জাম্বো কম্বো, বার্গার থেকে রক অ্যান্ড রোল ককটেল : ঐতিহ্যের হার্ড রক ক্যাফে

পার্ক স্ট্রিট। তিলোত্তমা কলকাতার এই একটি মাত্র স্ট্রিট যা সারারাত ঘুমায় না। না ঘুমানো ঝিকিমিকি তারাদের সঙ্গে চলে একরাশ উল্লাস। শীত আর ডিসেম্বর মানেই কলকাতার চোখ পার্ক স্ট্রিটের দিকে। তখন পঞ্চাশ-ষাটের দশক। সেই সময়কার কলকাতার বহু মানুষ স্মৃতিচারণায় আজও বলে থাকেন, তখন পার্ক স্ট্রিটের পাশেই রাসেল স্ট্রিট ছিল এক ফালি লন্ডন। সেখানে জ্বলত গ্যাসলাইট। রাতের রাস্তায় হাঁটলে অনুভব করা যেত বিলেতি পথ, বিলেতি মানুষ, বিলেতি মদ, বিলেতি ভালোবাসাও। আবহে হালকা ব্লুজ বেজে উঠত। সেই ব্লুজ থেকে ছলকে উঠত প্রথম দেখা। যে দেখা শীতকালীন।

কলকাতার মানুষদের জন্য একটি অত্যাধুনিক অডিও-ভিস্যুয়াল সিস্টেম এবং ফুড হাব

এই অনুভবগুলো এখনও টিকিয়ে রেখেছে কলকাতা। ২০১৭ সালের ২০ ডিসেম্বর এই এলাকায় এল উল্লাসের নতুন ঠিকানা– হার্ড রক ক্যাফে। যেখানে নানান উৎসাহ সামগ্রীতে মোড়া রইল রক অ্যান্ড রোলযুক্ত মেনু। স্থানীয় খাবারগুলিই পরিবেশন করা হতে লাগল ভিন্ন আঙ্গিকে। আর নামেও রইল বাহার। পনির শসলিকোর পাশাপাশি রইল নানান সতেজ স্যালাড এবং নানা বর্ণের ককটেল। আর আবহে মিশে গেল রক অ্যান্ড রোলের ধ্বনি।

পার্ক স্ট্রিটের প্রায় ১০৩ বছরের পুরোনো একটি ঐতিহ্যবাহী বাড়ি পার্ক ম্যানশনকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে হার্ড রক ক্যাফে। এই বাড়ির ঐতিহাসিক আসবাবপত্র এবং অন্যান্য জিনিস নতুন করে সংস্কার করা হয়েছে পরবর্তীতে। ক্যাফেটির আয়তন ৫,৫৪০ বর্গফুট। যেখানে ১৬১ জন অতিথিদের জন্য বসার ব্যবস্থা রয়েছে। রয়েছে লাইভ মিউজিক্যাল কনসার্ট। কলকাতার মানুষদের জন্য একটি অত্যাধুনিক অডিও-ভিস্যুয়াল সিস্টেম এবং ফুড হাব।

আবহে থাকে রক অ্যান্ড রোলের ধ্বনি

হার্ড রকের মেনুতে আবিষ্কার করুন আপনার প্রিয় খাবারগুলি। যাতে খুঁজে পাবেন জাম্বো কম্বো, ক্লাসিক ন্যাচস, কিংবদন্তি বার্গার, প্রিমিয়াম ড্রিংকস ও ককটেল। সমস্ত খাবার এবং পানীয়ে রয়েছে পশ্চিমি ধ্রুপদের স্বাদ। স্থানীয় রুচির স্বীকৃতি স্বরূপ, কলকাতা মেনু ভারতে প্রথমবারের মতো অনেকগুলি ফ্ল্যাটব্রেড এবং অনেক স্থানীয় নিরামিষ খাবার যেমন পনির শসলিকো, ক্যাসাডিলা বার্গার এবং আরও অনেক কিছু উপস্থাপন করছে।

সমস্ত খাবার এবং পানীয়ে রয়েছে পশ্চিমি ধ্রুপদের স্বাদ

কলকাতা এমন একটি শহর যেখানে খাবার রীতিমতো উৎসবের মতো। কথায় আছে, খাদ্যপ্রিয় বাঙালি। হার্ড রকের খাবার তালিকা দেখে চমৎকৃত হতে হয়। শহরজুড়ে নন্দিত হয় স্পর্শকাতর এবং মশলাদার খাবারগুলি।

আসলে পার্ক স্ট্রিট এমন একটি জায়গা যেখানে বাংলার বাইরের রাজ্যগুলো থেকে উড়ে আসেন একঝাঁক মানুষ। রংবেরঙের পোশাক, আলুথালু চুল, নেশারু চোখে তখন কত কথা। আজও পার্ক স্ট্রিট মানে কমলকুমার মজুমদার আর অঞ্জন দত্ত। কমলকুমারের উপন্যাসের পাতা থেকে এই হঠাৎ যেন গান গেয়ে উঠবেন অঞ্জন। লাল মাটির গান থেকে ওয়েস্টার্ন ফোক বাসা বাঁধবে হার্ড রক ক্যাফের মতো বর্ণময় জায়গায়।

___________________

ছবি সৌজন্যেঃ হার্ড রক ক্যাফে

Written by