প্রবাসী বাঙালি হওয়ার জন্য প্রথমদিকে বাংলা ভাষাকে বেশ ভয়ই পেতেন অনিল চট্টোপাধ্যায়
প্রবাসী বাঙালি হওয়ার জন্য প্রথমদিকে বাংলা ভাষাকে বেশ ভয়ই পেতেন অনিল চট্টোপাধ্যায়। তখনও জানতেন না, অভিনয়ই হবে তাঁর পেশা, আর তা বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয় করে। পরে সেই বাংলাতেই তুখোড় হয়ে উঠেছিলেন অনিল। স্টারডমের তোয়াক্কা করেননি আজীবন। আর পাঁচটা মানুষের মতোই হেসে-খেলে কাটাতে ভালোবাসতেন। কী বড়ো মাপের অভিনেতা ছিলেন অনিল, তা আমরা সকলেই জানি। সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক, তপন সিংহ-দের সঙ্গে কাজ করে গেছেন একের পর এক। স্ক্রিনে মন কেড়েছেন আলাদাভাবে। সে ‘হিরো’ই হোক, বন্ধুই হোক বা দাদা। এই যেমন ‘মেঘে ঢাকা তারা’ ছবিতে একজন আত্মমগ্ন সুরপাগল ছেলে। যে বোনের আনন্দে-যন্ত্রণায় পাশে থেকেছে বারবার। সুউচ্চ পাহাড়ের কোলে নীতা এই দাদার দিকে তাকিয়েই সোচ্চার কণ্ঠে জানাচ্ছে “দাদা, আমি বাঁচতে চেয়েছিলাম”। তখন পাহাড়ের কোলে ইকো হচ্ছে দাদার ইমেজ কিংবা দাদার মধ্যে স্বয়ং পাহাড় দেখতে পেয়েছিল নীতা। তাই তাঁর কোলে মাথা রেখে নিজের আকুতি প্রকাশ করেছিল সে।
মহানগর চলচ্চিত্রে মাধবী মুখোপাধ্যায় এবং অনিল চট্টোপাধ্যায়
‘কোমল গান্ধার’-এ এই দাদাই হয়ে উঠল আরেকটি আত্মমগ্ন চরিত্র – অভিনেতা। দেশভাগ, আদর্শবাদ, দুর্নীতি, শিল্প ও জীবনের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা তিনি অসামান্যভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন ঋষি চরিত্রের মধ্যে দিয়ে।
সত্যজিতের ‘মহানগর’-এ ডুবে গেলেন চূড়ান্ত মধ্যবিত্ততায়। বাড়ি থেকে বাইরে বেরনো স্ত্রীকে সন্দেহ করলেন। ভুগলেন কঠিন এক হীনমন্যতায়। আসলে অনিল চট্টোপাধ্যায় যা চরিত্রই পেয়েছেন, তা বাস্তবোচিত করে তুলতে পারতেন। তাই দর্শক তাঁকে আজও ভুলতে পারেননি। অভিনয় করেছেন ‘নাগরিক’, ‘অযান্ত্রিক’, ‘দীপ জ্বেলে যাই’, ‘তিন কন্যা’, ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’, ‘জতুগৃহ’, ‘বন পলাশির পদাবলি’-সহ অনেক হিন্দি ছবিতেও।
স্টারডমকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে তিনি অশ্বের মতো দৌড়ে গেছেন আর দৌড়ে গেছেন। বিশ্রাম নেওয়ার ফুরসতটুকু তাঁর ছিল না। কারণ অভিনয়ের প্রেমে পড়তেন প্রতিদিন, নতুন করে। আজ কিংবদন্তি অভিনেতা অনিল চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুদিন।