দ্য লিভিং লেজেন্ড শ্রীধর দাস : বঙ্গদর্শন নির্মিত একটি তথ্যচিত্র
শ্রীধর দাস (Sridhar Das)। চন্দননগরের আলো বলতেই যাঁর নাম সবার আগে উঠে আসে, তিনি সেই চন্দননগর-আলোর জন্মদাতা দ্য লিভিং লেজেন্ড শ্রীধর দাস। শুধু বাংলা বা দেশ নয়, বিদেশেও পাড়ি দিয়েছে শ্রীধরবাবুর সূক্ষ্ম হাতের কারুকার্যে ফুটে ওঠা আলো। কখনও কলকাতার হাওড়া ব্রিজ, কখনও প্যারিসের আইফেল টাওয়ার। স্কুলের গণ্ডি পেরনোর আগেই প্রথম আলোর দিকে ঝোঁকেন এই ৮১ বছরের কিংবদন্তি।
টুনি বা এলিডি আসেনি তখন, শ্রীধরবাবু চন্দননগরে প্রথম নিয়ে এলেন টর্চের ল্যাম্প দিয়ে তৈরি আলো। আলো যেন দৌড়চ্ছে! চন্দননগর বাসী হতবাক একইসঙ্গে মুগ্ধ হয়ে দেখলেন সে আলোর কারসাজি। কলেজ স্কোয়ার দুর্গাপুজো তো বটেই, তারও আগে নিজের পাড়া চন্দননগরের কলুপুকুর-এ করলেন জলের নিচে আলো। নিজেকে বাজি রাখতে এক পা-ও পিছোননি তিনি। ছিল শুধু জেদ আর কিছু করে দেখানোর অদম্য ইচ্ছে। শ্রীধর দাস আসলে সেই ইচ্ছেপূরণের অন্য নাম।
ব্রিটিশরা দীর্ঘ দীর্ঘ বছর অত্যাচার করে গিয়েছে ভারতীয়দের। সেই ব্রিটেনে গিয়েই আলো তৈরি করে প্রতিনিধিত্ব করেন ভারতীয় তথা বাঙালিদের। তাঁর আলোকসজ্জায় স্তম্ভিত হয়ে গেল ইংল্যান্ড ও লন্ডনবাসী। তাঁর কাছে এটাই অত্যাচারের যোগ্য জবাব। আজও টেমসের সেই ফেস্টিভ্যালে জ্বালানো হয় শ্রীধর দাসের তৈরি করা আলো।
শ্রীধরবাবু চন্দননগরে প্রথম নিয়ে এলেন টর্চের ল্যাম্প দিয়ে তৈরি আলো। আলো যেন দৌড়চ্ছে! চন্দননগর বাসী হতবাক একইসঙ্গে মুগ্ধ হয়ে দেখলেন সে আলোর কারসাজি। কলেজ স্কোয়ার দুর্গাপুজো তো বটেই, তারও আগে নিজের পাড়া চন্দননগরের কলুপুকুর-এ করলেন জলের নিচে আলো।
বাংলা থিয়েটারের মঞ্চে আলোর জাদুকর তাপস সেন ছিলেন শ্রীধর দাসের যৌবনকালের বন্ধু৷ একসঙ্গে কত কত ট্যুর করেছেন বিদেশে। আলোর এই যৌথ যাপনে পৃথিবী একদিন মত্ত হয়েছে। সে বন্ধুত্বের কথা আজও অকপটে স্বীকার করেন তিনি।
মস্কো, ব্রিটেন, আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ইতালি, পৃথিবীর কত দেশ আলোকিত করে রেখেছে শ্রীধর দাসের হাতের শিল্প। আজও সেইসব চিহ্ন বহন করে তাঁর এই ঘর। চার দেওয়াল জুড়ে কত কত স্মৃতি আর খ্যাতির চিহ্ন, যা বাঙালির অহংকার। বার্ধক্য জনিতে কারণে নিজের হাতে আলো গড়তে না পারলেও, উত্তরসূরিরা তাঁর পরামর্শ পেতে অপেক্ষায় থাকেন। তবে আক্ষেপ ঝরে পড়ে শ্রীধরবাবুর গলায়৷
শেষবার দ্বিতীয় হুগলি সেতুর আলো তৈরি করার জন্য ডাক পড়েছিল তাঁর। চন্দননগরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে জগদ্ধাত্রী পুজো আর আলোকসজ্জা। চন্দননগরবাসী আজও স্বীকার করে নেন, শ্রীধর দাসের কোনো বিকল্প নেই।
_____
পরিচালনা ও চিত্রনাট্য: সুমন সাধু
চিত্রগ্রহণ: মৌনী মণ্ডল
সম্পাদনা: তথাগত চৌধুরী
কৃতজ্ঞতা স্বীকার: সৌম্য গুহ মল্লিক, সম্রাজ্ঞী রায়, সন্দীপ কুমার, বিবিসি, হিন্দুস্তান রেকর্ডস