পনেরো দিনে প্রায় ২০ লক্ষ দর্শনার্থী! রেকর্ড গড়ল দিঘার জগন্নাথ মন্দির


p>পূর্ব মেদিনীপুরে দীঘার সমুদ্রতটে ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে, ঐতিহ্যবাহী কলিঙ্গ স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত হয়েছে জগন্নাথ মন্দির। গত ৩০ এপ্রিল মন্দিরের দ্বারোদঘাটন করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর থেকে প্রতিদিনই বিপুল ভিড় হচ্ছে মন্দিরে। প্রথম চার দিনেই দর্শনার্থীর সংখ্যা ১০ লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। জানা যাচ্ছে, এই ১৫ দিনেই আনুমানিক ২০ লক্ষ মানুষ পরিদর্শন করেছেন মন্দিরটি। দিঘা-পর্যটনের বিকাশে যা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে।

প্রতিদিনই দিঘার জগন্নাথ মন্দির পরিদর্শনের জন্য অগুনতি মানুষের লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে। মজার বিষয় হলো, দিঘার জগন্নাথ ধামে আসা ভক্তদের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই ওড়িশার।

শুরু থেকেই নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে এই মন্দিরকে ঘিরে, মন্দিরের নামের সঙ্গে ‘ধাম’ কথাটি যুক্ত হওয়ার আপত্তি এসেছে ওড়িশার জগন্নাথ মন্দিরের তরফেও। তা স্বত্বেও, আশ্চর্য ভাবে প্রতিবেশি রাজ্যটি থেকেই সবচেয়ে বেশি দর্শনার্থী আসছে বলে সূত্রের খবর। দিঘার জগন্নাথধাম ট্রাস্টের অন্যতম সদস্য তথা ইস্কন কলকাতার ভাইস প্রেসিডেন্ট রাধারমণ দাস সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, প্রতিদিনই মন্দির পরিদর্শনের জন্য অগুনতি মানুষের লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে। মজার বিষয় হলো, দিঘার জগন্নাথ ধামে আসা ভক্তদের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই ওড়িশার। প্রভু জগন্নাথের প্রতি ভক্তি যেকোনো দ্বন্দ্বের ঊর্ধ্বে। সকলেই নিজেদের ভক্তিতে ঐক্যবদ্ধ। প্রতিদিন কীর্তন শুনতে ভিড় জমাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ।

অন্যদিকে, ট্রাস্টের সদস্য এবং কাঁথি পৌরসভার তৃণমূল-মুখপাত্র সুপ্রকাশ গিরি বলেছেন যে মন্দিরের সাফল্য পশ্চিমবঙ্গ  পর্যটনের জন্য একটি গুরত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আগে পর্যটকরা দিঘায় সাধারণত দুই দিন থাকতেন। এখন, জগন্নাথ মন্দিরের জন্য হোটেল বুকিং চার দিন বা তারও বেশি বেড়ে গিয়েছে। এরকম বিশাল স্থাপনা সাম্প্রতিক কালে নজিরবিহীন। প্রসঙ্গত, দিঘার মন্দিরে ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পুলিশ এবং সিভিক ভলান্টিয়ারদের। ইতিমধ্যেই রাজ্য মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তক্রমে জেলা পুলিশ শুধু দিঘার মন্দিরের জন্য ১০০ জন ভলান্টিয়ার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। বাইরের কেউ নন, রামনগর বা দিঘা কোস্টাল থানা এলাকার বাসিন্দারাই ওই কাজের জন্য আবেদন করতে পারবেন। রাজ্যের তরফে এই উদ্যোগও অভিনব।

দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে কীভাবে যাবেন:
*রেলপথে যাওয়ার জন্য হাওড়া থেকে পাঁশকুড়া, তমলুক, নন্দকুমার, কাঁথির ট্রেন ধরতে হবে। এরপর পাঁশকুড়া-দিঘা লাইনের ট্রেনে দিঘা স্টেশনে নামলে মন্দিরে যাওয়া যাবে পায়ে হেঁটে। দিঘা স্টেশন থেকে জগন্নাথ মন্দিরের দূরত্ব প্রায় ৪৫০ মিটার।
*সড়কপথে ব্যক্তিগত গাড়িতে ওল্ড দিঘার ওপর দিয়ে বা বাইপাস ধরে মন্দিরে যাওয়া যেতে পারে। বাইপাস দিয়ে গেলে দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের পাশে পরিবহণ দপ্তরের ডিপোর কাছে যেতে হবে। এছাড়া ধর্মতলা থেকে সরাসরি দিঘা যাওয়ার প্রচুর সরকারি-বেসরকারি বাস পরিষেবা রয়েছে। বাসস্ট্যান্ড থেকে মন্দিরের দূরত্ব ২ কিলোমিটার।

Written by