তবু, গওহরজানের সঙ্গে রেকর্ডে ধরা ছিল তাঁর হারমোনিয়ামের জাদু
ভাইয়া সাহেব বড় ওস্তাদ। তাঁর এই পরিচিতির আড়ালে লুকিয়ে আছে তাঁর নাম। তিনি হলেন গনপৎ রাও। নিজে গলা সেধে গান করলেও হারমোনিয়ামে সঙ্গত করাতে আর গান বাঁধাতেই তাঁর বেশি ঝোঁক। মজলিশি আড্ডায় গান যখন করেন ওস্তাদরা তখন আমেজ করে খেলিয়ে খেলিয়ে হারমোনিয়াম বাজান তিনি। ঘরোয়া আড্ডায় হামেশাই চলে তাঁর গানের টুকরি পেশ আর হারমোনিয়ামের বিরল জাদু। বড় বড় ওস্তাদরা যেমন এর তারিফ করেন পাশাপাশি ভাইয়া সাহেবের সঙ্গীত জ্ঞানকে সমীহও করেন সকলে। এ হেন ভাইয়া সাহেব গণপৎ রাও রেকর্ডে গলা দেননি। কিন্তু এক বিশেষ কারণেই রেকর্ডবন্দী হল তাঁর এক অসামান্য কীর্তি। তিনি সেবার রাগ সোহিনী-তে একটা গৎ বেঁধেছেন। হারমোনিয়ামে তাঁর চলনও তৈরি করেছেন নিজের মতো করে সোহিনীর কাঠামো বজায় রেখে তাকে রঙদার করেছেন নিজের মতো করে।
আরও পড়ুন
ভুলে গেলে বলে বলে দিও – লালচাঁদ বড়াল
ভাইয়া সাহেবের ঘরোয়া মজলিশে নিয়মিত যাঁদের যাতায়াত ছিল তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন গওহরজান। ভাইয়া সাহেবের মনে হল তাঁর এই সোহিনীর কম্পোজিশানটি গওহরের কণ্ঠেই মানাবে ভালো। সেই হিসেবেই সব আয়োজন হল। রেকর্ডিং স্টুডিওতেও গওহরের সঙ্গে রইলেন গৎপৎ রাও। আপন মেজাজে গওহর জানের সঙ্গে নিজে হারমোনিয়াম বাজালেন। রেকর্ডের লেবেলেও ভাইয়া সাহেবের নাম প্রকাশিত হল। এটাই একমাত্র রেকর্ডিং যার ভেতর দিয়ে ভাইয়া সাহেবের সঙ্গীতজ্ঞান ও হারমোনিয়ামের জাদু উপভোগ করার সুযোগ মিলল গান রসিক শ্রোতার। সেদিনের রেকর্ডিং এর কুশলী কারিগরির দৌলতেই খানিকটা হলেও ভাইয়া সাহেব ধরা রইলেন সঙ্গীত জগতে- এমন কী আজও যা শোনার মতো করে থেকে গেল। থেকে গেল সূক্ষ্ম মেজাজের এক টুকরো স্নিগ্ধতা।