সেফ হোমগুলি নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে হাসপাতালের সঙ্গে
মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে উপসর্গহীন এবং অল্প উপসর্গ থাকা কোভিড রোগীদের জন্য প্রত্যেক পুরসভা ও থানা এলাকায় সেফ হোম তৈরি করবে রাজ্য সরকার। এখন পশ্চিমবঙ্গে সেফ হোম আছে ১০৯টি, বেড প্রায় ৭ হাজার। সেই সংখ্যা আরও বাড়াতে চায় প্রশাসন।
গত জুন মাসে অল্প উপসর্গ যুক্ত বা উপসর্গহীন করোনা রোগীদের জন্য পুর এলাকায় সেফ হোম তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই সেই উদ্যোগের প্রশংসা করেছে কেন্দ্রীয় সরকারের আইসিএমআর এবং বাকি রাজ্যদেরও এই মডেল অনুসরণ করতে নির্দেশ দিয়েছে।
রাজ্যের প্রতিটি পুরসভা এবং থানাগুলিকে এলাকায় সেফ হোমের উপযুক্ত জায়গা খুঁজতে নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন। বিশেষ করে হোটেল, স্টেডিয়াম, বিয়েবাড়িতে এগুলি তৈরি হবে। ঘনবসতিপূর্ণ পুরসভা অঞ্চলে প্রয়োজনে একাধিক সেফ হোম করতে বলা হয়েছে। তবে কোথায় কোথায় সেগুলি গড়ে উঠবে, সেই ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে স্বাস্থ্য দপ্তর। কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া এবং হুগলি – এই পাঁচটি জেলাতেই করোনা রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। তাই প্রাথমিকভাবে এখানেই দ্রুত নির্দেশ কার্যকর করা হবে। ধাপে ধাপে রাজ্যের সমস্ত পুরসভা ও থানা এলাকায় চালু হয়ে যাবে সেফ হোম।
কলকাতার রাজারহাটের হজ হাউস, আনন্দপুর, তপসিয়া, গীতাঞ্জলি স্টেডিয়াম, যাদবপুর কিশোর ভারতী স্টেডিয়াম, খড়দহ পুরসভার বিবেকানন্দ স্টেডিয়ামের মতো বেশ কিছু জায়গায় ইতিমধ্যেই সেফ হোম গড়ে উঠেছে। এবার রাজ্যের সব পুরসভা এবং থানাকে বলা হয়েছে, কমপক্ষে ১০০ থেকে ২০০ জন থাকার উপযোগী পরিকাঠামোর খোঁজ করতে। বাথরুম-সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা যাতে থাকে, সেদিকেও নজর রাখা হবে।
সেফ হোমগুলির সঙ্গে হাসপাতালের যোগাযোগ থাকবে নিয়মিত। চিকিৎসক দল এবং অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত রাখা হবে। পুরসভা ও থানার জমা দেওয়া তালিকা এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় মোট কোভিড রোগীর সংখ্যা খতিয়ে দেখবেন সেই জেলার সিএমওএইচ। তাঁর রিপোর্টের ভিত্তিতে স্বাস্থ্যদপ্তর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ।
রাজ্য সরকারের উদ্যোগে করোনার নমুনা পরীক্ষা বাড়ানো হয়েছে। ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে সংক্রমিতের সংখ্যাও। যদিও তাঁদের অধিকাংশেরই উপসর্গ নেই অথবা খুব কম। কোভিড হাসপাতালে না পাঠিয়ে এঁদের নিরাপদে আইসোলেশনে রাখা প্রয়োজনীয় হয়ে উঠছে। তাই চাপ বাড়ছে কোয়ারান্টাইন সেন্টারগুলোতে। মুশকিল আসান করতেই জেলায় জেলায় সেফ হোম বাড়ানোর উদ্যোগ নিল সরকার।
ছবি সৌজন্যে – The Telegraph