শিশুদের খেলার একটা আলাদা জগৎ হতে পারে অভিধান

থাটি বিস্ময়কর লাগলেও অভিধান দিয়ে ছোটোদের ভাবনা-চিন্তাকে প্রসারিত করা যায়। অভিধান (Dictionary) শিশুদের খেলার একটা জগত হতেই পারে। এই খেলাটি ছোটোদের সঙ্গে ক্লাস টু থেকে শুরু করা যেতে পারে।

আমার মতে অভিধান হল শব্দকে চেনা-জানার বাড়ি। শিক্ষাবিদ্ প্রফেসর এ.কে. জালাউদ্দীন বলতেন, যে প্রথম শ্রেণি ও দ্বিতীয় শ্রেণিতেই শিশুর প্রায় দু’হাজার শব্দ চেনা ও জানা প্রয়োজন। শিশুরা যত শব্দ জানবে তত তাদের মনের ভাব ভাষায় প্রকাশ করতে পারবে। যদিও বাংলায় এখনও ছোটোদের জন্য ছবি দিয়ে কোনো অভিধান দেখা মুশকিল। তবুও অভিধান দেখতে দেখতে ছোটোরা নিজেরাই অনেক অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাবে। কেউ হয়েতো বলতে পারেন গুগল থেকেই তো শব্দের অর্থ পাওয়া যায়, তবে প্রয়োজন কি অভিধানের! ভাবনা ভুল নয়। মনে হয়, সেটি বড়োদের জন্য ভালো হলেও ছোটোদের জন্য নয়। কারণ অভিধানে একটি শব্দের মানে জানতে গিয়ে অনেক নতুন শব্দ চোখে পড়ে যায়, শিশুরা অজান্তে শিখে নেয় নতুন শব্দ। শব্দের সঙ্গে পরিচিত হয়।

শিক্ষাবিদ্ প্রফেসর এ.কে. জালাউদ্দীন বলতেন যে প্রথম শ্রেণি ও দ্বিতীয় শ্রেণিতেই শিশুর প্রায় দু’হাজার শব্দ চেনা ও জানা প্রয়োজন।

অভিধান নিয়ে খেলাটি হলো চেনা শব্দের মানে বার করতে বলা। আর অচেনা শব্দের সঙ্গে চেনা-জানা হওয়া। এইভাবে ছোটরা শব্দকে ভালোবাসতে শিখবে, তবেই তো মনের ভাব প্রকাশ করতে পারবে।

বাংলা শব্দমালার দেশে প্রবেশ করতে অভিধানে ‘শব্দ খোঁজা’ খেলাটি খুব কাজে দেয়। কোন বর্ণের পরে কোন বর্ণ আছে, সেটি যথাযথভাবে জানতে পারবে শুধু নয়, শিখতে পারবে আকারের পর আসে ই-কার, ঈ-কার ইত্যাদি। এই ভাবে ছোটোরা য-ফলা, রেফ দেওয়া শব্দ চিনে নেবে। শিখবে ঙ্ক, ঙ্খ, ঙ্গ, ঙ্ঘ। শিখবে ‘ঞ্ক’ হবে না। শিখে নেবে সব যুক্ত বর্ণ কে কার সঙ্গে থাকে।

এখন ছোটোদের সামনে অনেক ইলেকট্রনিক গ্যাজেট এসে গেছে। স্কুলে অনলাইন ক্লাসের জন্য মোবাইলকে চিনে নিয়েছে। তবুও ওদের সঙ্গে গল্প করলেই হবে না, ওদের গল্প শুনতে হবে। এইভাবে ওদের জানা নতুন শব্দগুলিও বড়োরা জেনে যাবেন। নতুন শব্দটি অশ্রাব্য হলে, অভিধান দেখে শব্দটির অর্থটি বুঝিয়ে বলে দিতে হবে।

বাংলা বর্ণমালা সামনে রেখে ওদের সাজাতে বলতে হবে। ছোটো ছোটো শব্দ তৈরি করাতে হবে। সেই শব্দ দিয়ে ওদের চারটি কি পাঁচটি বাক্যে গল্প লিখতে দিতে হবে। এই সময় ওরা অভিধানটি পাশে রেখে লিখবে। তাতে স্বাচ্ছন্দবোধ করবে।  মুখে মুখে শব্দ জিজ্ঞাসা করতে হবে। ওরাও বড়োদের জিজ্ঞেস করবে। তখন কিন্তু মজার খেলা হবে। কখনও গান চালিয়ে পাসিং দা পার্সেল খেলা খেলতে হবে। ওই পার্সেলে মজার মজার শব্দ রাখতে হবে। যা দিয়ে ওরা কথা বানিয়ে বলতে পারে। কোনো বইয়ে ওই শব্দটি কিভাবে ব্যবহার হয়েছে, পড়ে দিতে হবে।

অভিধান ছোটোদের অনুসন্ধিৎসু মনের অবগুন্ঠন খুলে দেবে। শব্দগুলিকে ভালোবাসতে শিখবে। এইভাবে ভালোবাসলে বাংলা ভাষাকে ভালোবাসবে।

ছোটোদের গল্প শুনতেই হবে, বই তো পড়ে দিতেই হবে। মা, বাবা দুইজনকেই সপ্তাহে একদিন বাচ্চাদের জন্য সময় দিতে হবে। অনেক শব্দের মানে জিজ্ঞাসা করবে ছোটোরা। ধরা যাক উনুন, উঠোন, শিলনোড়া, ঘট, ঘাট ইত্যাদি। শব্দগুলোর মানে বলার সময় বড়োরা ছোটোদের সামনে অভিধান থেকে মানে বলে দিলে ওরা আনন্দ পাবে। কোন শব্দের ব্যবহার করবে, কোথায় কিভাবে বসাবে, ছোটোদের গল্প শুনে ঠিক করে দিতে হবে।

ছোটোরা জিজ্ঞাসু, ছোটোদের কৌতূহলি মন। তাই মোটা অভিধানের ভিতরে কি আছে তারা জানতে উৎসুক হবে। তাই অভিধান দেখতে দেখতে অনেক শব্দকে নতুন ভাবে চিনবে। অভিধানে খুব একটা ছবি থাকে না বলে বড়োরা গুগলের ছবি দেখিয়ে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাতে পারেন। চেষ্টা থাকবে ছোটোদের হাতে মোবাইল না দেওয়ার। অভিধান ছোটোদের অনুসন্ধিৎসু মনের অবগুন্ঠন খুলে দেবে। শব্দগুলিকে ভালোবাসতে শিখবে। এইভাবে ভালোবাসলে বাংলা ভাষাকে ভালোবাসবে। আগামী দিনে ছোটোরা রঙিন অভিধান হাতে পেলেই, অভিধানের প্রয়োজনীতা বুঝবে।

Written by