রূপোলী পর্দায় বায়োপিক ফিবার

ভারতীয় ফুটবলের সর্বকালের সেরা পরমব্রথ সত্যেন-প্রজেশ সেন’র বায়োপিকে

একটু কী বড় ঝুঁকি নিয়ে ফেললেন না প্রজেশ সেন। এই সিদ্ধান্তটা নেওয়ার পর তেমন আলোচনাই ঘুরপাক খাচ্ছে সর্বত্র।

২০০৭ সালের ‘চক দে ইন্ডিয়া’কে ঠিক বায়োগ্রাফিক্যাল ছবি বলা যায় না। হকি তারকা মীররঞ্জন নেগির জীবনী হলেও কবির খানের চরিত্রটা ছিল কাল্পনিক। ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের জীবনী নিয়ে বলিউডে ছবি তৈরির ধুম পড়েছে গত পাঁচ বছরে। ২০১২ সালে ‘অথলিট পান সিং তোমার’কে নিয়ে তৈরি ছবি সেভাবে সাড়া ফেলেনি। ঠিক তার পরের বছর ভারতের সর্বকালের অন্যতম সেরা ক্রীড়াবিদ মিলখা সিংকে নিয়ে তৈরি ছবি ‘ভাগ মিলখা ভাগ’ বক্স অফিস কাঁপিয়ে দিয়েছিল। ২০১৪ সালে ‘মেরি কম’ আর ২০১৬ সালে মহম্মদ আজহার উদ্দিনকে নিয়ে ছবি ‘আজহার’। ধোনিকে নিয়ে তৈরি ছবি ‘এম এস ধোনি দ্য আনটোল্ড স্টোরি’র আত্মপ্রকাশ ঘটে। মহম্মদ আজহারউদ্দিনের জীবনী তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি। কিন্তু ধোনি হিট। মাঝে অবশ্য বুধিয়া সিংকে নিয়ে তৈরি ছবি ঘিরে তেমন চর্চা হয়নি। সচিন তেন্ডুলকরের জীবনী নিয়ে তৈরি ছবি মুক্তির অপেক্ষায়। ভারতীয় ক্রিকেটারদের নিয়ে বায়োপিকের বাজার দর ভালই বুঝে গেছেন পরিচালকরা। এতগুলো বায়োপিকের মধ্যে কোথাও ফুটবলারের নাম নেই। এবার এক ফুটবলারের জীবনী নিয়েই ছবি তৈরির ঝুঁকি নিয়েছেন প্রজেশ সেন। এবং কাজটা যে মোটেই সহজ নয়, তা নিশ্চিত বুঝতে পেরেছেন পরিচালক। তাঁর হাত ধরেই ভারতীয় ফুটবল দলের প্রাক্তন অধিনায়ক ভাত্তা পরমব্রথ সত্যেনের কথা রূপোলী পর্দায় দেখতে পাবেন দর্শকরা। ছবির বাজেট দশ কোটি। ছবিতে সত্যেনের ভূমিকায় অভিনয় করতে দেখা যাবে দক্ষিনী সিনেমার জনপ্রিয় মুখ জয়সূর্যকে।

কেরল ফুটবল নিয়ে উন্মাদনা বরাবরের। কিন্তু কেরল ফুটবলের জনপ্রিয়তার সিংহভাগই সত্যেনের হাত ধরে। কেরল পুলিশের হয়ে দু’বার ফেডারেশন কাপ এবং দু’বার সন্তোষ ট্রফি জিতেছিলেন কেরলের এই ফুটবলার। একটা সময় তাঁর পায়ের জাদুতে ভর করেই ভারতীয় ফুটবলে কর্তৃত্ব কায়েম করেছিল কেরল পুলিশের দলটি। ভারতীয় ফুটবলের সর্বকালের অন্যতম সেরা এই সেন্টার ব্যাক মনে করতেন, কোনও ফুটবলার নিজের স্কিল ও টেকনিকের উন্নতি করতে চাইলে তাঁকে অবশ্যই ভিন রাজ্যে গিয়ে খেলতে হবে। গেম রিডিং ও পাসিং দক্ষতার জন্য তিনি নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের কাছে এখনও সমান জনপ্রিয়। একটা সময় কলকাতাতেও খেলতে এসেছিলেন সত্যেন। মোহনবাগান, মহমেডানে খেলেছেন চুটিয়ে। ময়দানের ফুটবল ইতিহাসে এখনও ভিপি সত্যেনের নাম উজ্জ্বল হরফে লেখা।

ভারতীয় ফুটবলের সর্বকালের সেরা চরিত্রগুলোর মধ্যে সত্যেন অন্যতম। খেলা ছাড়ার পর কোচিংয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন তিনি। তবে কোচ সত্যেন একেবারেই সফল হননি। ২০০৬ সালে হতাশাজনিত কারণে আত্মহননের পথ বেছে নেন ভারতীয় ফুটবলের এই জনপ্রিয় চরিত্র। বয়স তখন মাত্র ৪১ বছর।

ভারতীয় ফুটবলের একাধিক চরিত্র নিয়ে তেমন একটা আলোচনা কখনও হয়নি। বায়োপিক তো দূরের কথা। সত্যেনের উপর এই সিনেমা সেক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ নয় কী। পরিচালক প্রজেশ বলছিলেন- ‘সকলে ক্রিকেটারদের কথা বললে ফুটবল তো এ দেশ থেকে উঠেই যাবে। সত্যেন ভারতীয় ফুটবলের সাহসী চরিত্র।’

সেই সাহসী চরিত্রকে নিয়েই দুঃসাহসিক ঝুঁকি নিলেন প্রজেশ সেন।

Developed by DXDasia