
ধরুন, কলকাতা ছেড়ে চলে এসেছেন অনেক দূরে। তা প্রায় ৫০ কিমি। বারাসত-টাকি রোড ধরে বসিরহাট যাওয়ার মাঝপথে আপনার চোখ আটকে গেল বিরাট এক সিংহদুয়ারে। গাড়ি থেকে নেমে ততক্ষণে আপনি পৌঁছে গিয়েছেন ফটকের একদম সামনে। মূল ফটকের ওপরের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে একটি মূর্তি। দুজন ইংরেজ যেন লড়াই করছে এক সিংহের সঙ্গে। আর গেট পেরিয়ে ওপারে উঁকি দিচ্ছে আস্ত একটা প্রাসাদ! কলকাতা থেকে এতখানি দূরে, প্রায় অজপাড়াগাঁ একটি জায়গায় এরকম একটি দৃশ্য হয়তো আপনি কল্পনাও করেননি। আসন্ন সন্ধের অন্ধকার অবসরে, আবছা আলোতে আপনি প্রাসাদের সামনের ঝিলে মিশে যেতে দেখবেন তারই প্রতিচ্ছায়া। আপনার মনে হবে, সময়ের গোলকধাঁধায় পড়ে আপনি চলে এসেছেন উনিশ শতকের কোন গ্রামে। ঝুপ করে সন্ধে নামবে এক্ষুনি, জ্বলে উঠবে ঝাড়লন্ঠন। চারদিক সুগন্ধে আমোদিত করে শুরু হবে বাঈজিদের নাচ।

গাইন ক্যাসেল
গল্পকথা নয়, বহুবছর আগে ছোটোবেলায় প্রথমবারের মতো ধান্যকুড়িয়া গিয়ে এই অভিজ্ঞতা হয়েছিল খোদ আমারই। প্রাসাদটি হল ধান্যকুড়িয়ার গাইন ক্যাসেল, যা বর্তমানে পেয়েছে হেরিটেজ বিল্ডিং-এর তকমা। ধান্যকুড়িয়া, উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অন্তর্গত প্রাসাদ ঘেরা এক গ্রাম। যে গ্রামের আনাচে-কানাচে এখনও ছড়িয়ে রয়েছে উনিশ শতকীয় জমিদারির নিদর্শন। তবে চিরকাল এমনটা ছিল না। অষ্টাদশ শতাব্দীতে মারাঠা নায়ক ভাস্কর পণ্ডিতের আক্রমণে বিপর্যস্ত বাঙালি নতুন আশ্রয়ের সন্ধানে দিকবিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তেমনি আনুমানিক ১১৪৯ বঙ্গাব্দে সম্ভবত নদিয়া জেলার কোনো এক গ্রাম থেকে ভাগ্যান্বেষণে ধান্যকুড়িয়া গ্রামে আসেন জগন্নাথ দাস। সেই সময় এই অঞ্চল ছিল জলাভূমি ও লবনাক্ত অঞ্চলের জঙ্গলে ভরা। জগন্নাথ দাস ও তাঁর পুত্র রত্নেশ্বরের প্রচেষ্টায় এই স্থানে গ্রামের পত্তন হয়। ধীরে ধীরে বিভিন্ন অঞ্চলের একই সম্প্রদায়ভুক্ত স্বজাতীয় মানুষজন এই স্থানে বসতি গড়ে তোলে এবং একে অপরের সঙ্গে বৈবাহিক সূত্রে আবদ্ধ হয়। উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে রামকিশোর গাইন ধান্যকুড়িয়ায় পদার্পণ করেন। তিনি সাউ এবং বল্লভদের সঙ্গে মিলে ঘি, গুড় এবং পাটের ব্যবসা শুরু করেন।
৩৩ একর জমির ওপর অবস্থিত ধান্যকুড়িয়ার গাইন ক্যাসেল, মধ্যযুগীয় ইউরোপীয় স্থাপত্যের আদলে তৈরি। ভারতীয় স্থাপত্য এবং ঔপনিবেশিক স্থাপত্যের এক চমৎকার মিশেল এই ক্যাসেল। প্রাসাদটির প্রথম দুটি তলায় ইউরোপীয় এবং তৃতীয় তলায় ইসলামিক স্থাপত্যের ছাপ দৃশ্যমান। রয়েছে একটি ওয়াচ টাওয়ারও।
গাইন পরিবারের আদিপুরুষ গোবিন্দচন্দ্র গাইন ছিলেন পাট ব্যবসায়ী। বিশেষ এক ধরনের সোনালি পাটের উৎপাদন হত অধুনা বাংলাদেশের সাতক্ষীরা অঞ্চলে। সেই পাটের ব্যবসা করেই শ্রীবৃদ্ধি হয় গাইনদের। স্কটল্যান্ডে পাড়ি দিত সেই পাট। ইংরেজদের কাছে বিপুল চাহিদা ছিল তার। গোবিন্দচন্দ্রের পুত্র মহেন্দ্রনাথ গাইন ছিলেন ‘বেঙ্গল চেম্বার অব কমার্স’-এর সদস্য। বাংলার ‘জুট লর্ড’ হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিলেন ইনি। তাঁর আমলেই ব্যবসা চরম উৎকর্ষতায় পৌঁছয়। গাইনদের পাটের চাহিদা তখন ইউরোপ জুড়ে। ইংরেজদের সঙ্গে নিত্য ওঠা-বসা ছিল মহেন্দ্রনাথের। বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে ইংরেজদের মনোরঞ্জনের জন্য এই বাগানবাড়ি প্রতিষ্ঠা করেন মহেন্দ্রনাথ গাইন। শোনা যায়, তৎকালীন মার্টিনবার্ন কোম্পানির উদ্যোগে বিশেষ ট্রেন এসে থামতো এই গাইন বাগানবাড়ির সামনের ফটকে। এখানে অবস্থিত স্টেশনের নাম ছিল ধান্যকুড়িয়া গাইন গার্ডেন। ৩৩ একর জমির ওপর অবস্থিত এই বাগানবাড়ি মধ্যযুগীয় ইউরোপীয় স্থাপত্যের আদলে তৈরি। ভারতীয় স্থাপত্য এবং ঔপনিবেশিক স্থাপত্যের এক চমৎকার মিশেল এই ক্যাসেল। প্রাসাদটির প্রথম দুটি তলায় ইউরোপীয় এবং তৃতীয় তলায় ইসলামিক স্থাপত্যের ছাপ দৃশ্যমান। রয়েছে একটি ওয়াচ টাওয়ারও। ঢোকার গেটের দু-পাশে আছে দুটি খিলান। খিলানের উপরিভাগে সিংহের সঙ্গে যুদ্ধরত দুই ইংরেজ সৈন্যের মূর্তি। যা দেখে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তুলনা করেছিলেন ফ্রেঞ্চ স্থাপত্য ‘সান্টো’র সঙ্গে। প্রাসাদের জানালা এবং দরজাগুলি ইউরোপীয় ধরনের খিলানযুক্ত। প্রাসাদের বৈশিষ্ট্য হল এর করিন্থিয়ান স্টাইলের স্তম্ভ, করবেল ও ক্রেনেল এবং পিনাকল চূড়া বিশিষ্ট ছাদ। গাইন পরিবারের ‘কোট অফ আর্মস’, ইংরেজি অক্ষর ‘G’ ও ‘S’-এর সমন্বয়ে তৈরি একটি জটিল ডিজাইনের নকশা প্রাসাদের বিভিন্ন স্থানে বর্তমান।
বল্লভ বাড়ি
১৯৬০ সালে সরকার এই সম্পত্তি অধিগ্রহণ করে। ২০২২ সালে হেরিটেজ তকমা পায় এই ক্যাসেল। ধান্যকুড়িয়া স্টেট ওয়েলফেয়ার হোম ফর গার্লস আগে এই ভবনে অবস্থিত ছিল। ২০১৮ সালে তা বন্ধ হয়ে যায়। প্রাসাদটির মেরামতের কারণে মেয়েদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এখানে শ্যুটিং হয়েছে বহু কালজয়ী সিনেমার। প্রিয়নাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘কপালকুণ্ডলা’, গুরু দত্তের ‘সাহেব বিবি অউর গোলাম’, উত্তমকুমারের ‘সূর্যতপা’, এমনকী হুগ গ্রান্টের সিনেমা ‘লা নুই বেঙ্গলি’ বা ‘দ্য বেঙ্গলি নাইট’-এরও শ্যুটিং হয় এই বাগানবাড়িতেই। পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষের শেষ ছবি ‘সত্যান্বেষী’-র শ্যুটিং হয়েছিল এখানে। গাইন পরিবারের বর্তমান প্রজন্মের সদস্য মনোজিৎ গাইন জানালেন, কদিন আগেই অনির্বাণ ভট্টাচার্য পরিচালিত সিরিজ ‘ভূত তেরিকি’-র শ্যুটিং হয়েছে এখানে।
গত বছর নভেম্বর মাসে হঠাৎই আগুন লাগে এই বাগানবাড়িতে। ব্রিটিশ আমলের বিভিন্ন ভাস্কর্য এবং ভবনের একটি অংশ তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমানে বন্ধই পড়ে রয়েছে এই ক্যাসেল। স্থানীয় থানার লিখিত অনুমতি ছাড়া প্রবেশ নিষিদ্ধ। ক্যাসেল বাদে ধান্যকুড়িয়ায় রয়েছে আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য স্থাপত্য। গাইন ছাড়াও এই অঞ্চলে আধিপত্য ছিল বল্লভ এবং সাউদের। গ্রামের মূল প্রবেশপথ দিয়ে ঢুকে কিছু দূর গেলেই গাইন, সাউ এবং বল্লভদের প্রাসাদগুলি চোখে পড়বে। ধান্যকুড়িয়া বেণেপাড়া রোডের ধারেই গাইনদের বসতবাড়ি। প্রায় দুশো বছর পুরোনো এই বাড়িটি ইংরেজি অক্ষর ‘L’ আকৃতির। এর দু-প্রান্তে দুটি গম্বুজ সদৃশ টাওয়ার আছে। বাড়ির মধ্যে আছে একটি ঠাকুরদালান। প্রকাণ্ড বাড়ির বাঁদিকের কোণে রাধারমণ জীউয়ের মন্দির। সেটিও ‘L’ আকৃতির। বাগানবাড়ির মতোই ফিউশন স্থাপত্যের ছাপ দেখা যায় এই বাড়িতেও। দ্বিতল প্রাসাদটিতে রয়েছে ২১টি আয়োনিয়ান স্তম্ভ। বাড়িতে ঢোকার মূল ফটকের বাঁদিকে দেখা মেলে তিনতলা একটি টাওয়ারের। গম্বুজ বিশিষ্ট এই টাওয়ারের চার কোণে আছে চারটি করিন্থীয় স্তম্ভ। ইউরোপীয় এবং ইসলামীয় স্থাপত্যের অপূর্ব মিশ্রণ দেখা যায় এই টাওয়ারটিতে। এটি ‘নজর মিনার’ নামে পরিচিত। তিনটি জমিদার বাড়ির মধ্যে এটি একমাত্র নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। বর্তমানে বাড়ির একটি অংশে থাকেন গাইন পরিবারের বর্তমান প্রজন্ম মনোজিৎ গাইন। তিনি পেশায় একজন শিক্ষক এবং লেখক। প্রতিবছর ধুমধাম করে দুর্গাপুজো হয় এখানে। পুজো হয় বৈষ্ণব মতে। কোনোরকম ভোগ বা রান্না করা সামগ্রী পুজোয় দেওয়া হয় না। হয় না বলি। সন্ধিপুজোয় ১০৮টি প্রদীপ জ্বালানো হয় আজও। প্রথা মেনে নির্দিষ্ট সন্ধিক্ষণে গুলি থেকে বন্দুক ছোঁড়া হয়। নবমীতে ধুনো পোড়ানো এবং কনকাঞ্জলির নিয়ম রয়েছে। সে যুগে কাহারদের কাঁধে চেপে প্রতিমা বিসর্জনের নিয়ম ছিল। এই রাজবাড়ির পুজোয় ছিল ইংরেজদের আনাগোনা। বর্তমানে পুজো দেখতে বাইরের দেশ থেকেও ভিজিটররা আসেন।

দাক্ষায়ণী বালিকা বিদ্যালয়
গাইন বাড়ি থেকে বেরিয়ে সোজা রাস্তা বরাবর ঢিল ছোড়া দূরত্বে রয়েছে সাউ জমিদার বাড়ি। বর্তমানে পরিবারের লোকজন কেউ এখানে থাকেন না। পতিতচন্দ্র সাউ এই বাড়ি তৈরি করেন। বাড়িটিতে প্রবেশদ্বারের মুখেই রয়েছে একটি দুর্গাদালান। পাঁচটি খিলানপথের সারি দিয়ে পৌঁছনো যায় ভিতরে গর্ভগৃহে। প্রতিটি খিলানপথের ওপরে স্টুকো প্লাস্টারের কাজ করা। তবে বর্তমানে তেমন রক্ষণাবেক্ষণ সম্ভবত করা হয় না।
শুধুমাত্র মন্দির কিংবা ব্যক্তিগত সুখভোগের অট্টালিকা নয়, গ্রামের উন্নতির জন্য স্কুল, হাসপাতাল এবং গ্রন্থাগারও প্রতিষ্ঠা করেন এখানকার জমিদাররা। ১৮৮৫ সালে পতিতচন্দ্র সাউয়ের পুত্র উপেন্দ্রনাথ সাউ ধান্যকুড়িয়া উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।
এই রাস্তার উল্টোদিকে পায়ে পায়ে হাঁটলেই বাঁদিকে পড়বে বল্লভ বাড়ি। ছোটোবেলায় শুনতাম, এর নাম নাকি ‘পুতুল বাড়ি’। ছাদের ওপরের স্থাপত্যে বেশ কয়েকটি পুতুলসদৃশ মূর্তির উপস্থিতির কারণেই এমন নাম। ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে এই বাড়িটি তৈরি করেন শ্যামাচরণ বল্লভ। বাড়ির সামনে কাস্ট আয়রনের তৈরি একটি কারুকার্যময় গেট রয়েছে। বাকি দুটি বাড়ির মতো এখানেও রয়েছে একটি দুর্গাদালান। প্রতিবছর আয়োজন হয় পুজোর। ছাদের রেলিংয়ের ওপরে, স্টুকো প্লাস্টারের কাজ করা একটি ময়ূর রয়েছে মাঝ বরাবর। তার ঠিক ওপরে রয়েছে তিনটি মূর্তি। মাঝখানের ভাস্কর্যটি ফর্সা চামড়ার, মাথায় কেপ পরিহিত একটি রাজকীয় ব্যক্তিত্বের। তার দু-পাশে অভ্যর্থনার ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে রয়েছে মাথায় পাগড়ি পরা দুটি ভারতীয় পুরুষের মূর্তি। অনুমান করা যায়, এটি হয়তো ইংরেজদের প্রতি বল্লভদের আনুগত্য প্রদর্শনের প্রতীক। এছাড়াও ছাদের রেলিংয়ের দুই প্রান্তে ইউরোপীয় পোশাক পরা দুটি মূর্তি লক্ষ্য করা যায়। গাইন বাড়ির মতোই এই বাড়ির ডানদিকেও রয়েছে তিনতলা একটি মিনার। যদিও সংস্কারের অভাবে তা জরাজীর্ণ।
ধান্যকুড়িয়া সাধারণ পাঠাগার
এই রাস্তা বরাবর সোজা গেলে ডান দিকে দেখা মিলবে রাসমঞ্চের। এই গ্রামে বসবাসকারী মানুষজন মূলত ‘সৎচাষী’ সম্প্রদায়ের। গোটা সৎচাষী সম্প্রদায় বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বী। শোনা যায়, নিত্যানন্দ মহাপ্রভুর কোনো এক শিষ্য ধান্যকুড়িয়া গ্রামে (যেখানে বর্তমানে হাইস্কুল অবস্থিত) একটি মঠ তৈরি করেছিলেন এবং বহুদিন এখানে ছিলেন। পরবর্তীকালে এখানে বহু মানুষ বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষিত হন। রাসমঞ্চটি দোতলা। এখানেও গাইন ক্যাসেলের মতোই পিনাকল ছাদ দেখা যায়। রয়েছে মোট নয়টি চূড়া বিশিষ্ট ছাদ। নিচের তলায় পাঁচটি খিলানযুক্ত প্রবেশদ্বার রয়েছে। খিলানের পাশে পাশেই বেশ কয়েকটি করিন্থীয় স্তম্ভও বর্তমান। প্রতিবছর রাস উৎসবের সময় এখানে রাধাকৃষ্ণের বিগ্রহ পুজো করা হয়। গ্রামের মানুষদের কাছে তা একটি বড়ো উৎসব। আশপাশের বহু অঞ্চল থেকে মানুষজন এখানে আসেন রাস উৎসব দেখতে।
শুধুমাত্র মন্দির কিংবা ব্যক্তিগত সুখভোগের অট্টালিকা নয়, গ্রামের উন্নতির জন্য স্কুল, হাসপাতাল এবং গ্রন্থাগারও প্রতিষ্ঠা করেন এখানকার জমিদাররা। ১৮৮৫ সালে পতিতচন্দ্র সাউয়ের পুত্র উপেন্দ্রনাথ সাউ ধান্যকুড়িয়া উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। গ্রামের মানুষকে শিক্ষিত করে গড়ে তোলার জন্য পাঁচ একর জমির উপর তিনি স্কুল এবং ছাত্রাবাস গড়ে তোলেন। এবং যাবতীয় ব্যয়ভারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নারীশিক্ষার প্রসারে শ্যামাচরণ বল্লভের পুত্র দেবেন্দ্রনাথ বল্লভ গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেন দাক্ষায়নী বালিকা বিদ্যালয়। বর্তমান সময়েও স্কুলটি চালু রয়েছে। গাইনবাড়ি থেকে বল্লভবাড়ি যাওয়ার মধ্যবর্তী রাস্তার বাঁদিকে স্কুলটি অবস্থিত। এছাড়াও রয়েছে সাউ এবং বল্লভদের তৈরি গ্রন্থাগার।

ধান্যকুড়িয়া রাসমঞ্চ
সবমিলিয়ে উনিশ শতকের নবজাগরণের যে আঁচ সারা বাংলায় পড়েছিল, তারই নমুনা হয়ে এখনও রয়ে গিয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার এই গ্রামটি। কলকাতা থেকে দূরত্ব বেশি নয়। ট্রেনে দুই ঘণ্টা। কখনও চাইলে ঘুরে যেতে পারেন এখানে। গ্রামের মেঠো পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে আপনারও মনে হতে পারে, পৌঁছে গিয়েছেন সময়ের কোন সুদূর অন্তরালে।
_______________
তথ্যঋণ: হীরক জয়ন্তী স্মারক গ্রন্থ/ ১৩২৫-১৩৮৫/ সম্পাদনা শ্রী প্রণবেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় | রাষ্ট্রীয় জেলা গ্রন্থাগার, টাকি | এছাড়াও সহায়তা করেছেন মনোজিৎ গাইন। ছবি: নিজস্ব।
