লন্ডনে নিলামে উঠছে মুঘল আমলের দু’টি অতি-বিরল চশমা

আকবর, ঔরঙ্গজেব বা শাহজাহান—যে কেউ হতে পারেন চশমা দু’টির মালিক

মুঘলদের আলাদা ফ্যাশন-স্টেটমেন্ট ছিল। পোষাক, গয়না সবকিছুতেই থাকত আভিজাত্যের ছোঁয়া। এবার, লন্ডনে নিলামে উঠছে মুঘল আমলের দু’টি অতি-বিরল চশমা। সম্মিলিত দাম উঠতে পারে ৪৫ লক্ষ পাউন্ড। মুঘল সম্রাট বা শাহজাদাদের মর্যাদার প্রতীক ছিল চশমা। নিলামে ওঠা হিরের চশমাটির নাম আলোর বলয়, পান্নার চশমাটির নাম স্বর্গদুয়ার। সতেরো শতকে এই চশমা কোন মুঘল বাদশা গড়ার অনুমতি দিয়েছিলেন, স্পষ্ট নয়। আকবর থেকে ঔরঙ্গজেব— যে কেউ হতে পারেন। চশমাটি শাহজাহানের হওয়াও সম্ভব। শোনা যায়, স্ত্রী মমতাজ় মহলের মৃত্যুর পর বাদশা নাকি এতই চোখের জল ফেলেছিলেন, দৃষ্টিশক্তি কমে গিয়েছিল। চোখের শুশ্রূষায় পান্নার প্রয়োজন হয়েছিল।

 

হিরেগুলো পাওয়া গিয়েছিল ভারতের গোলকোন্ডার খনিতে। সূক্ষ্ম কারুকাজের দায়িত্ব বর্তেছিল শিল্পীর উপর। ২০০ ক্যারাটেরও বেশি ওজনের হিরের খণ্ড ও অন্তত ৩০০ ক্যারাটের পান্না থেকে চশমার কাচ কাটা হয়! এমন উদাহরণ আর মেলেনি। ১৮৯০-এ রোজ় কাট ডায়মন্ডে সাজানো নতুন ফ্রেম বসে চশমাগুলোয়। আর পান্নার উৎস কলম্বিয়ার মুসো খনি। সাধারণ চশমায় তো শুধু চোখের দেখা শুধরোয়। এই চশমায় নাকি মনের চোখেরও উন্নতি হবে। হিরে উদ্ভাসিত করবে অন্তরকে। আরোগ্যসাধনের ও অশুভ নিবারণের আশ্চর্য ক্ষমতা আছে নাকি পান্নায়। সদবি’জ ইসলামিক ওয়ার্ল্ডের শিল্প-বিশেষজ্ঞ আলেকজান্দ্রা রয় রয়টার্সকে বলেছেন, “এই চশমার পিছনে অনেক গল্প রয়েছে। ১৭ শতকে কলম্বিয়া থেকে পান্নাগুলি পর্তুগিজ বাণিজ্য জাহাজের মাধ্যমে মুঘল সাম্রাজ্যে এসেছিল, মুঘলরা জেমস্টোন খুবই পছন্দ করতেন,”।

আর্টস অব দি ইসলামিক ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড ইন্ডিয়া সেলের অংশ হিসাবে সদবি’জ়-এ নিলামটি হবে ২৭ অক্টোবর।

Developed by DXDasia