বই হল স্বাধীনতার ইস্তেহার, মাতৃভাষার অভিব্যক্তি, কখনও কখনও অস্ত্র… একতার
পৃথিবীর আর সব সভ্যজাত যতই চোখের সংখ্যা বাড়াতে ব্যস্ত, আমরা ত্তই আরব্য উপন্যাসের একচোখা দৈত্যের মতো ঘোঁত ঘোঁত করি, আর চোখ বাড়াবার কথা তুলতেই চোখ রাঙাই। চোখ বাড়াবার পন্থাটা কি? প্রথমত বই পড়া এবং তার জন্য দরকার বই পড়ার প্রবৃত্তি, সৈয়দ মুজতবা আলীর এই কথা কেউ কেউ অনুভব করেন, সকলে নয়। তা না হলে, কেনই বা বই বাজেয়াপ্ত বা নিষিদ্ধ হতে যাবে! ইংরেজ আমল থেকে রাজরোষে বারবার বাজেয়াপ্ত হয়েছে বাংলা বই, লুকিয়ে রাখতে হত ‘ভগবদগীতা’ও, এই প্রবন্ধে সেইসব কথাই বলব।
ইংরেজ আমলে প্রায় সব প্রাদেশিক ভাষার গ্রন্থই রাজরোষে পড়েছিল। বাংলা তার মধ্যে অন্যতম।এ ছাড়া বিদেশে প্রকাশিত অনেক বইপত্র ও পত্রিকা ইস্তেহার এ দেশে পাঠানো ও প্রচারের উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল। ইংরেজ আমলে বাজেয়াপ্ত বইগুলি সমীক্ষা করলে দেখা যাবে, এই তালিকায় সাহিত্যের কোনও ধারাই বাদ যায়নি। প্রবন্ধ, নাটক, কবিতা, উপন্যাস, ছোটগল্প, গান, সবরকম মাধ্যম, বই, ইস্তেহার, সাময়িক পত্রিকা, কার্টুন, আলোকচিত্র।
বাজেয়াপ্ত গ্রন্থের লেখকদের মধ্যে ছিলেনঃ মুকুন্দদাস, সখারাম গণেশ দেউস্কর, গিরিশচন্দ্র, সৈয়দ আবু মহম্মদ ইসমাইল সিরাজী, শরৎচন্দ্র, নজরুল, মানবেন্দ্র রায়, সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, সৌমেন ঠাকুর, সোমনাথ লাহিড়ী, বিজয়লাল চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ লেখক। টলস্টয় লেলিনের লেখা বাংলা অনুবাদ, সান ইয়াৎ সেনের জীবনীও বাদ যায়নি।স্বদেশী আন্দোলনের প্রতি সমর্থনের জন্য একমাত্র যে মুসলমান লেখকের গ্রন্থগুলি নিষিদ্ধ হয়, তিনি হলেন সৈয়দ ইসমাইল সিরাজী, প্রধান কাব্য গ্রন্থটির নাম ‘অনল প্রবাহ’। বাজেয়াপ্ত হয়নি অথচ রাজরোষে পড়েছিল বঙ্কিমচন্দ্রের ‘আনন্দমঠ’, দীনবন্ধুর ‘নীলদর্পন’, রবীন্দ্রনাথের ‘রাশিয়ার চিঠি’, দ্বিজেন্দ্রলালের ‘মেবার পতন’ ‘রাণা প্রতাপ’।
ভারতে এসে এখানকার মানুষদের সঙ্গে আলাপ করে, এখানকার পত্র-পত্রিকা পড়ে, ভারতীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে, ইংরেজ শাসকদের কার্যকলাপ প্রত্যক্ষ করে, এখানকার সংগঠনের সঙ্গে পরিচিত হয়ে, দেশে ফিরে ভারতের দুর্ভিক্ষ সম্বন্ধে একটি ছোট পুস্তিকা লেখেন সান্ডারল্যান্ড। ‘দ্য কজ়েস অব ফ্যামিন ইন ইন্ডিয়া’। নিউ আটলান্টিক মান্থলি পত্রিকায় লেখেন ‘দ্য নিউ ন্যাশনালিস্ট মুভমেন্ট ইন ইন্ডিয়া’ নামে প্রবন্ধ। সান্ডারল্যান্ড প্রথম ভারতে আসেন ১৮৯৫ সালে। ১৯১৩ সালে দ্বিতীয় বার ভারতভ্রমণের পরে তাঁর জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়। ধর্মযাজকের পদে থাকলেও সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন ও অপশাসনের বিরুদ্ধে মুখর হয়ে ওঠেন। ভারতের স্বাধীনতার সমর্থনে লেখেন এক বিস্ময়কর বই ‘ইন্ডিয়া ইন বন্ডেজ: হার রাইট টু ফ্রিডম’। এই বই প্রথমে আমেরিকা থেকে প্রকাশিত হয়। তার পর সান্ডারল্যান্ডের বন্ধু, ‘প্রবাসী’ ও ‘দ্য মডার্ন রিভিউ’-এর সম্পাদক রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় ১৯২৮ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশ করেন বইটি।
১৯২৯ সালে পুলিশ ‘প্রবাসী’ পত্রিকার অফিসে হানা দেয়, ৪৩টি বই বাজেয়াপ্ত করে, রাজদ্রোহের অপরাধে গ্রেফতার হন মুদ্রাকর সজনীকান্ত দাস। রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ও গ্রেফতার হন। তার পর শুরু হয় রাজদ্রোহের মামলা। শেষে সজনীকান্ত ও রামানন্দ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে মুক্তি পান। তখনকার দিনে সান্ডারল্যান্ডের ‘ইন্ডিয়া ইন বন্ডেজ’ ভারতে খুব জনপ্রিয় হয়। কেউ কেউ এমনকী বইটিকে এ দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের বাইবেল বলে অভিহিত করেছিলেন। প্রথম সংস্করণে ২০০০ বই ছাপা হয়েছিল। তা নিঃশেষিত হয়ে গেলে শুরু হয় দ্বিতীয় সংস্করণের কাজ। টনক নড়ে সরকারের। এমনিতেই সে সময় মেরঠ ষড়যন্ত্র মামলা ইত্যাদি ঘটনায় সন্ত্রস্ত ছিল ইংরেজ সরকার। এর মধ্যে সান্ডারল্যান্ডের বই ভারতীয়দের উত্তেজিত করতে পারে ভেবে সরকার বইটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। অর্থাৎ ইংরেজের দ্বারা নিষিদ্ধ হয় একজন ইংরেজের বই।
বঙ্গদেশে নীতিবাদীদের মধ্যে অষ্টাদশ শতকের ভারতচন্দ্রের ‘অন্নদামঙ্গলের’ বিরুদ্ধে অশ্লীলতার ব্যাপক অভিযোগ ওঠে। বুদ্ধদেব বসুর ‘রাত ভোর বৃষ্টি’, ও সমরেশ বসুর ‘প্রজাপতি’র বিরুদ্ধে অশ্লীতার মামলা হয়। অনেক প্রকাশক রাজরোষ আশঙ্কা করে বই ছাপতে রাজি হত না(এখনও সেই রেওয়াজে ভাটা পড়েনি)। এমনকি অতিরিক্ত ভীতিতে পাণ্ডুলিপি পর্যন্ত পুড়িয়ে দেওয়া হত, যা ঘটেছিল বায়রনের ক্ষেত্রে। আর সাহিত্য-জগতের সেই সম্পদের বিনাশে আর্তনাদ করেছিলেন পি বি শেলী।
শাসকদের দৃষ্টিতে অবাঞ্ছিত গ্রন্থের লেখকদের উপর অত্যাচার ও শাস্তি প্রসঙ্গটি আরো একটু বিশেষভাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে।এবারে আমি আলোচনায় উপস্থিত করাবো সেই মনীষীকে, ভক্তিরসে বাঙালি যাঁর জন্য মূর্ছা যেতে বাকি রেখেছেন(?) অথচ, তাঁদের কথা মন দিয়ে উপলব্ধি করার তাগিদ ফুরিয়েছে বলেও ধরে নিতে পেরেছেন। তিনি রবীন্দ্রনাথ।
“আজ সহসা জাগ্রত হইয়া দেখিতেছি, দুর্বলের কোনো অধিকারই নাই। আমরা যাহা মনুষ্যমাত্রেরই প্রাপ্য মনে করিয়াছিলাম তাহা দুর্বলের প্রতি প্রবলের স্বেচ্ছাধীন অনুগ্রহ মাত্র। আমি আজ যে এই সভাস্থলে দাঁড়াইয়া একটিমাত্র শব্দোচ্চারণ করিতেছি তাহাতে আমার মনুষ্যোচিত গর্বানুভব করিবার কোনো কারণ নাই। দোষ করিবার ও বিচার হইবার পূর্বেই যে আমি কারাগারের মধ্যে আপনাকে প্রতিষ্ঠিত দেখিতেছি না তাহাতেও আমার কোনও গৌরব নাই।”
প্লেগ প্রতিরোধের নামে মহারাষ্ট্র প্রচণ্ড দমননীতির সময় চাপেকর ভ্রাতৃদ্বয়ের বুলেটে র্যান্ড ও আয়াস্টের হত্যা(২২ জুন, ১৮৯৭), তার প্ররোচক সন্দেহে তিলকের বিচার ও সাজার সময় দেশবাসীর কন্ঠরোধের জন্য প্রস্তুত হয় ‘সিডিশন বিল’। দেশের সর্বত্র ‘দায়িত্বহীন’ লেখা বন্ধ করাই ছিল এই বিলের উদ্দেশ্য। ১৮৯৮ সালে সেই বিল পাশ হবার ঠিক আগে এর প্রতিবাদ কলকাতার টাউন হলে আহূত জনসভায় রবীন্দ্রনাথ একটি নিবন্ধ পাঠ করেন, যার থেকে উপরের অংশ উদ্ধৃত। মুদ্রাযন্ত্রের স্বাধীনতা ও ব্যাক্তির মতপ্রকাশের বিরুদ্ধে রাজশক্তির নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদের রবীন্দ্রনাথ এভাবেই সোচ্চার হয়েছিলেন।
ভগবতগীতা-র আবার এখন অন্য মানে। তবে, বিষয় হল—বিশ্ববিশ্রুত এই ধর্মগ্রন্থও সরকারের রোষ থেকে অব্যাহতি পায়নি। এ গ্রন্থ অবশ্য বাজেয়াপ্ত হয়নি, কিন্তু পুলিশ বা গোয়েন্দারা তল্লাসীর সময় পেলেই আটক করত। সরকারের পক্ষে ব্যস্ত হওয়ার কারণ ছিল, গীতার কর্মযোগ সে যুগে তরুণদের অনুপ্রাণিত করেছিল। ভারতে বৈপ্লবিক আন্দোলন ও মুক্তিসংগ্রামে গীতা অপরিসীম প্রভাব ফেলেছিল। সে যুগে নাকি গীতা পাঠ ছিল বিপ্লবীদের পক্ষে আবশ্যিক। মৃত্যু পথ-যাত্রী বীর ক্ষুদিরামও দৃঢ় কন্ঠে বলেছিলেন, “আমি গীতা পড়েছি, মৃত্যুকে ভয় অরি না।” রাজনৈতিক হত্যাকে সাধারণ খুনের থেকে ভিন্ন বস্তু, আদর্শকৃত্য বলে ভাববার মানিসিকতা দিয়েছিল। এ প্রসঙ্গে প্রাসঙ্গিক একটি মন্তব্য তুলে ধরলেই বোঝা যাবে, “Bhagabat Gita was listed by police as a highly seditious literature and cases were not rare the sacred book of hindus was taken by police in course of search for dangerous weapons and seditious literature.”
শুধুমাত্র বিপ্লব বা মুক্তি আন্দোলনে সরাসরি প্ররোচনাদানকারী বইপত্রই রাজরোষে পড়েনি, বিপ্লবীদের জীবনী এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক ঘটনার বিবরণ সম্বলিত বইপত্রও বাজেয়াপ্ত হয়েছে। ভারতের অতীত গৌরবের পটভূমিতে লেখাও রাজরোষে পড়েছে। বাজেয়াপ্ত হয়েছে রবীন্দ্রনাথ, তিলক, গান্ধীজী সম্পর্কে লেখাও। ক্ষেত্রবিশেষে হাস্যকর কারণেও বইপত্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বারবার। দেশাত্মবোধক বইপত্রের বিরুদ্ধে অভিযানে সরকারের অতি উৎসাহ বা অস্বাভাবিক তৎপরতার দরুনই তা ঘটেছিল। একটি দৃষ্টান্ত দেওয়া যাক, ১৯৩৫ সালে ফরিদপুরে ‘রক্তচক্ষু’ নামে একটি উপন্যাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অথচ বইটিতে আপত্তিকর কিছু ছিল না। এটি এডগার ওয়ালেসের ‘দি ক্রিমসন সারকেল’ থ্রিলারের অনুবাদ। বইটির প্রচ্ছদে ছিল লাল শাড়ী পরিহিতা একটি মেয়ে, তার হাতে উদ্যত পিস্তল, ছবির চারধারে লাল বর্ডার। ফরিদপুর জেলার জজ শৈবাল গুপ্ত পুলিশের নির্বুদ্ধিতার কথা জেলাশাসক পোর্টারকে বলেন। পোর্টার এই ঘটনা শুনে হেসে পুলিশের কাজের সাফাই দিয়ে বলেন, “The picture was suggestive and it might ‘give ideas’ to young boys and girls and turn them as revolutionaries.”
কমিউনিস্ট পার্টির বই ছেড়েই দিলাম, আস্ত কমিউনিস্ট পার্টিটাই পশ্চিমবঙ্গে ‘বে-আইনি’ হয়ে গিয়েছিল। বে-আইনি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পার্টির দপ্তর এবং ‘স্বাধীনতা’ পত্রিকা বন্ধ হয়ে গেলেও পার্টির বইয়ের দোকান ‘ন্যাশনাল বুক এজেন্সি’র ওপর সরকারের তরফ থেকে সেই বছর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি। কিন্তু, পরের বছরই সরকারের খেয়াল হয় এবং এন.বি.এ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এভাবে তো আর দমিয়ে রাখা যায় না ! ফলত, ‘নিউ পাবলিশার্স’ নামে একটি প্রকাশনী সংস্থা গড়ে ওঠে ৬ নং বঙ্কিম চ্যাটার্জি স্ট্রিট, কলকাতা-১২, এই ঠিকানায়। এ ছাড়া সোভিয়েত বইপত্র আমদানির জন্য ম্যাডান স্ট্রিটে ‘কারেন্ট বুক ডিসট্রিবিউটার্স’। সেই সময়ে বিভিন্ন নামে কয়েকটি পত্রিকা কমিউনিস্ট পার্টির বেনামে প্রকাশিত হত। যেমন- খবর, নূতন খবর, নূতন সংবাদ প্রভৃতি। ‘নূতন সংবাদ’-এর শারদীয় সংখ্যার সম্পাদনা করেছিলেন সুভাষ মুখোপাধ্যায় এবং বিনয় ঘোষ। কবি সুভাষের ‘অগ্নিকোণ’ কবিতাটি প্রথম ছাপা হয়েছিল এই সংখ্যায়। উল্লেখ্য, এইসব পত্র-পত্রিকার মধ্য দিয়েই গড়ে উঠেছিল পার্টির এক বৃহৎ লেখক ও সাংবাদিক গোষ্ঠী। এঁদের মধ্যে ছিলেন রমেন ব্যানার্জি, সুনীল সেনগুপ্ত, অধীর চক্রবর্তী, সুধাংশু দাশগুপ্ত প্রমুখ।
বইপত্রের উপর এরকম সংঘবদ্ধ বেসরকারী আক্রমন অন্যান্য দেশের মতো ভারতে নকশাল আন্দোলনের সময়, বিশেষ করে ১৯৭০-১৯৭৩ সালে, বহু মনীষী, লেখকের আলোকচিত্র, প্রতিকৃতি, মূর্তিও নষ্ট করা হয়েছিল। স্কুল-কলেজে, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন পাঠাগারে চলে এই হামলা।এখনও আমরা এই উদাহরণ(তসলিমা নাসরিন, মলয় রায়চৌধুরি, সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়, ভারভারা রাও প্রমুখ) দেখতে পাই। স্বাধীন চিন্তার ধবংস সাধনের এই মনোভাবের বিরুদ্ধে ১৯৫৫, ১৪ জুন ডটিমাউট কলেজে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আইসেনহাওয়ার এক ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন। সেটি পঠন-পাঠনের ও অবাধ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে এক মূল্যবান দলিল। তিনি বলেছিলেন “লাইব্রেরিতে গিয়ে কোন বই পড়তে ভীত হয়ো না, যতক্ষণ পর্যন্ত না তোমার ব্যক্তিগত শালীনতার আদর্শকে ক্ষুণ্ণ করছে। তোমার শালীনতার আদর্শই তোমার পক্ষে একমাত্র সেন্সরনীতি।”
যে শালীনতার কথা আইসেনহাওয়া উল্লেখ করেছিলেন, তা আক্ষরিক অর্থে শালীনতা নয়, তা চেতনা বা মুক্তচিন্তা। একজন লেখক, সে কী লিখবে? এই পৃথিবীতে ‘শালীনতা’ যখন একটা মিথ, রূপকথার গল্প বৈ অন্য কিছু নয়, তখন ‘শালীনতা’ বলতে আমরা কি বুঝবো? তখন লেখকের কলমে ‘অশ্লীলতা’ অর্থাৎ সত্যিটা ছাড়া আর কীই বা উঠে আসবে! আর এই(প্রতিবাদের) ভাষা তো নীতিপুলিশ বা রাজরোষে পড়বেই, এ অবধারিত, চিরকালীন। বই হল স্বাধীনতার ইস্তেহার, মাতৃভাষার অভিব্যক্তি, কখনও কখনও অস্ত্রও…একতার। তাই লোপাট করা, নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া, ভয় দেখানো, শিক্ষা-সাহিত্যের নির্মম খুন, এ ছাড়া আর কোনও পথ খোলা থাকে না আখের গোছানো মুখোশধারী প্রকৃত ‘Traitor’ বা ‘দেশদ্রোহী’দের কাছে।
সহায়ক গ্রন্থঃ
ব্রিটিশ শাসনে বাজেয়াপ্ত বাংলা বই, শিশির কর