
শিশির মধ্যে স্বচ্ছ তরল, ঢাকনা খুললেই ছড়িয়ে পড়া সুবাস নিঃশ্বাসের মাধ্যমে প্রবেশ করে মস্তিষ্কের প্রতিটি ক্লান্ত কোষকে করে তুলছে সতেজ, সজীব— আতর শুধু সুগন্ধের সমার্থক না, একইসঙ্গে ক্লান্তিনাশক। ইতিহাসের পাতা খুললে হাজার হাজার বছর আগে বৈদিক যুগে যজ্ঞের উপকরণের তালিকায় মিলবে আতরের খোঁজ। এরপর কত-শত নবাব-বাদশার মহল পেরিয়ে এই আতর এসে পৌঁছেছিল উনিশ শতকের বাঙালি অন্দরমহলে। কিন্তু আজ একবিংশ শতাব্দীতে তার জনপ্রিয়তায় পড়েছে ভেজায় ভাটা। সুগন্ধের প্রতিযোগিতায় পারফিউম, ডিওডোরেন্টের ভিড়ে আতরের জায়গা এখন একেবারে পিছনের সারিতে। (সোঁদা আতর)

শিশির গায়ে লেখা: সোঁদা, এটি বারো-তেরোজন বাঙালি ছেলের নিজস্ব ব্র্যান্ড, আতরের আদর ফিরিয়ে আনতে বাংলা জুড়ে যারা শুরু করেছে এই গন্ধ-অভিযান। কলকাতার যাদবপুর, টালিগঞ্জ, কলেজস্ট্রিটের পথচলতি মানুষ দাঁড়িয়ে পড়ছেন কৌতূহলে। গন্ধ পরখ করছেন, তারপর আঠেরো থেকে আশি বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন সুলভ মূল্যের আতর।
তবে আজকাল বাক্সভরা আতর নিয়ে কলকাতার জনবহুল রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে কিছু ছেলেমেয়েকে। চব্বিশ খোপের মধ্যে চব্বিশটি শিশি ভরা সুবাস। শিশির গায়ে লেখা: সোঁদা (Sonda), এটি বারো-তেরোজন বাঙালি ছেলেমেয়ের নিজস্ব ব্র্যান্ড, আতরের আদর ফিরিয়ে আনতে বাংলা জুড়ে যারা শুরু করেছে এই গন্ধ-অভিযান। কলকাতার যাদবপুর, টালিগঞ্জ, কলেজস্ট্রিটের পথচলতি মানুষ দাঁড়িয়ে পড়ছেন কৌতূহলে। গন্ধ পরখ করছেন, তারপর আঠেরো থেকে আশি বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন সুলভ মূল্যের আতর। সোঁদার অন্যতম প্রধান সদস্য অনির্বাণ দাস বঙ্গদর্শন.কম-কে জানাচ্ছেন, “এর মধ্যে ৮৫% ক্রেতা জীবনে প্রথমবারের জন্য আতর কিনে ব্যবহার করছেন। যাঁরা জীবনে কখনও আতর ব্যবহার করেননি অথবা আতর দেখলে এড়িয়ে যান তাঁরাও আগ্রহের সঙ্গে সোঁদার আতর ব্যবহার করছেন।” (সোঁদা আতর)
কিন্তু কেন? এই ব্র্যান্ডের বিশেষত্ব কী? চোখ ধাঁধানো পোস্টার, বাহারি শিশি কিংবা লেভেল, যা কিছু মানুষকে আকৃষ্ট করবে এমন কিচ্ছু নেই সোঁদার। বিজ্ঞাপন সর্বস্ব যুগে দাঁড়িয়েও সোঁদা শুধু গুরুত্ব দিয়েছে উন্নত গুণমান এবং মৌখিক প্রচারের প্রতি। মানুষ আতর পরখ করে দেখুক, তারপরেই কিনুক এবং মানুষের মাধ্যমে তা প্রচারিত হোক, এইটাই সোঁদার লক্ষ্য। (সোঁদা আতর)

বেলি, বকুল, জুঁই, চন্দন, শিউলি, কস্তুরীর সুগন্ধ ছাড়াও বাংলার হারিয়ে যাওয়া লক্ষ্মীবিলাস তেলের গন্ধ ‘নস্ট্যালজিয়া’ নামে আতর হিসাবে পাওয়া যাচ্ছে সোঁদার ঝুলিতে।
কিন্তু সুগন্ধি তৈরির কাজটা তো খুব একটা সহজ না। কেমিক্যাল, কেমিস্ট সব মিলিয়ে সে এক মহাযজ্ঞ। কথা বলে জানা গেল, টিম সোঁদায় কিন্তু কোনো কেমিস্ট নেই, বাজার থেকে রাসায়নিক কিনে সঠিক অনুপাতে মিশিয়ে তাঁরা তৈরি করছেন নানা ধরনের সুগন্ধ। বেলি, বকুল, জুঁই, চন্দন, শিউলি, কস্তুরীর সুগন্ধ ছাড়াও বাংলার হারিয়ে যাওয়া লক্ষ্মীবিলাস তেলের গন্ধ ‘নস্ট্যালজিয়া’ নামে আতর হিসাবে পাওয়া যাচ্ছে সোঁদার ঝুলিতে। বহু বিদেশি পারফিউম বাজারে যাদের মূল্য প্রায় তিরিশ চল্লিশ হাজার টাকা তাদের সুগন্ধকেও শিশিতে বন্দি করে বিক্রি করছে সোঁদা। তৈরি হয়েছে ‘কর্পোরেট ব্ল্যাক’, যে আতর ব্যবহার করে স্বচ্ছন্দে অফিস যাওয়া যেতে পারে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের আরও আতর তৈরির পরিকল্পনা চলছে। সোঁদা চায় আতরকে মানুষের দৈনন্দিন যাপনের সঙ্গে জুড়তে, ভবিষ্যতে অফিস, কলেজ সব জায়গাতেই যেন স্বচ্ছন্দে আতর ব্যবহার করে যেতে পারে মানুষ, তাই সুগন্ধ নিয়ে ক্রমাগতই চলছে তাদের নানান পরীক্ষা। (সোঁদা আতর)
শুধু তাই নয়, সকলে যেন কিনতে পারেন সেকথা ভেবেই আতরের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ১০০ টাকা থেকে ২০০ টাকার মধ্যে রয়েছে নানা গন্ধের আতর। যেমন ৮ মিলিলিটার বকুল-এর মূল্য ১৮০ টাকা কিংবা জুঁই-এর মূল্য মাত্র ১৩০ টাকা। এছাড়াও রয়েছে ১২ মিলিলিটার কিংবা ২৫ মিলিলিটারের শিশি, মানুষ কিনবেন তাঁদের পচ্ছন্দমতো।

২০২১ সাল থেকে নানান পরীক্ষা নিরীক্ষার পর অবশেষে সোঁদার পথচলা শুরু হয় ২০২৫ সালের পয়লা ফেব্রুয়ারি, কলকাতা বইমেলায়। মেলা প্রাঙ্গনের ভিতরে বিক্রির অনুমতি না পাওয়ায় অগত্যা দাঁড়াতে হয় বাইরে। কিন্তু শুরুর প্রথম পনেরো মিনিটেই বিক্রি হয়েছিল তেরোটি আতর! এরপর প্রায় আটশো-নশোজন মানুষ এ-বছর বইমেলা থেকে সোঁদার আতর কেনেন। তারপর সদ্যোজাত এই ব্র্যান্ডকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বর্তমানে কলকাতা ছাড়াও বারাসাত, বোলপুর, কোচবিহারের মানুষ তাদের ইচ্ছামতো আতর সরাসরি কিনতে পারছেন এবং বাকিদের জন্য রয়েছে সোঁদার ফেসবুক পেজ।
এত তাড়াতাড়ি এত জনপ্রিয় হল সোঁদা। ভবিষ্যতে পরিকল্পনা কী? অনির্বাণ জানালেন, “পুরুলিয়া ঝাড়গ্রাম কিংবা হাওড়া হুগলি থেকে ডাক পাচ্ছি আমরা। খুব তাড়াতাড়ি সারা বাংলার মানুষ সোঁদার আতর সরাসরি কিনতে পারবেন। আর যতদিন না তা সম্ভব হচ্ছে ততোদিন মুঠোফোনে একবার অর্ডার দিলেই ডেলিভারি চার্জ ছাড়াই সোঁদার আতর পৌঁছে যাবে মানুষের কাছে।” বিশেষভাবে উল্লেখ্য, সোঁদার আতর সম্পূর্ণ হাতে তৈরি এবং অ্যালকোহল বিহীন।
___________________
সোঁদার ফেসবুক পেজ: https://www.facebook.com/profile.php?id=61566440873823
সোঁদার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর: 6296973331/ 9732111007
