মধ্যবিত্ত এবং অবহেলিত মানুষের রোজনামচা সৌরজিৎ পালের ফটোগ্রাফিতে

বঙ্গদর্শনের গ্যালারিতে সৌরজিৎ পালের ফটোগ্রাফি

লকডাউন এই পৃথিবীকে শিখিয়েছে বেঁচে থাকার সংজ্ঞা। গৃহবন্দি যাপনে যখন অনেককেই একাকিত্ব গ্রাস করছে, ঠিক সেই মুহূর্তে আপন হয়ে যাচ্ছে ঘরে পড়ে থাকা খুব ছোটো ছোটো জিনিস। মানুষ নতুন করে ভাবতে শিখেছে, নিজেকে চিনতে শিখেছে। আজ ছবিমহলে তেমনই কিছু গৃহবন্দি ছবি। যে ফ্রেমগুলি নিজস্ব স্বভাবে উড়তে জানে। 

সৌরজিৎ পাল। বিটেক আইটি’র দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। কয়েকবছর ধরে তিনি ফটোগ্রাফি নিয়ে চর্চা করছেন। তাঁর ভালো লাগে দৈনন্দিন জীবনের খুঁটিনাটি ফ্রেমবদ্ধ করে রাখতে। 

সৌরজিতের মতে, "ফটোগ্রাফি মাধ্যমের মধ্যে দিয়ে মুহূর্ত এবং স্মৃতিকে খুব সহজে সংরক্ষণ করা যায়। বিশ্বের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর আচার-অনুষ্ঠান প্রথা, উৎসব সম্বন্ধে আমি নিজেও জানতে পারি। সর্বোপরি ভাষায় অব্যক্ত ভাবধারাকে ভিস্যুয়াল এলিমেন্টস-এর মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলবার উপকারিতা আমাকে প্রবলভাবে আকর্ষণ করে।"

ডক্যুমেন্টারি ঘরানার ফটোগ্রাফির মাধ্যমে দর্শককে তিনি প্রান্তিক এবং অবহেলিত জনগোষ্ঠীর মানুষের জীবনযাপন সম্বন্ধে অবগত করার চেষ্টা করেন। চেষ্টা করেন তাঁদের নিত্যনৈমিত্তিক জীবনের রোজনামচা আরও পাঁচটা মানুষের কাছে ছড়িয়ে দিতে।

নির্দিষ্ট কোনও বার্তা নেই সৌরজিতের ছবিতে। ফটোগ্রাফি যে রহস্য তৈরি করে, তা দর্শক নিজের মতো করে উদঘাটন করুক। এই মুক্ত পরিবেশ যেকোনো শিল্পেই থাকা উচিত। 

সৌরজিৎ বলেন, “একজন স্বাধীন আলোকচিত্রী হিসাবে জনসাধারণের সামনে পক্ষপাতহীনভাবে সমকালীন আর্থসামাজিক পরিবেশ এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরাই আমার কর্তব্য।”

শিল্পীদের দেখার চোখ ভিন্ন। দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক বিশৃঙ্খলতা এবং দিনের শেষে মধ্যবিত্ত মানুষের স্বপ্ন দেখার বিলাসিতাকে প্রশ্রয় দেওয়ার জন্য কিছু ক্ষেত্রে অধিবাস্তববাদী ভাবধারার সংমিশ্রণ ঘটান এই তরুণ আলোকচিত্রী।
 

আলোকচিত্রীঃ সৌরজিৎ পাল
 

Developed by DXDasia