সফল হল সাবর্ণ সরস্বতীর বহু বছরের মেহনত
দুই বাংলাকে এক সূত্রে বেঁধে রেখেছে ইছামতী নদী। সেই নদী মৃতপ্রায় বিস্তীর্ণ এলাকায়। প্রিয় ইছামতীকে বাঁচাতে এগিয়ে এসেছি্লেন নদিয়া জেলার দত্তপুলিয়ার বাসিন্দা সাবর্ণ সরস্বতী। অবশেষে তাঁর বহু বছরের পরিশ্রমে নৌকো চলাচল শুরু করল ইছামতীর ওপর দিয়ে।
২৬ বছরের সাবর্ণর বড়ো হয়ে উঠেছেন ইছামতীর পাড়েই। বহু মানুষের জীবন-জীবিকা এই নদীর ওপর নির্ভরশীল। ২০০০ সালে বন্যা হওয়ার পর ইছামতী নদীর জলস্তর নামতে শুরু করে। কৃষ্ণগঞ্জ থেকে ভজনঘাট পর্যন্ত বিশাল অঞ্চলে নদী মৃতপ্রায় হয়ে যায়। বাড়তে থাকে কচুরিপানা। নাব্যতা কমে যাওয়ায় মাছের আকাল শুরু হয়। মৎসজীবীরা-সহ বহু মানুষেই রোজগার এবং দৈনন্দিন কাজকর্মে এসে পড়ে বড়ো আঘাত।
সাবর্ণ লক্ষ্য করেছিলেন, চূর্ণী যেখানে ইছামতীর সঙ্গে মিশেছে, সেখানে পাবাখালি রেলব্রিজ তৈরি হওয়ার পর ইছামতীর জলে গতি কমতে থাকে। আশেপাশের প্রায় ১৩০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ৫৫টি গ্রাম থেকে নদীর ব্যাপারে তিনি ব্যাপক তথ্য সংগ্রহ করা শুরু করেন। পরিবেশ দপ্তরেরও দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। পাশাপাশি স্থানীয়দের নিয়ে সাবর্ণ নেমে পড়েন নদী সংস্কারের কাজে।
তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়, দীর্ঘ ১৯ বছর পর অবশেষে ইছামতী নদীর ওই অংশ নৌকো চলাচলের উপযোগী হয়েছে। বিশাল অঞ্চল থেকে সরানো হয়েছে কচুরিপানা। সাবর্ণর উদ্যোগকে প্রশংসা জানিয়েছে বিভিন্ন মহল।
ছবি সূত্র – ফেসবুক