কেউ ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের প্রেমে পড়েছেন, কেউ মজেছেন কফি হাউজের আড্ডায়, কাউকে আবার মুগ্ধ করেছে হাওড়া ব্রিজ কিংবা হলুদ অ্যাম্বাসাডার ট্যাক্সি।
কলকাতার সেরা আকর্ষণগুলি যদি হাতের মুঠোয় পাওয়া যায় একই সঙ্গে, তাহলে কেমন হবে? ঠিক সেরকমই করে দেখিয়েছেন বিশিষ্ট শিল্পী উদয় দেব। আমাদের প্রিয় শহরের সবথেকে জনপ্রিয় ঐতিহ্যগুলি এক বাক্স রঙিন ফ্রিজ ম্যাগনেটে বন্দি করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন: রেবতীভূষণের ১০০ আর এক ব্যাগ ‘কার্টুন’
ষোলোটি চুম্বকের একটি সেট। প্রত্যেকটিতে ৩×৪ ইঞ্চি মাপের কাঠের ফ্রেম লাগানো রয়েছে। অনন্য এই সেটটির নাম ‘এক বাক্স কলকাতা’। সেন্ট পল’স ক্যাথিড্রালের সৌধ, ইন্ডিয়ান কফি হাউজের ওয়েটার, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের পরী, জেনারেল পোস্ট অফিসের স্থাপত্য, হাওড়া ব্রিজ কিংবা ভিড় মাছের বাজার – কোনোটাই বাদ যায়নি। নস্টালজিক সেপিয়া রঙের জাদুতে যেন ধরা পড়েছে কলকাতার আত্মা।
উদয় দেব জানিয়েছেন, এটির পরিকল্পনা তাঁর মাথায় এসেছিল কাঠের পুতুল নিয়ে কাজ করার সময়। কলকাতার অধিবাসী হয়েও নানা কারণে যাঁদের অনেক দূরে থাকতে হয়, তাঁদের কাছে পুতুলগুলো দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। তিনি বলেন, “আমি বুঝেছি, অনেকের কাছেই কলকাতার স্মারক চিহ্নকে ধরে রাখা সহজ কাজ নয়। কলকাতা নিয়ে এরকম উদ্যোগ আগে হয়নি। যদিও বিশ্বের অনেক শহরে এমন শিল্পদ্রব্যের পাওয়া যায়।”
শিল্পীর মতে “আপনি যদি প্রত্যেকটি চুম্বক আলাদাভাবে দেখেন, ছবি আঁকার প্রেক্ষিত চোখে পড়বে। এগুলোকে ফ্রিজ ম্যাগনেট হিসেবে দেখতে পারেন, আবার প্রত্যেকটি ফ্রেমকে মিনিয়েচার ছবি হিসেবেও ভাবতে পারেন। আমাকে অনেকেই বলেছেন, তাঁরা যেখানেই থাকুন না কেন, ছোটো ছোটো এমন কিছু জিনিস চোখের সামনে রাখতে চান, যাতে কলকাতা শহরের কথা মনে পড়ে”।
প্লাস্টিক বা ফাইবারের বদলে কাঠ দিয়ে তৈরি করার ফলে এগুলির আকর্ষণ অনেক বেড়ে গিয়েছে। আপনার ফ্রিজে এবং প্রতিদিনের কাজে নস্টালজিয়ার ছোঁয়া এনে দেবে ‘এক বাক্স কলকাতা’।
এক বাক্স কলকাতার পুরো সেটটি কিনতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন।

