৫৪ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও ভারতীয় পেলেন এই সম্মান
এই বঙ্গতনয়ার গবেষণা মূলত বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজে প্রয়োজনীয় মানবদেহের বিভিন্ন প্রোটিন এবং মেলানিনের মতো জৈব অণু এবং ডিএনএ নিয়ে। সূর্যের আলো শরীরে ঢোকার পর কী ভাবে সেগুলির আকার, আকৃতি, আচরণ বদলে যায়, তারা সূর্যের আলোকে কী পরিমাণে গ্রহণ করে, কী কী ধরনের বিক্রিয়া হয় তা বুঝতে কোয়ান্টাম মেকানিক্স ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মেশিন-লার্নিং পদ্ধতির ব্যবহারই তাঁর কাজ। কতটা সরল ও তাড়াতাড়ি ভাবে করা সম্ভব এই পদ্ধতি, তা নিয়েই বিগত কয়েক বছর ধরে কাজ করছেন। পরিশ্রমের ফলস্বরূপ ইন্টারন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ কোয়ান্টাম মলিকিউলার সায়েন্স (আইএকিউএমএস)-এর দেওয়া বিশেষ সম্মান পেলেন ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর কাল্টিভেশন অফ সায়েন্সের (আইএসিএস) দেবশ্রী ঘোষ। এবং ৫৪ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম ভারতের কোনও বিজ্ঞানী এই সম্মান পেলেন। আগে এই পুরস্কার পেয়েছেন একাধিক নোবেলজয়ী।
শ্রীরামপুরের স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর ১৯৯৯ সালে রসায়নে স্নাতক স্তরের পড়াশোনা করেন প্রেসিডেন্সি কলেজে (এখন বিশ্ববিদ্যালয়)। বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সেস থেকে স্নাতকোত্তর। ২০০৫ সালে আমেরিকার কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করতে যান। ২০০৯ থেকে ২০১২ পোস্ট-ডক্টরেট করেন আমেরিকার সাদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে। পুণের সিএসআইআরের ন্যাশনাল কেমিক্যাল ল্যাবরেটরিতে কাজ করেছেন। পরে কলকাতার আইএসিএস-এর স্কুল অফ কেমিক্যাল সায়েন্সে যোগ দেন। বর্তমানে দেবশ্রী স্কুল অফ কেমিক্যাল সায়েন্সের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর। কোয়ান্টাম রসায়নবিদ্যায় তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
বাঙালি বিজ্ঞানীর এই সাফল্যে রাজ্য তথা দেশের বিজ্ঞান মহলে খুশির হাওয়া। আদতে শ্রীরামপুরের ও বর্তমানে নিউ গড়িয়ার বাসিন্দা এই বিজ্ঞানী নিজেও অভিভূত। তাঁর কথায়, ‘এই সাফল্য আমার একার নয়। প্রতি মুহূর্তে আমার ছাত্রছাত্রী ও গবেষকরা যে ভাবে আমাকে সাহায্য করেছেন, এই স্বীকৃতি তাঁদের সকলের। প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় সাহায্য পেয়েছি। তাই এই সাফল্যে তারাও ভাগীদার।’