March 30, 2017 | 3:25 PM

ভুলে গেলে বলে বলে দিও – লালচাঁদ বড়াল

গাইতে বসলেন এক আবেগের বশে ধরে ফেললেন সম্পূর্ণ ভিন্ন গান। কলের গানে ধারা রয়েছে ওস্তাদজীর এই বিরল স্বীকারোক্তির মুহূর্ত

বড় বাড়ির গায়ক ছেলে লালচাঁদ বড়াল। বাবার অমতে গানের জগতে এসেছেন। রেকর্ডে গানও দিচ্ছেন ‘কাদের কুলের বউ গো তুমি’ গেয়ে রসিক মহলে বাহবা পাচ্ছেন। তাঁর রেকর্ড বিক্রি হচ্ছে তর তর করে। কুন্তলীন তেলের হেমেন্দ্রমোহন বসুও বোসেজ রেকর্ডে-প্যাথেফোন ডিস্কে তাঁর দুটি টম্পা বন্দি করে রেখেছেন। মাঝে মাঝে লালচাঁদবাবুর ইচ্ছে হয় টুপি পড়ে রাজপোশাকে ছবি তুলতে। তাও করেন আপন খেয়ালে। বড় বড় ওস্তাদ এবং গায়কদের সঙ্গে গান করেন মজলিশের একই আসরে। সে সময় তাঁর ধ্রুপদ পেশের দাপট দেখে অবাক হয় লোকে।

এমনই একদিন রেকর্ড কোম্পানিতে গান দিতে গিয়েছেন। রেকর্ডে গান দেওয়া সে সময় বেশ ঝক্কি-ঝামেলার ব্যাপার। চোঙের মধ্যে মুখ গলিয়ে গান দিতে হত। আর একবারেই তা শুরু ও শেষ করতে হত। কারণ শুরুতেই কথা উঠতে থাকত। এরকম ভাবেই একদিন লালচাঁদ বড়াল গান দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হলেন। গাইবেন যে গান তা মনস্থিরও করে  এসেছেন।

লালমুখো সাহেব গান তোলার জন্য রেডি বলে হাত নেড়ে নির্দেশ দিলেন। লালচাঁদ বড়াল শুরু করলেন গান। এবার তাঁর রেকর্ড করতে হবে ‘তোমার ভালো তোমাতে থাক’। কিন্তু আবেগের বশে ধরে ফেললেন সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা গান। যাঁরা সঙ্গত করছিলেন তাঁরা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলেন। লালচাঁদ বড় ওস্তাদ। ঠিক কায়দা করে নির্ধারিত গানে ফিরলেন ঠিকই কিন্তু বারে বারেই মনে হতে লাগল আবারও গানটা মাঝপথে ভুলে যেতে পারেন। তাই ঠিক গানে ফেরার সময় তিনি প্রাণের তাগিদে আর একটা বিভ্রাট বাঁধালেন। তিনি বেশ আবেগের বশেই সাগরেদদের সুর করে গানের তাল মিলিয়েই বলে বসলেন, ‘ভুলে গেলে বলে বলে দিও’। সাকরেদ’রা কী বলবেন ভেবে পেলেন না। তাঁরা চুপটি করে বাজনা বাজিয়ে গেলেন।

লালমুখো সাহেব সেই বিভ্রাটটিও রেকর্ড করে ফেললেন। লালচাঁদও মুখে কুলুপ দিলেন। তার পর যখন সে গান লোকের ঘরে ঘরে পৌঁছলে দেখা গেল লালচাঁদ গান গাইবার আগেই বলছেন, ‘ভুলে গেলে বলে বলে দিও’।

একেই বলে কলের গানের কলের ঝক্কি।

Developed by DXDasia