দেশি সঙ্গে থাকছে বিদেশি হরেক প্রকারের খাবার
খাদ্য রসিকদের জন্য সুখবর। আজ থেকে কলকাতার নিউটাউন মেলা প্রাঙ্গণে শুরু হতে চলেছে ‘আহারে বাংলা ২০১৭’। চীন, জাপান, রাশিয়া, নেপালসহ বিভিন্ন দেশের খাবারে সঙ্গে থাকছে বাংলা তথা ভারতের নিজস্ব খাবারও। শুধু তাই নয় পাবেন হারিয়ে যাওয়া ঠাকুমা-দিদিমার রেসিপির নানা খাবারও। আজ এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলেও কাল থেকে সাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে। এই মেলা চলবে ৫ দিন অর্থাৎ ৭ ডিসেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
পশ্চিমবঙ্গ সরকার আয়োজিত বঙ্গীয় খাদ্য উৎসব ‘আহারে বাংলা’। বিগত দুইবছর ধরে অভিনব এই খাদ্য মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। এই খাদ্য উৎসব শুরু হয় ২০১৫ সাল থেকে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রথম বছরই প্রায় ৬৫০০০ লোক এই মেলায় এসেছিলেন। ২০১৬ সালে তার সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ২ লক্ষের কাছাকাছি। প্রতিবছরের মত এই বছরও দুপুর বারোটা থেকে রাত ৯টা অবধি চলবে ‘আহারে বাংলা’ খাদ্য উৎসব। উৎসব প্রাঙ্গণে একসঙ্গে ২০০০ লোকের রসনাতৃপ্তি করতে পারবেন।
এই মেলার প্রধান উদ্দেশ্য হল বাংলার খাদ্যসংস্কৃতির সঙ্গে বিশ্ববাসীকে পরিচিতি করান। শুধু খাদ্য সংস্কৃতিই নয় এর মধ্যদিয়ে আগতদের বাংলার শাকসবজি, মাছ, ডাল, চাল সম্পর্কে জানানোও। এরফলে চাষীরা যেমন উৎসাহিত হবে তেমনি মোরব্বা, আচার, বড়ি, কাসুন্দিরমত বাংলার ঘরোয়া শিল্পের বিকাশ ঘটবে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রাণী সম্পদ উন্নয়ন দপ্তরে এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে সরকারের বিভিন্ন বিভাগ। যেমন- ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ ও বস্ত্র দপ্তর, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ দপ্তর, মৎস্যদপ্তর ও বেনফিশ, কৃষিদপ্তর, পর্যটন দপ্তর, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য রপ্তানি উন্নয়ন সমিতি, পশ্চিমবঙ্গ পশুসম্পদ উন্নয়ন কর্পোরেশন লিমিটেড, মাদার ডেয়ারীর মত বিভিন্ন দপ্তরগুলি।
আরও পড়ুন
চলুন তৈরি করি মালাই পটল
স্বামী বিবেকানন্দ দেশে-বিদেশে বাংলার খাদ্যসংস্কৃতিকে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য নানা প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। বিদেশে থাকাকালীন চিঠি লিখে সোনামুগ, বড়ি, কাসুন্দি, আমসত্ত্ব, গবিন্দভোগ চাল চেয়ে পাঠাতেন। বিদেশীদের বাড়িতে গিয়ে রান্না করে খাওয়াতেন মাছের ঝোল, শাক, তরকারি। আহারে বাংলা তারই এক অভিনব প্রচেষ্টা বললে হয়তো ভুল হবে না। সুতরাং দেরি না করে চলুন শীতের দুপুরে দেশি-বিদেশি খাবারে স্বাদ নিতে নিউটাউন মেলা প্রাঙ্গণে।
৭ ডিসেম্বর- আজ শুরু হচ্ছে আহারে বাংলা ২০১৭। থাকছে রাতের খাবারের আয়োজন সময়- ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত।
৮ ডিসেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর
লাঞ্চ – দুপুর ১২ থেকে ৩ পর্যন্ত
স্ন্যাক্স – দুপুর ৩ থেকে বিকাল ৬ পর্যন্ত
ডিনার- বিকেল ৬ টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত