বঙ্গসন্তানের তৈরি অ্যান্টেনায় ভর দিয়ে আজ চাঁদে নামবে চন্দ্রযান

অপেক্ষায় রয়েছে সারা দেশ

চন্দ্রে ভর করেই চন্দ্রাভিযান। কথাটা হেঁয়ালির মতো শোনালেও বাস্তব এটাই। হুগলির বাসিন্দা চন্দ্রকান্তের তৈরি করা অ্যান্টেনার সাহায্যেই মহাকাশে পাড়ি দিয়েছে চন্দ্রযান-২। ভারতের ইতিহাসে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যত মাইলফলক, তার সবেতেই জড়িয়ে গেছে এক বা একাধিক বাঙালির নাম। কৃতি বাঙালি বিজ্ঞানীরা ইসরোতে মহাকাশ গবেষণায় ভারতের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। চন্দ্রকান্ত কুমার তাঁদেরই একজন। মহাকাশে চন্দ্রযান-২ রওনা দিলে তার সঙ্গে যোগাযোগ, তার যন্ত্রপাতি বিগড়ে গেলে সেগুলোকে সারিয়ে তোলা – এই সবকিছুর দায়িত্বে এখন চন্দ্রকান্ত।

হুগলির গুড়াপের খাজুরদহ-মিল্কি পঞ্চায়েতের শিবপুরের বাসিন্দা মধুসূদন কুমার কিছু না ভেবেই দুই ছেলের নামে চাঁদ জুড়েছিলেন। কিন্তু আশ্চর্যভাবে দুই ছেলেই যুক্ত হয়ে গেলেন ইসরোর কাজে। বড়ো ছেলে সরাসরি চন্দ্রাভিযানের সঙ্গে যুক্ত। ছোটো ছেলে শশীকান্ত বেঙ্গালুরুতে ইসরোর গবেষণাকেন্দ্রে মাইক্রোওয়েভ নিয়ে কাজ করেন।

কী বিশেষ যন্ত্র বানান তিনি? মহাকাশযানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে যে অ্যান্টেনার প্রয়োজন হয়, সেগুলো তৈরি করার গুরুদায়িত্ব থাকে তাঁর ওপর। মহাকাশে থাকা যানগুলিতে নির্দেশ দিতে, তাদের থেকে বার্তা পেতে, তাদের কোনো অংশ খারাপ হলে তা মেরামত করতে অ্যান্টেনাগুলো কাছে লাগে। চন্দ্রযান-২তে আছে মোট ৭টি অ্যান্টেনা। অরবিটরের সামনে ২টি, পিছনে ২টি, পাশে ২টি অ্যান্টেনা রয়েছে। আরেকটি অ্যান্টেনা থাকছে বিকল্প হিসেবে। এই সবক’টি অ্যান্টেনাই তৈরি করেছেন চন্দ্রকান্ত কুমার।

আজ গভীর রাতে চাঁদে অবতরণ করবে চন্দ্রযান-২ এর বিক্রম ল্যান্ডার। তারই অপেক্ষায় রয়েছে সারা দেশ। সোভিয়েত ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চিনের পর বিশ্বের চতুর্থ দেশ হিসেবে চাঁদের মাটি ছোঁবে ভারত। আর চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে নামবে প্রথম দেশ হিসেবে। 
 

Developed by DXDasia