তাঁর কাছে হেরেছেন দু-দুবারের সোনাজয়ী ওহ জিনায়েক
ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারি থেকে ক্রমাগত তাঁকে উৎসাহ দিচ্ছিলেন স্ত্রী দীপিকা কুমারী। লক্ষ্যভেদে তিনি বাংলার ‘অর্জুন’, এ কথা প্রমাণ করেই পদক জয়ের আরও কাছাকাছি পৌঁছে গেলেন ভারতের ‘এক নম্বর’ তিরন্দাজ অতনু দাস। পৌঁছে গেলেন প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে। বৃহস্পতিবার সকালের রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে তাঁর কাছে পরাজিত হন দু-দুবারের সোনাজয়ী দক্ষিণ কোরিয়ার ওহ জিনায়েককে। এদিন ‘শ্যুট অফ’ ম্যাচ পকেটে পুরে নেন এই বঙ্গ তনয়।
এদিন যদিও দ্বিতীয় রাউন্ডে অতনুর লড়াইটা সহজ ছিল না। তাই প্রথম সেট থেকেই লড়াই জমে উঠেছিল। তবে ২৬–২৫ ব্যবধানে প্রথম সেট জিতে নেন জিনায়েক। এগিয়ে যান ২–০ ব্যবধানে। এরপর অবশ্য দ্বিতীয় ও তৃতীয় সেট দুটি ড্র হয় ২৭–২৭ পয়েন্টে। তাই স্কোর লাইনে ৪-২ তে এগিয়ে যান জিনায়েক। তবে এরপরই দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান বাঙালি সন্তান। ২৭–২২ ব্যবধানে চতুর্থ সেট জিতে সমতা ফেরান। স্কোর দাঁড়ায় ৪–৪। নির্ণায়ক পঞ্চম সেটটিও ড্র হয়। অতনু ও জিনায়েক দু’জনেরই স্কোর তখন ২৮। পয়েন্ট দাঁড়ায় ৫–৫। ম্যাচ গড়াল শ্যুট অফে। জিনায়েক প্রথম শ্যুটে স্কোর করেন ৯। অন্যদিকে ‘পারফেক্ট ১০’ করে শুট অফে ম্যাচ জিতে নেন অতনু দাস। পৌঁছে যান প্রি–কোয়ার্টার ফাইনালে।
এর আগে রাউন্ড অফ থার্টি-টু'য়ে চাইনিজ তাইপেইয়ের ইউ চেং ডেংকে হারান তিনি। এদিন গতবারের রুপোজয়ী হারিয়ে প্রি কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠেন বাংলার তিরন্দাজ। প্রথম সেট জিতে ২–০ ব্যবধানে এগিয়ে যান অতনু। দ্বিতীয় সেট জিতে সমতা ফেরান ডেং ইউ–চেং। তৃতীয় সেট জিতে ৪–২ ব্যবধানে এগিয়ে যান অতনু দাস। পরের সেটে আবার সমতা ফেরান ইউ চেং ডেং। পঞ্চম সেট জিতে ৬–৪ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নেন অতনু দাস। অতনুর পাশাপাশি ভারতের পদক জয়ের আশা জিইয়ে রেখেছেন তাঁর স্ত্রী বাংলার অন্যতম সেরা ‘তিরন্দাজ’ দীপিকা কুমারীও।