বিশ্ব গলফের ইতিহাসে নজির গড়লেন বাংলার ছেলে অনির্বাণ লাহিড়ী

টুর্নামেন্টে সাড়ে ১৬ কোটি টাকা পুরস্কার পেলেন রানার্স আপ অনির্বাণ

বিশ্বের দরবারে বাঙালির স্বীকৃতি এই প্রথম নয়, এই তো গত সপ্তাহেই ঝুলন গোস্বামীর ক্রিকেট বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের নজির এখনও আমাদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। এরই মাঝে এলো মার্কিন মুলুকে আর এক বাঙালির স্বীকৃতির খবর।

চলতি সপ্তাহে অনির্বাণের বিশ্ব ব়্যাঙ্কিং ছিল ৩২২। সেখান থেকে একের পর এক দক্ষ স্ট্রোক দিয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন একেবারে প্রথমের সারিতে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পন্টে ভেদ্রা (Ponte Vedra) বিচে ইতিহাস গড়লেন বাংলার অনির্বাণ লাহিড়ী (Anirban Lahiri)। মাত্র একটি স্ট্রোকের জন্য আমেরিকান প্লেয়ার্স চ্যাম্পিয়নশিপে (American Players Championship) জয় হাতছাড়া করলেন ভারতীয়। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পুরস্কার মূল্যের টুর্নামেন্টে রানার্স হয়েই খুশি থাকতে হল তাঁকে। প্রতিযোগিতার পুরস্কার বাবদ অনির্বাণ পেলেন সাড়ে ১৬ কোটি টাকা। ফাইনাল রাউন্ডে থ্রি-আন্ডার পার সিক্সটি নাইন মেরে চ্যাম্পিয়ন ক্যামেরন স্মিথের থেকে মাত্র এক শট পিছনে খেলা শেষ করেন তিনি।

সারা বিশ্বে গলফের চারটি মেজর টুর্নামেন্টের মধ্যে না-পড়লেও যথেষ্ট ঐতিহ্যশালী এই টুর্নামেন্ট। চলতি সপ্তাহে অনির্বাণের বিশ্ব ব়্যাঙ্কিং ছিল ৩২২। সেখান থেকে একের পর এক দক্ষ স্ট্রোক দিয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন একেবারে প্রথমের সারিতে। শেষ পর্যন্ত জয় আসেনি ঠিকই কিন্তু তাঁর এই অসামান্য খেলা সহজেই দাগ কেটে যেতে পেরেছে অসংখ্য গলফ প্রেমী মানুষের মনে।

এর আগে টাইগার উডস, গ্রেগ নরম্যানের মতো বিখ্যাত গলফাররা এই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। তবে বাঙালি হিসেবে এই প্রথম রেকর্ড গড়েছেন অনির্বাণ। টানা দু’বছর ভালো খেলতে না পারলেও এবছর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্যেই মাঠে নেমেছিলেন তিনি। একজন প্রকৃত খেলোয়াড়ের সবথেকে বড়ো গুণ হল তার বিনয় এবং তার জেদ। সেই দিক দিয়েও অনির্বাণ যেন সেরা হয়ে রইলেন। নিজেই অকপটে জানিয়েছেন কিছু ভুল ত্রুটির কথা। সেগুলো শুধরে নিয়ে পরের বার আবার লক্ষ্য পূরণে নামবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। 

অনির্বাণ লাহিড়ী, নামটা আজ শুধু বাংলার মানুষের কাছে নয় পাশাপাশি বিশ্ব গলফের ইতিহাসেও এক মাইলফলক। একজন ভারতীয় পেশাদার গলফ খেলোয়াড় হিসেবে তিনি বর্তমানে ইউরোপীয় ট্যুর, এশিয়ান ট্যুর এবং পিজিএ ট্যুরে খেলেন। আজকের এই  আমেরিকান প্লেয়ার্স চ্যাম্পিয়নশিপের স্বীকৃতি যেন নয়া পালক যোগ করেছে তাঁর মুকুটে। কিন্তু সাত বছরের গলফ জার্নিতে ফিনিশিং লাইন পেরোতে না পারার আফসোস তাঁকে প্রতিনিয়ত তাড়া করে বেরোবে। যদিও এই ইচ্ছাশক্তি আর জেদই যে একদিন অনির্বাণ লাহিড়ীকে আরও নতুন লক্ষ্য পূরণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে পারবে এ বিশ্বাস বাঙালির মননে আজ চিরস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। 

Post Tags
Developed by DXDasia