
জয়া শীল ঘোষকে ‘উত্তরা’-র একটি দৃশ্য বোঝাচ্ছেন বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত
বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত। ভারতবর্ষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র নির্মাতা। প্রায় পাঁচ দশক ধরে সুবিস্তৃত তাঁর চলচ্চিত্র জীবন। চলচ্চিত্রে কবিতার ব্যবহার কিংবা কবিতায় চলচ্চিত্রের ফ্রেম — যেন সমান্তরালভাবে হেঁটেছে তাঁর সৃষ্টিতে। ১৯৭৮ সালে ‘দূরত্ব’ দীর্ঘছবির মধ্যে দিয়ে যাত্রা শুরু হয়। এরপর ‘বাঘ বাহাদুর’ (১৯৮৯), ‘তাহাদের কথা’ (১৯৯২), ‘চরাচর’ (১৯৯৩), ‘উত্তরা’ (২০০০), ‘আমি, ইয়াসিন আর আমার মধুবালা’ (২০০৭), ‘আনোয়ার কা আজিব কিসসা’ (২০১৩), ‘উড়োজাহাজ’ (২০১৯) — তাঁর সৃষ্টির হাত ধরেই বাংলা চলচ্চিত্র পৌঁছে গিয়েছিল ভেনিস, বার্লিন, লোকার্নো, দামাস্কাস ইত্যাদি জায়গায়। পেয়েছেন একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র পুরস্কার। পাশাপাশি ছিল তাঁর সুবিস্তৃত কবিতা-জীবন। ‘গভীর আড়ালে’, ‘কফিন কিম্বা সুটকেস’, ‘রোবটের গান’-সহ একাধিক গ্রন্থে বাংলা সাহিত্য সমৃদ্ধ হয়েছে। কিংবদন্তি পরিচালক এবং কবি বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত-এর এই এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ২০২০ সালের ‘বঙ্গদর্শন’ পুজোসংখ্যায়। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলেন সুমন সাধু। আজ কিংবদন্তির জন্মদিনে আরেকবার স্মরণ করব তাঁর বলা কথাগুলি।

প্রশ্নঃ আপনার আদি বাড়ি ঢাকা বিক্রমপুর। কিন্তু জন্ম বা বড়ো হওয়া বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে কেটেছে। আপনার ছোটোবেলাটা কেমন ছিল? সেইসব অঞ্চলের মানুষজন, সংস্কৃতি, পরিবেশ সবকিছুই পরবর্তীতে আপনার চলচ্চিত্রে কতখানি প্রভাবিত হয়েছে?
বুদ্ধদেবঃ ছোটোবেলা খুব ভালো কেটেছে। আমার বাবা ছিলেন সরকারি ডাক্তার। যার ফলে আমরা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছি। বিভিন্ন অঞ্চলের নিজস্ব সংস্কৃতি, সেখানকার মানুষজন খুবই প্রভাবিত করেছে। বিশেষ করে সিনেমায়। এঁদের সঙ্গ আমায় উদ্বুদ্ধ করেছে। আসলে ছোটোবেলার কাছে আমি ভীষণভাবে ঋণী। নিজেকে খুবই ভাগ্যবান মনে করি যে কলকাতা শহরে জন্মাইনি বা বেড়ে উঠিনি। আমার জন্ম পুরুলিয়া থেকে কিছুটা দূরে আনারা বলে একটা গ্রামে। ওটা তখন গ্রাম ঠিক ছিল না একটা রেলওয়ে কলোনি ছিল। সেখানে লাইনের এক ধারে সাহেবরা থাকতেন, আর এক ধারে ভারতীয় কর্মচারীরা। সেখানে ডাক্তার বলতে মূলত একজন, আমার বাবা। বদলি হয়ে গেলেন। তারপর বিভিন্ন জায়গায় থেকেছি, আর আমি ভেতরে ভেতরে ভয়ংকর ঋদ্ধ হয়েছি।
প্রশ্নঃ ‘লাল দরজা’ ছবিতে একটা পোকার গল্প ছিল। সেখানে ছেলেমেয়েরা সবাই মিলে বলছে “ছোটি মোটি পিপড়া বোটি তেরে মামা লাড্ডু লায়া লাল দরজা খোল দে, লাল দরজা খোল দে” — এটা কি আপনার ছোটোবেলার খেলা?
বুদ্ধদেবঃ একেবারেই তাই। এটা আমার ছোটোবেলার খেলা। তারপর আরও আছে। ‘উত্তরা’ ছবিতে পাওয়া যাবে চিঠির বাক্সে কান দিয়ে ওই কথাগুলো শোনা। ওরকম বাক্স-ঝুলতো গাছে। সেখানে চিঠি ফেলত সমস্ত লোকজন। আর আমরা কান দিয়ে শুনতাম।

লাল দরজা (১৯৯৭)
প্রশ্নঃ চমৎকার খেলা। আচ্ছা, আপনি তো অর্থনীতির ছাত্র ছিলেন। বাংলা বা ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়তে ইচ্ছা করেনি?
বুদ্ধদেবঃ না, বাংলা বা ইংরেজি সাহিত্য পড়তে আমার ইচ্ছা করেনি। আমাকে সাহিত্য পড়াবে কে? আমিই তো পড়ব এগুলো। একটি কবিতার গূঢ় অর্থ আমিই আবিষ্কার করব। তাই পড়াশোনার বিষয় হিসেবে অর্থনীতি বেছে নিয়েছিলাম।
প্রশ্নঃ খুব ছোটো থেকেই আপনি প্রচুর ওয়েস্টার্ন ক্ল্যাসিক্যাল মিউজিক শোনেন। আপনার প্রিয় শিল্পী কারা? সেইসব মিউজিক শোনার বা উপভোগ করার অভিজ্ঞতাগুলো একটু বলুন না…
বুদ্ধদেবঃ সেসময় প্রতি রোববার দুপুরবেলা ওয়েস্টার্ন ক্ল্যাসিকাল মিউজিকের একটা আসর বসত রেডিওতে। সেগুলো আমি শুনতাম। কারণ সুরকে ভালোবেসেছিলাম ছোটোবেলা থেকেই। কিন্তু আমার টান ছিল ওয়েস্টার্ন ক্ল্যাসিকাল মিউজিকের ওপর বেশি। অসম্ভব এক আবেশ আমায় ঘিরে ধরছিল। প্রিয় শিল্পী অবশ্যই মোৎসার্ট, বেটোফেন, বাখ্।

চরাচর (১৯৯৩)
প্রশ্নঃ এঁদের মিউজিক যখন শুনছেন, আপনার বয়স তখন কত ছিল?
বুদ্ধদেবঃ চৌদ্দ-পনেরো হবে। স্কুলে পড়ি তখন। তখন তো টেলিভিশন ছিল না, রেডিওতেই এই ধরনের অনুষ্ঠান শোনা যেত।
প্রশ্নঃ আপনি শুধুমাত্র একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা নন, একইসঙ্গে কবিও। আমার ব্যক্তিগতভাবে বারবার মনে হয়েছে, আপনার চলচ্চিত্র কবিতার মতো আর কবিতা অনেকটা চলচ্চিত্রের মতো। কবিতা আর চলচ্চিত্র এই যে সমান্তরালভাবে হাঁটছে, এটাকে আপনি কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?
বুদ্ধদেবঃ এটাকে আসলে ব্যাখ্যা করা খুব মুশকিল। এর মানে এই নয় যে, আমি কবিতা লিখি বলে আমার সিনেমা কবিতার মতো। কীভাবে ভাবনার জন্ম নেয়, তা কেউ বলতে পারেন না। মাথায়, হৃদয়ে ভাবনা উদয় হয়। কবিতা লিখতে গিয়ে আমি এখনও ভাবি, এমন কবিতা হওয়া উচিত যেটা পুরোপুরি আমার নিজস্ব। তার ভাষা, তার প্রকাশভঙ্গি সবটাই আমার নিজের। হয়তো এই দুটো মাধ্যমকেই ভালোবাসি বলে কখনও কবিতা সিনেমাকে ছুঁয়ে গেছে, আবার সিনেমা কবিতাকে ছুঁয়ে গেছে।
প্রশ্নঃ যতদূর জানি, আপনি ‘অন্তর্জলি’ নামে একটি পত্রিকা সম্পাদনা করতেন। তার তো মনে হয় একটিই সংখ্যা। হঠাৎ বন্ধ করে দিলেন কেন?
বুদ্ধদেবঃ খুব ভালো লাগলো এটার কথা আপনি জানেন। সে বহু বছর আগের কথা, তা প্রায় পঞ্চাশ বছর তো হবেই৷ একটাই সংখ্যা প্রকাশ করেছিলাম। একটা উপন্যাসও শুরু করেছিলাম। অর্থের অভাবে বন্ধ করে দিতে হল। সে কাগজ এখন আর পাওয়া যায় না। আমার কাছেও নেই।

বাঘ বাহাদুর (১৯৮৯)
প্রশ্নঃ শামসের রহমান, ভাস্কর চক্রবর্তী, সুব্রত চক্রবর্তী আর আপনি খুব ভালো বন্ধু ছিলেন। আপনাদের কবিতার আড্ডায় সিনেমা কীভাবে আসত?
বুদ্ধদেবঃ সুব্রত চক্রবর্তী ছিলেন আমার পারিবারিক বন্ধু। ভাস্কর, শামসেরও খুবই ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন৷ আমাদের আড্ডায় যেমন কবিতা আসত, তেমন ব্যক্তিগত জীবনও আসত। তখনও আমি ছবি বানানো শুরু করিনি। কলেজে পড়ি। ভাস্কর আমার চেয়ে এক বছরের ছোটো ছিলেন। আর সুব্রত আমার চেয়ে দুই বছরের বড়ো৷ কিন্তু আমাদের বন্ধুত্বটা খুবই নিবিড় ছিল।
প্রশ্নঃ এরপর যখন আপনি সিনেমা বানাচ্ছেন, তখনও নিশ্চয় এঁদের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে…
বুদ্ধদেবঃ হ্যাঁ হচ্ছে। তবে সিনেমা আমার জীবনে আসার পর এত বেশি ব্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম, আগের মতো ঘনঘন আড্ডাটা কমে গিয়েছিল। তবে শনিবার, রোববার আমাদের দেখা হত। কখনও কারোর বাড়িতে, কখনও কফি হাউসে, কখনও বর্ধমানে সুব্রতর বাড়িতে।
প্রশ্নঃ আপনার শেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘উড়োজাহাজ’–এ আপনি মানুষের সঙ্গে গাছের একটা অদ্ভুত সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। এই যে মানুষের মতো গাছেদের মুভমেন্ট ক্যামেরায় ধরা পড়ছে— ঠিক কোন জায়গা থেকে এমন ভাবনা?
বুদ্ধদেবঃ যখন শ্যুটিং করি, তখন অনেককিছুই মনের মধ্যে জন্ম নেয়৷ স্ক্রিপ্ট তো থাকেই, অন্যান্য ডিটেইলসও থাকে৷ কিন্তু শ্যুটিং করতে গিয়ে অনেক জিনিস নতুন করে আবিষ্কার করি।

উড়োজাহাজ (২০১৯)
প্রশ্নঃ আপনার ছবিতে দৃশ্যের মধ্যে বারবার রূপক এসেছে তার বিভিন্ন মেজাজ নিয়ে। ছবি নির্মাণের ক্ষেত্রে আপনি কোনোভাবে রাশিয়ার আন্দ্রে তারকোভস্কির থেকে অনুপ্রেরণা পান?
বুদ্ধদেবঃ হ্যাঁ অবশ্যই৷ শুধু তারকোভস্কি কেন, আমার সবচেয়ে প্রিয় পরিচালক লুইস বুনুয়েল। কিন্তু আমি এঁদের মতো কাজ করতে চাইনি, এঁদের মতো হতেও চাই না। আমি আমার মতো কাজ করতে চাই।
প্রশ্নঃ আপনি দেশ-বিদেশে প্রচুর চলচ্চিত্র উৎসবে গেছেন, প্রচুর শিল্পীর সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। এরকম কোনো ঘটনার কথা বলতে পারবেন, যা আপনার জীবনে মূল্যবান হয়ে রয়ে গেছে।
বুদ্ধদেবঃ বলাটা খুব মুশকিল আসলে। এত মানুষের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে, যে এই মুহূর্তে কোনো বিশেষ ঘটনার কথা বলা খুব শক্ত। যেমন, ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে তারকোভস্কি, কুরোসাওয়ার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল। তারকোভস্কি আমার ছবি দেখেছেন। আর কুরোসাওয়া সত্যজিৎ রায়-এর মতো অনেক কিছু স্কেচ করে রাখতেন। সেই একটি বই তিনি আমাকে উপহার দিয়েছিলেন।
প্রশ্নঃ বিশেষ কোনো অভিনেতাকে সামনে রেখে আপনি কখনও চিত্রনাট্য লিখেছেন?
বুদ্ধদেবঃ না, লিখিনি। সেটা চাইনি কোনোদিনই। চিত্রনাট্য শেষ হবার পর ভাবি কাকে নেওয়া যায়। ফার্স্ট ড্রাফট শেষ হলে সেকেন্ড ড্রাফট থেকে ভাবতে শুরু করি।

উত্তরা (২০০০)
প্রশ্নঃ আপনি যে বিপুল পরিমাণে আন্তর্জাতিক দর্শক পেয়েছেন, বাংলার দর্শক এত কম কেন? আপনার কি মনে হয়, বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের কাজ নেওয়ার মানসিকতা এখনও বাঙালি দর্শকের তৈরি হয়নি?
বুদ্ধদেবঃ এটা আমার চেয়ে আপনার বলা ভালো৷ হ্যাঁ, দেশে-বিদেশে প্রচুর সম্মান, পুরস্কার পেয়েছি। কিন্তু কখনোই মনে করি না, এগুলোই জীবনের সব। এর বাইরেও একটা জীবন আছে। হয়তো আরও ভালো লাগত যদি নিজের দেশের দর্শক আমার ছবি নিয়ে মাতামাতি করতেন। কিন্তু এখানেও আমার কিছু দর্শক আছেন। তাঁরা দেখেন, ভালোবাসেন, ভালোবাসার কথা বলেন। আমার ছবি হাউজফুল হয় না দিনের পর দিন। এটাও ঠিক যে, যে দেশে বসে ছবিটা বানাচ্ছি, আমি চাই সেই দেশের মানুষ ছবিটা দেখুক। কিন্তু তার জন্য আমার কোনো অতৃপ্তি নেই।
প্রশ্নঃ একটি পূর্ণ দৈর্ঘ্যের ছবি যেভাবে জনসমাদর লাভ করে, আমাদের দেশে একটি ছোটো ছবি বা তথ্যচিত্র মানুষ দেখতে চান না। ফেস্টিভ্যাল ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যম নেই শর্ট বা ডক্যুর ক্ষেত্রে। মিডিয়াও বিশেষ পাত্তা দেয় না। এই যে এত ভালো ভালো কাজ হচ্ছে, সব হারিয়ে যাচ্ছে। গুরুত্ব দেওয়ার প্রসঙ্গে আপনার কী মনে হয়?
বুদ্ধদেবঃ কথাটা ঠিক৷ এদেশে তথ্যচিত্র বা স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি দেখার মানসিকতা তৈরি হয়নি। বিদেশে গিয়ে আমি দেখেছি, লোকে টিকিট কেটে তথ্যচিত্র দেখছেন। হ্যাঁ, আমি মনে করি এই ধরনের কাজের সংরক্ষণ হওয়া উচিত। যেমন একজন খুবই শক্তিশালী এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিচালক রাজেন তরফদার, বাঙালি তাঁকে দেখেননি সেভাবে। তিনি অসম্ভব বড়ো মাপের পরিচালক৷ এরকম বহু পরিচালক আছেন, যাঁদের ছবি সম্পদের মতো। বারবার আমরা সত্যজিৎ রায় আর ঋত্বিকে ঘটকে চলে যাই, কিন্তু ভুলে যাই যে তাঁদের বাইরেও একটা বিরাট সিনেমার জগৎ আছে বাংলা ভাষাতেই।
প্রশ্নঃ করোনা পরিস্থিতি আমাদের সাধারণ জনজীবন, বেঁচে থাকা আমূল পাল্টে দিয়েছে। চলচ্চিত্র নির্মাণ বা মুক্তির ক্ষেত্রে নতুন রাস্তা দেখতে পাচ্ছেন?
বুদ্ধদেবঃ সময়টা পাল্টাতে সময় লাগবে। আমরা যখন ছবি বানাতে শুরু করি তখন তো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ছিল না। শুধুমাত্র হলে রিলিজ করত। এখন হলে রিলিজ করা মানেই অনেক দর্শকের ঠাসাঠাসি। মানুষ ভয় পাবেন। ছবি সেভাবে হবে কিনা সন্দেহ আছে। তবে অন্যান্য নানান মাধ্যম বেরিয়েছে। ইতিমধ্যেই অনলাইন ফেস্টিভ্যাল শুরু হয়ে গেছে। এ বছর আমিও কিছু ভাবছি না। পরের ছবি নিয়ে হয়তো ২০২১ থেকে ভাবব।

প্রশ্নঃ সিনেমা বা টেলিভিশনের ক্ষেত্রে অন্য রাস্তা আছে। কিন্তু থিয়েটারের শিল্পী বা দর্শকরা কী করবেন?
বুদ্ধদেবঃ থিয়েটারের জন্য এটা সবচেয়ে কঠিন সময়। আসলে যেকোনো সচেতন মানুষই চাইবেন, ভিড় এড়িয়ে চলতে। আমার মনে হয় এই অবস্থা কাটতে বছর দেড়-দুই সময় লাগবে।
প্রশ্নঃ আপনারই একটি ছবি যদি আবার নতুন করে বানাতে চান, কোন ছবিটাকে বাছবেন?
বুদ্ধদেবঃ কোনো ছবিই আমি দ্বিতীয়বার বানাব না। ওইভাবে কাজ হয় না। অন্যের ছবির ক্ষেত্রে সত্যি। তবে হ্যাঁ, নিজের ছবি দেখে কখনও কখনও সমালোচনা করতে ইচ্ছা করে। মনে হয় এই জায়গাটা আরও ভালো করে বানাতে পারতাম। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, দ্বিতীয়বার আমি ছবিটা বানাতে চাইব।
প্রশ্নঃ এখনকার বাংলা ছবি দেখেন?
বুদ্ধদেবঃ বাধ্য না হলে দেখি না। এখনকার বাংলা ছবির হাল এতই খারাপ যে, বসে দেখাই যায় না। দু-একজন বাদ দিয়ে কারোর ছবিই দেখার মতো নয়। তবে আমি এখনও স্বপ্ন দেখি ভালো কাজ আবার হবে, আবার ভালো পরিচালকরা আসবেন। বাংলা এমন একটি ভাষা, যে ভাষা কখনও ফুরিয়ে যায় না। এ ভাষায় কথা বলার জন্য মানুষ থাকবেনই। এখন হয়তো অদৃশ্য ভাইরাসের জন্য মনে হচ্ছে সব গোলমাল হয়ে গেছে। কিন্তু এই সময়টা একদিন চলে যাবে, আবার নতুন সময়ের জন্ম হবে। নতুনভাবে সিনেমা তৈরি হবে৷ মানুষের দেখাও পাল্টে যাবে।
____________________________________
(‘উড়োজাহাজ’-এর পর আর কোনো ছবি বানাননি পরিচালক। হয়তো নতুন ছবির কথা ভেবেছেন। চিত্রনাট্যও হয়তো লিখেছেন এক বা একাধিক। বয়সজনিত কারণে তিনি চলে গেছেন আমাদের ছেড়ে। করোনা কম-বেশি আজও আছে। আজও মানুষ মারা যাচ্ছেন ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে। যদিও আমরা কেউই স্বপ্ন দেখা থামাইনি। বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত আমাদের মধ্যে থেকে যাবেন প্রতিটা যুগে।)
ছবি সৌজন্যেঃ সোহিনী দাশগুপ্ত এবং ইন্টারনেট

.jpg)