ছিন্নমূল মানুষের লড়াই আর স্পর্ধার নাম ইস্টবেঙ্গল, ১০০তম জন্মদিন পালন আজ

দেশ হারানোর আর্তি সেদিন আশ্রয় পেয়েছিল লাল-হলুদ পতাকার নিচে

কথায় আছে, ছিন্নমূল বাঙালির লড়াইয়ের রং লাল আর স্পর্ধার রং হলুদ। আজ থেকে একশো বছর আগে লাল-হলুদ জার্সির ছেলেগুলো হয়তো গেয়ে উঠেছিল লড়াইয়ের মন্ত্র, মাঠ না ছাড়ার মন্ত্র, ছিন্নমূল যন্ত্রণার মন্ত্র। সবাই মিলে তাঁরা গাইছেন, “যে তোমায় ছাড়ে ছাড়ুক,/ আমি তোমায় ছাড়বো না মা,/ আমি তোমার চরণ করবো স্মরণ,/ আর কারও ধার ধারবো না মা!”

শহরের ইট-সিমেন্টের খাঁজে লেখা অশ্রু। বিবর্তনের ইতিহাস। খালি পায়ে একটা পুটলি নিয়ে হাঁটা সর্বস্ব মানুষগুলোর চোখে স্বপ্ন আর স্বপ্ন। দেশ হারানোর আর্তি সেদিন আশ্রয় পেয়েছিল লাল-হলুদ পতাকার নিচে। ময়দানের শান্তিনীড়ে। উজার করে দিয়েছিল অস্ত্বিত্বের অধিকার। 

যদিও ইস্টবেঙ্গল একটা ব্যাপারে ঋণী মোহনবাগানের কাছে। ইতিহাস ঘেঁটে আমাদের ফিরে যেতে হবে ১৯২০ সালে। কোচবিহার কাপের ফাইনালে মুখোমুখি মোহনবাগান ও জোড়াবাগান। চ্যাম্পিয়ন হল মোহনবাগান। সেদিন জোড়াবাগান জিতলে হয়তো ইস্টবেঙ্গলের জন্মই হত না। ম্যাচ হারের জন্য দলের দুই বাঙাল ফুটবলার শৈলেশ বসু ও নসা সেনের উপর সমস্ত দায় চাপিয়ে দিলেন কর্তারা। তারপরই রাগে, ক্ষোভে জোড়াবাগানের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বসলেন ওপার বাংলার সুরেশ চৌধুরি। সেই রাগ, অপমান, দুঃখ, অভিমান থেকে জন্ম নিল ঐতিহ্যবাহী ইস্টবেঙ্গল ক্লাব। 

ভিটেমাটি ছেড়ে আসা একদল মানুষের একমাত্র আশ্রয় হয়ে উঠল ইস্টবেঙ্গল। এ যেন নতুন নাড়ির টান। ভালোবাসা আর সমর্থনের জোরে মজবুত হল ক্লাবের খুঁটি। সেই ইস্টবেঙ্গলের আজ শতবর্ষ। ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠা হওয়া একটা ক্লাব এক বছরের মধ্যেই সাতটা ট্রফি জিতে নিজেদের অস্তিত্বের জানান দিয়ে ফেলেছিল। সেই সচিন শিল্ড থেকে শুরু করে একে একে কোচবিহার কাপ, আইএফএ শিল্ড, গিরিজা শিল্ড, ট্রেডস কাপ, আশিয়ান কাপ, জাতীয় লিগ জয়। 

এখনও অবধি আই লিগ ছুঁতে না পারার একটা চাপা দুঃখ তো আছেই। এতকিছুর পরেও আজ ইস্টবেঙ্গলের গর্বের ১০০ বছর। তবে এই বছর জন্মদিনের উদযাপন মাটি করে দিয়েছে পরিস্থিতি। করোনার জন্য ভিড়ভাট্টা এখন বাদ। এর মধ্যেই নিজেদের মধ্যে মেতে উঠবেন তাঁরা। হলুদ-লাল আবিরে আরও একবার হেসে উঠবে বাংলার আকাশ।
 

Post Tags
Developed by DXDasia