প্রায় পাঁচ হাজার শিল্পীর অংশগ্রহণে শুরু হল বাংলা সঙ্গীত মেলা ২০২৪-২৫

কলকাতার ১০টি জায়গায় চলছে সঙ্গীত মেলা

লকাতাকে বলা হয় ভারতের সাংস্কৃতিক রাজধানী। বিশেষত শীতকালে শহরের চারপাশ মুখরিত হয়ে ওঠে নানান সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে। গান তার ব্যতিক্রম নয়। অন্যান্য বছরের মতোই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে শুরু হচ্ছে বাংলা সঙ্গীত মেলা ২০২৪-২৫। ২ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে রাজ্য সঙ্গীত মেলা, চলবে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত, প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে। কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় যেমন রবীন্দ্র সদন, একতারা মুক্তমঞ্চ, শিশির মঞ্চ, হেদুয়া পার্ক, মহাজাতি সদন, রাজ্য সঙ্গীত আকাদেমি মুক্তমঞ্চ, মধুসূদন মুক্তমঞ্চ, ঋষি অরবিন্দ পার্ক (নেতাজিনগর), মোহরকুঞ্জ এবং দেশপ্রিয় পার্কে অনুষ্ঠিত হবে বাংলা সঙ্গীত মেলা। এছাড়া শতবর্ষ শ্রদ্ধাঞ্জলি উপলক্ষে গগনেন্দ্র শিল্প প্রদর্শশালায় অনুষ্ঠিত হবে উৎপলা সেন, সুচিত্রা মিত্র, ছবি বন্দ্যোপাধ্যায়, কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর তথ্যভিত্তিক প্রদর্শনী (দুপুর ২টো থেকে রাত ৯টা)।

কলকাতা ছাড়াও এই মেলায় গান গাইছেন বিভিন্ন জেলার প্রবীণ-নবীন শিল্পীরা। এমনকি পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত জেলার লোকশিল্পীরা অংশগ্রহণ করছেন। জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার আয়োজিত বিভিন্ন সঙ্গীত প্রতিযোগিতা ও কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী প্রতিভাবান নবীন শিল্পীরাও এই মেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন।

এদিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জমজমাট হয়ে উঠেছিল রবীন্দ্র সদন চত্বর। শ্রীখোল বাদনের মাধ্যমে জমে উঠে বাংলা সঙ্গীত মেলা কার্টেন রেজার অনুষ্ঠান। আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করেন রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের মন্ত্রী তথা সংগীতশিল্পী ইন্দ্রনীল সেন-সহ অন্যান্য খ্যাতনাম সঙ্গীত শিল্পীরা। সাংবাদিক বৈঠকে ইন্দ্রনীল সেন জানান, ২০১১ সালের পর থেকে বাংলা সঙ্গীত মেলাকে মুখ্যমন্ত্রী যে পর্যায়ে নিয়ে গেছেন, তা নিয়ে খুশি সকল সঙ্গীতশিল্পী। মোট ১০টি জায়গায় সঙ্গীত মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এছাড়া জেলায় চারটি জায়গায় অনুষ্ঠিত হবে। অংশগ্রহণ করবেন বাংলার পাঁচ হাজার সঙ্গীতশিল্পী ও যন্ত্রশিল্পী। ইন্দ্রনীল সেন বলেন, “আমি দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি ২০১১-এর পর থেকে আজ পর্যন্ত তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর কোনো দিন টাকা পয়সা নিয়ে অনুষ্ঠান করে না। যতদিন আমি থাকব কোনো সঙ্গীত শিল্পীর থেকে এক টাকা নেওয়া হবে না।”

 

গানের সুরে পুরোনো বছরকে বিদায় জানানো আর নতুন বছরের আবাহন। প্রত্যেক শীতে কলকাতার অন্যতম আকর্ষণ এই সঙ্গীত মেলা। কলকাতা ছাড়াও এই মেলায় গান গাইছেন বিভিন্ন জেলার প্রবীণ-নবীন শিল্পীরা। এমনকি পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত জেলার লোকশিল্পীরা অংশগ্রহণ করছেন। জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার আয়োজিত বিভিন্ন সঙ্গীত প্রতিযোগিতা ও কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী প্রতিভাবান নবীন শিল্পীরাও এই মেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন।

বাংলা সঙ্গীত মেলা উপলক্ষে রবীন্দ্র সদন-নন্দন চত্বরে বেশ কয়েকটি অস্থায়ী স্টল তৈরি করা হয়েছে। যেখানে সঙ্গীত-বিষয়ক গ্রন্থ, রকমারি হস্তশিল্পের প্রদর্শনী ও বিক্রয়ের ব্যবস্থা থাকছে। সেই সঙ্গে থাকছে নানান খাবারের স্টল। প্রত্যেকটি মঞ্চে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেখা যাচ্ছে সমগ্র অনুষ্ঠান। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আগামী ১৫, ১৬ এবং ১৭ তারিখ শাস্ত্রীয় সঙ্গীত মেলা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে অংশগ্রহণ করবেন পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়ার মতো কিংবদন্তিরা। ২২ জানুয়ারি থেকে চিলড্রেনস ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত হবে। আবার যাত্রা একাডেমিকে নিয়ে যাত্রা উৎসবও শুরু হবে সম্প্রতি।
 

Developed by DXDasia