শিয়ালের ছদ্মবেশে এতদিন সুন্দরবনে বাস করেছে ‘বিলুপ্ত’ নেকড়েরা!

বিলুপ্তির ৭০ বছর পরে ফের নেকড়ের দেখা মিলল বাংলাদেশের সুন্দরবনে

তাকে শেষ দেখা গেছিল ৭০ বছর আগে। অবশ্য, ১৯৫৩ সালে এক শিকারী দাবি করেছিলেন, নোয়াখালিতে তিনি একটি নেকড়ে শিকার করেছেন। সে-কথা অনেকেই বিশ্বাস করেননি। সুন্দরবনে নেকড়ে তো বিলুপ্ত—এমনটাই ধরে নেওয়া হয়েছিল। আইইউসিএন-এর রেডলিস্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশের আঞ্চলিকভাবে বিলুপ্ত ১১টি স্তন্যপায়ীর মধ্যে অন্যতম হল নেকড়ে। কিন্তু সব পরিসংখ্যান, তথ্য গোলমাল করে দিয়েছে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রাম তালতলিতে পাওয়া একটি প্রাণীর মৃতদেহ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি নেকড়েরই দেহ। এরপরই শুরু হয়েছে চাঞ্চল্য।

বাংলাদেশের সুন্দরবনের বরগুনা জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম তালতলির বাসিন্দারা ফাঁদ পেতে ধরেছিল একটি প্রাণীকে। সে বারবার হানা দিচ্ছিল গ্রামে, শিকার করে নিয়ে যাচ্ছিল গবাদি পশু ও মুরগি। ধরার পর তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলে গ্রামবাসীরা। সেই ছবি দেখে সন্দেহ হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানী মুনতাসির আকাশের। তিনি পৌঁছে যান সেই গ্রামে। কবর থেকে তোলা হয় কুকুরের মতো দেখতে প্রাণীটির মৃতদেহ। আকাশের বদ্ধমূল ধারণা ছিল, এটি নেকড়ে। কিন্তু নেকড়ে তো বাংলাদেশে বিলুপ্ত। ২০১৭ সালে ভারতের সুন্দরবনেও একটি নেকড়ের দেখা মিলেছিল। কিন্তু এতদূর পাড়ি দিয়ে সে এই অঞ্চলে আসবে, তা কার্যত অসম্ভব। তাহলে!

ছবি দেখার পর, প্রাণীটি যে নেকড়ে তা নিশ্চিত করেন ভারতের ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউটের প্রাণিবিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞান সংরক্ষণ বিভাগের প্রধান ড. যাদভেন্দ্রাদেব ভি ঝালা, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ গবেষণা ইউনিটের প্রধান জীববিজ্ঞানী ড. জন এফ ক্যামলার এবং উইলিয়াম ডাকওয়ার্থও। এরপরে জিন পরীক্ষার পরে আর কোনো সন্দেহই থাকল না। প্রমাণিত হল, এটি ভারতীয় নেকড়ে (Canis lupus pallipes)।

কিন্তু, বিলুপ্ত হওয়ার পরেও সুন্দরবনে নেকড়ে এল কীভাবে? ফণীর দাপটে কোনো একভাবে পথভ্রষ্ট হয়ে চলে আসতে পারে বলছেন কেউ কেউ। তবে আকাশ নিশ্চিত, সুন্দরবনের অন্যত্র নেকড়ের বসতি আছে। কথিত, বাঘের ভয়ে নাকি সুন্দরবনের শিয়ালেরা ডাকে না। আকাশের ধারণা, ওই না ডাকা শিয়ালগুলি খুব সম্ভবত নেকড়ে। হয়তো বেঁচে থাকার জন্যই তারা স্বভাবের পরিবর্তন করেছে। সেক্ষেত্রে, এরাই হবে পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম ম্যানগ্রোভবাসী নেকড়ে। ম্যানগ্রোভের অরণ্য নেকড়েদের বসবাসের উপযুক্ত নয় একেবারেই। আকাশ বলছেন, নেকড়ের অস্তিত্বের প্রমাণ মিললে তাদের সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনে জীবন বাজি রাখবেন তিনি।

Developed by DXDasia