রূপকথা থেকে রাজনীতি, ছোটোদের মনে বিকল্প ভাবনা গেঁথে দিয়েছিল ‘রংমশাল’

রবীন্দ্রনাথের ‘সে’-এর একটি অধ্যায় দিয়ে শুরু হয় এর যাত্রা

স্পেনের সিভিল ওয়ার, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, পারমানবিক ধ্বংসলীলা চলছে। তারই পাশাপাশি চলছে দুর্ভিক্ষ, মহামারি ও দাঙ্গা—ধাঙড় ও ট্রাম ধর্মঘট, রশিদ আলি ও ভিয়েতনাম দিবসে ছাত্র-হত্যার ঘটনা, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের উত্তুঙ্গ অধ্যায়। ভয়াবহ যুদ্ধ, নড়বড়ে সামাজিক পরিকাঠামো, অসংখ্য মৃত্যু সবচেয়ে বেশি আঘাত করছিল শিশুমনে। মানব-সভ্যতার এই নিদারুণ সংকট-পর্বে বারো বছর ধরে জ্বলেছিল কিশোর-পত্রিকা ‘রংমশাল’। কোন আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে, কারা এই কিশোর-পত্রিকাটিকে সামাজিক ইতিহাসের অন্যতম দলিলের মর্যাদা দিয়েছিলেন?

‘দুর্যোগের ঘন অন্ধকার’-কে কোনো ছদ্ম আবরণে আড়াল না করে অধ্যাপক খগেন্দ্রনাথ সেন (পরবর্তী কালে আশুতোষ কলেজের অধ্যক্ষ) প্রতিষ্ঠা করেন ‘রংমশাল’ পত্রিকা। তখন বাংলা শিশুসাহিত্যে ‘মৌচাক’, ‘শিশুসাথী’, ‘রামধনু’, ‘মাসপয়লা’ ইত্যাদির যথেষ্ট নামডাক। অন্যদিকে, একেবারে অচেনা নতুন লেখকদের কোনো গোষ্ঠী নিয়ে শুরু হয়নি রংমশাল। কিন্তু নির্দিষ্ট লক্ষ্য আর আদর্শই সময়ের সঙ্গে সংগতি রেখে তার বিবর্তনের পথে সহায়ক হয়ে উঠেছিল। ১৯৩৬-এ রবীন্দ্রনাথের ‘সে’-এর একটি অধ্যায় দিয়ে রংমশাল-এর যাত্রা শুরু হয়। অচলায়াতন শিক্ষাব্যবস্থা-র তোতাকাহিনীর বিরুদ্ধে জেহাদ। শৃঙ্খলার শৃঙ্খলকে অস্বীকার করতে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে অবনীন্দ্রনাথকেও পেয়েছিল রংমশাল। যুদ্ধের উত্তাপ তখনো লাগেনি। 'সে'-র রবীন্দ্রনাথই তিন বছরের মধ্যে রংমশাল-এর পাতায় নববর্ষকে স্বাগত জানাতে যখন কলম ধরছেন, কিশোররা তখন রাতারাতি বড় হয়ে উঠছে। ‘সভ্যতার সংকট’-এর রচয়িতাকেই চিনিয়ে দেয় ছত্রগুলিঃ

নব বর্ষ এলো আজি দুর্যোগের ঘন অন্ধকারে,

আনে নি আশার বাণী, দেবে না সে করুণ প্রশয়,

প্রতিকূল ভাগ্য আসে হিংস্র বিভীষিকার আকারে,

তখনি সে অকল্যাণ যখনি তাহারে করি ভয়।

–নববর্ষ, বৈশাখ, ১৩৪৬।‘রংমশাল’ নামটি নিয়ে বিভ্রান্তি হতে পারে, তাই বলে নেওয়া প্রয়োজন, ‘রংমশাল’ নামে একটি সংকলন-গ্রন্থ প্রকাশিত হয় ১৯২০-তে। প্রেমাঙ্কুর আতর্থী ও চারুচন্দ্র রায় ছিলেন তার সম্পাদক। একই বছরে ওই নামেই বাংলার প্রথম দীর্ঘায়ু বার্ষিক পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়। প্রথম সম্পাদক মোহনলাল গঙ্গোপাধ্যায়। আমার আলোচ্য, মাসিক কিশোর-পত্রিকা রংমশাল, ১৩৪৩ (১৯৩৬)-এর কার্তিক থেকে অভিযান শুরু করে। খগেন্দ্রনাথ সেনের পর পত্রিকাটির বারো বছরের জীবনে চারবার সম্পাদক বদল হয়েছে। প্রথম পর্বে প্রেমেন্দ্র মিত্র, হেমেন্দ্রকুমার রায়, সতীকান্ত গুহ ও তারপরে আরেকবার হেমেন্দ্রকুমার হাল ধরেন। আর শেষ পর্বে, প্রায় চার বছর কামাক্ষীপ্রসাদ ও দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় ভ্রাতৃদ্বয় পত্রিকাটির দায়িত্ব নেন এবং কিছু দুঃসাহসিক কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলেন।

কামাক্ষীপ্রসাদ ও দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের ছাত্র ও শ্রমিক রাজনীতি সম্বন্ধে আরো খোলা দৃষ্টিভঙ্গি ছিল। সাম্প্রদায়িকতা ও প্রাদেশিকতার সঙ্গে যুঝতে তাঁরা গড়ে তোলেন ‘রংমশাল কিশোর-সংঘ’, যা কালক্রমে ‘শান্তি বাহিনী’র আদর্শের সঙ্গে মিলেমিশে যায়। ভিয়েতনাম ও রশিদ আলি দিবসে নিহত শহিদদের নামগুলি যেমন রংমশালের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছিল, তেমনই রশিদ আলি দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত কবিতা সংকলন ‘ঘুম তাড়ানি ছড়া’-রও সূত্রপাত হয় এই পত্রিকাতেই। বাংলা পত্রিকার মধ্যে সর্বপ্রথম ‘সুকুমার রায়’ সংখ্যা প্রকাশ, রবীন্দ্রনাথের নামে প্রথম সাহিত্য-পুরস্কার প্রবর্তনের সম্মানও তাঁদেরই প্রাপ্য। সম্পাদকীয় নীতি রূপায়ণের দৃষ্টিকোণ পরিবর্তন সত্ত্বেও অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রেমেন্দ্র মিত্র, বুদ্ধদেব বসু, শিবরাম চক্রবর্তী, সুকুমার দে সরকার ও কামাক্ষীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় প্রমুখই শুধু লিখতেন এমনটা নয়, আদর্শের মূল ধারাটিও সেখানে ছিল অক্ষুণ্ণ।‘ছোটরা আর তত ছোট নেই’—এই উপলব্ধিই বারবার নতুন শিশু বা কিশোর-পত্রিকার জন্ম দিয়েছে। ‘সখা’ থেকে ‘বালক’ অবধি, ধর্মীয় ও নীতিশিক্ষার অনুশাসনে বিদ্ধ উনিশ শতকের পত্রিকাগুলি ছড়ি-হাতে গুরুমশাইয়ের ভিন্ন সংস্করণ হলেও, কথাটি সে-যুগের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বুদ্ধদেব বসুর কথায়, ‘সন্দেশ’ বাংলা শিশুসাহিত্যে যে স্বর্ণযুগের প্রবর্তন করে, তারই কালোপযোগী বাহক হয়ে দাঁড়িয়েছিল রংমশাল। রংমশাল-এর ইতিহাসে শেষ দুটি বছরের আর একটি স্মরণীয় ঘটনা শিল্পী সত্যজিৎ রায়ের হাতে পত্রিকাটির সর্বাঙ্গীণ অলংকরণ। নিজে ‘সন্দেশ’-এর ভার গ্রহণের আগে সত্যজিতের সঙ্গে কিশোর-পত্রিকার এই একমাত্র যোগসূত্রের কাহিনী নিয়েও আজ আর আলোচনা হয় না। রংমশাল-এর দু-বছরের প্রচ্ছদ রচনা ও অলংকরণের কাজ ছাড়াও, ‘সুকুমার রায়’, ‘স্বাধীনতা’ ও ‘গান্ধীজী’—এই তিনটি বিশেষ সংখ্যার রূপকার তিনি।রংমশাল তার মোট বারো বছরের ইতিহাসে এমন অনেক লেখা প্রকাশ করেছিল, যা এখনও অসামান্য মূল্যবান দলিল হিসেবে গৃহীত হতে পারে, অথচ দুর্ভাগ্যের বিষয় সেসব গ্রন্থকারে প্রকাশিত হয়নি। দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের কন্যা জ্যোতির্ময়ী দেবীর বোর্ডিং স্কুলের মেয়েদের নিয়ে গল্পমালা, সুকুমার দে সরকার, রজত সেন ও বুদ্ধদেব বসুর উপন্যাস, পরিমল রায়ের ছড়া এবং বাংলা সাহিত্যের সাম্প্রদায়িকতা-বিরোধী সার্থক গল্পগুলির অন্যতম ‘জো’-সহ কামাক্ষীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের বহু গল্পের কথা এক্ষেত্রে উল্লেখ করা যেতে পারে।

রংমশাল-এর প্রথম অধ্যায়ে সুকুমার-রবীন্দ্রনাথ-অবনীন্দ্রনাথের খেয়ালরসের ধারা অনুপ্রাণিত করেছিল রংমশালের লেখকদের। এ ছাড়া রংমশাল-এর পাতায় বিশ্বযুদ্ধের কালানুক্রমিক রচনা পরিক্রমা থেকে একটি বাড়তি পাওনা বহু লুপ্তরত্নের হদিশ পাওয়া। প্রথম বছরেই প্রেমেন্দ্র মিত্র ও হেমেন্দ্রকুমার রায়ের দুটি সায়েন্স ফিকশন উপন্যাসের ধারাবাহিক প্রকাশ পায়—‘পৃথিবী ছাড়িয়ে’ ও ‘অসম্ভবের দেশে’। দ্বিতীয় বছরের প্রথম সংখ্যা থেকে শুরু হয় সতীকান্ত গুহের ধারাবাহিক উপন্যাস ‘অমরলতা’। দ্বিতীয় বছরের লেখক-সূচীর মধ্যে কুলদারঞ্জন রায় ও সুখলতা রাও রয়েছেন। শিবরামের হাসির গল্পের ধারাও অক্ষুণ্ণ ছিল। আর বিনয় ঘোষ প্রবন্ধ লিখেছিলেন ‘রাশিয়ার ছেলেমেয়ে’, অমিয়ভূষণ গুপ্ত-র লেখা দুটি কবিতার মধ্যে ‘গরমিল’-এ সুকুমার রায়ের ছায়া লক্ষ্য করার মতোঃ

‘ভাট’ বামুনকে খাতির করে বলবে সবাই ‘ভট্ট’

‘লাট’ সাহেবকে কেউ কি কভু বলতে পারে ‘লট্ট’                  

‘পাঠ’ মানে কি শুধাই যদি, বলবে ঠিকই ‘পড়া’

‘কাঠ’ কি তবে ‘কড়া’ হবে? ‘মাঠ’ কি তবে ‘মড়া’?

তৃতীয় বছর থেকে শুরু হয় আরো চারটি ধারাবাহিক। অবনীন্দ্রনাথের ‘চটজলদী কবিতা’, সুকুমার দে সরকারের ‘মৃত্যুহীন দেশ’, ‘অমরলতা’র দ্বিতীয় পর্ব ও রজত সেনের ‘মাকড়সা’। ১৩৪৬-এর পর যুদ্ধের আঁচ লাগে পত্রিকায়। পুঁজির অভাব, প্রকাশও অনিয়মিত। ১৩৪৬-এর চৈত্র মাসে একসঙ্গে তিনটি পত্রিকা প্রকাশ করা হয়। সংবাদের জানলা ‘চলন্তিকা’ নামে বিভাগটি দিয়েই রংমশাল-এ মহাযুদ্ধের খবরাখবর দেওয়া শুরু হয়। অল্প বিস্তর রাজনৈতিক প্রসঙ্গ উঠে আসতে থাকে। পৃথিবীর মানচিত্র দ্রুত পালটে যাচ্ছিল। চিন ও স্পেনের উপর বিদেশি আক্রমণের তীব্র নিন্দা ও গণতন্ত্র বনাম ডিকটেটরশিপের ভয়ংকর সংঘর্ষের ভবিষ্যদ্বাণীও করে ‘চলন্তিকা’। হিটলারের হাতে পড়ে সে-দেশের শিক্ষাব্যবস্থার কী হাল হয়েছে, তার দৃষ্টান্ত দেওয়া হয় জার্মানির একটি স্কুলের অঙ্কের প্রশ্নপত্র থেকেঃ

কোনো এরোপ্লেনে যদি ৪৫ টা বোমা থাকে আর প্রত্যেকটা বোমার ওজন হয় দেড় কিলোগ্রাম তবে বোমাগুলির সামগ্রিক ওজন কত? বোমাগুলির এক-তৃতীয়াংশ যদি লক্ষ্যভেদ করে ও তার মধ্যে শতকরা কুড়িটি অগ্নিসংযোগ করে, তাহলে কতগুলি বোমা অগ্নিসংযোগের সহায়ক হয়েছে?

এর আগে আন্তর্জাতিক প্রসঙ্গের তুলনায় দেশের কথা তখনো সেভাবে প্রকাশ হতে শুরু হয়নি। উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রম, স্পেনের সিভিল ওয়ার-এর কালে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক যুব সঙ্ঘের কনিষ্ঠতমা প্রতিনিধি, মারগারিটা রোবলস-এর একটি চিঠি প্রকাশ। সেখান থেকেই জানা যায় ভারতে মহিলা-প্রতিনিধি রূপে তারা বসু স্পেনে গিয়েছিলেন। ‘চলন্তিকা’য় উঠে আসতে থাকে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রসঙ্গ। ১৩৪৭-এ জার্মানির ডেনমার্ক ও নরওয়ে দখলের খবরের সঙ্গে প্রকাশিত হয় কলকাতার ধাঙড় ধর্মঘটের বিবরণঃ

‘ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় এই কলিকাতা নগরীর এক কুৎসিত রূপ বেরিয়ে পড়ল। …কর্পোরেশন ইলেকশন নিয়ে যে বাবুরা ব্যস্ত ছিলেন ইলেকশন মিটে গেলে তাঁরা এই ধর্মঘট নিয়ে লাগলেন।’

পরের সংখ্যাতেই দিলীপকুমার মুখোপাধ্যায় তরজমা করলেন ‘লাল ফৌজের রণসংগীত’-

কমরেডগণ! শোনো বিউগল বাজছে,

কাঁধে নাও যুদ্ধের অস্ত্র;

স্বাধীনতা সংগ্রামে নির্ভীক লড়বো,

নির্ভয়ে নবপথ গড়বো।

শ্রমিক শ্রেণীতে হল আমাদের জন্ম,

স্বল্প মজুরি চাই বৃদ্ধি।

স্বাধীনতা! একতা! সখ্য!

আমাদের সংগ্রাম-লক্ষ্য

দশমবর্ষ রংমশাল-এ প্রথম কবিতা ছাপা হয় বিমলচন্দ্র ঘোষ, সুকান্ত ভট্টাচার্য ও মঙ্গলাচরণ চট্টপাধ্যায়ের। সুকান্ত লেখেন, ‘অতি-কিশোরের ছড়া’ ও ‘রেশান কার্ড’। মঙ্গলাচরণ চট্টোপাধ্যায় লেখেন, ‘ঘুম তাড়ানি গান’। রংমশাল-এ অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত-র প্রথম কবিতা ছাপা হয়, ‘বাজার গরম’। এই বছরেই কয়েকটি অভিনব বিভাগ খোলা হয়। সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ‘আমার বাংলা’, রাধামোহন ভট্টাচার্যের ‘সেদিন কি হল’, হৈমন্তী চক্রবর্তীর ‘তোমরাও পারো’, অমিয় চক্রবর্তীর বিদেশ ভ্রমণ বিষয়ক ‘চলো যাই’ এবং দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের বিজ্ঞানের পাতা—‘কেন?’।

১৩৫০-এর জ্যৈষ্ঠয় প্রকাশিত হয় ‘যুদ্ধ সংখ্যা’। এ ছাড়া, শেষ বছর প্রকাশিত হয় ‘স্বাধীনতা সংখ্যা’। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রত্যক্ষ আঁচ ভারতের গায়ে না লাগলেও, লেগেছিল তার অন্যবর্তী দুর্ভিক্ষ ও দাঙ্গার। আর দাঙ্গা ও দেশভাগের অমানুষিক দিনগুলোয় স্বাধীনতা প্রাপ্তির উৎসব-মিছিল ম্লান হয়ে যায় ছিন্নমূল মানুষের বিহ্বল স্রোতে। সেসব কথা প্রসঙ্গে প্রেমেন্দ্র মিত্র লিখেছিলেন ‘নিশান’, দেবীপ্রসাদ চট্টপাধ্যায় লেখেন ‘তিলক ব্রিজের ওপর’ এবং মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন ‘পনেরই আগস্টের কবিতা’।

‘নিশান’-এ প্রেমেন্দ্র লিখেছিলেনঃ

নিশানে তিনটে রং

শুধু কি ‘নেশনী’ ঢং?

পুচ্ছের মতো উচ্চে নাচানো

জাতীয় ফাঁকা অহং!

সবুজ হবে কি দেশটা?

মিটবে কি ক্ষিদে ও তেষ্টা!

কিষাণের হাতে কাস্তে না যেন

তারই গলা কাটে শেষটা!

রূপকথা, ননসেন্স, রাজনীতি-সমাজ সচেতনতা অথবা বৈজ্ঞানিক কল্পনা, জীবনকে রুল-টানা খাতার নিরাপদ চৌহদ্দির বাইরে টেনে আনার জন্যই যত চেষ্টা ছিল রংমশাল-এর পরিচালকবর্গের। সেই পত্রিকাও আজ নেই, নেই সেই পরিচালক-লেখকবর্গ। কালের প্রবাহে ইতিহাসে কিশোরদের ভূমিকা বদলেছে, তেমনই বদলেছে তাদের মনের গঠন। আজ এত বছর পর আমাদের দেশ এবং দেশের শৈশব যে মেরুকরণে দাঁড়িয়ে রয়েছে, সেখানে বোধহয় বড্ড প্রয়োজন হয়ে পড়ছে আরও একটা ‘রংমশাল’ জ্বালানোর।

গ্রন্থঋণঃ

প্রবন্ধ সংগ্রহ, সিদ্ধার্থ ঘোষ।

 

Developed by DXDasia