কোচিং ক্লাসেই ল্যাবরেটরি! নজির গড়লেন বছর ছাব্বিশের এই তরুণ

লকাতার আলিপুর (Kolkata – Alipur) থেকে তরুণ শিক্ষক দেবরাজ ঘোষ (Debraj Ghosh) এসেছেন শিলিগুড়ি। শিক্ষাকে এক অন্য পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার কাজে তিনি বিশেষভাবে উদ্যোগী হয়েছেন। স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে গবেষণাধর্মী মন তৈরি করতে কোচিং ক্লাসেই ল্যাবরেটরি খুলেছেন দেবরাজ। এবং যা অভিভাবকদের মধ্যেও প্রবল সাড়া ফেলেছে।

ল্যাবরেটরিতে প্রস্রাব পরীক্ষার খুঁটিনাটি শিখে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চাইলে কেউ রক্তের গ্রুপ নির্ণয় বা অন্য আরও কিছু শিখে নিচ্ছে। শিলিগুড়ি (Siliguri) লেকটাউনে বিশাল আয়তনের ঘর ভাড়া নিয়ে চলছে এই কোচিং। বায়োলজি এবং কেমিস্ট্রির ল্যাবরেটরি রয়েছে সেই সেন্টারে। অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা শিলিগুড়ি লেকটাউনে দেবরাজ স্যারের কাছে উপস্থিত হচ্ছে। বছর ছাব্বিশের শিক্ষক দেবরাজ ঘোষ বঙ্গদর্শন-কে জানিয়েছেন, ছাত্রছাত্রীদের শুধু টেক্সট বই পড়লেই চলবে না, প্র্যাকটিক্যালও করতে হবে। থিওরির সঙ্গে প্র্যাক্টিক্যাল ক্লাস  করলে ছাত্রছাত্রীদের মননশীলতা বৃদ্ধি পায়, পড়াশোনার প্রতি আগ্রহও বেড়ে যায়। পড়ার বিষয়ও সহজ হয়ে ওঠে অনেক। তাই কোচিং ক্লাসে বায়োকেমেস্ট্রি ল্যাব বসানোর এমন অভিনব প্রয়াস।

বায়োলজি, কেমিস্ট্রি, ফিজিক্স, অঙ্ক পড়ানো হয় দেবরাজের কগনিশন হাবে। ল্যাবের জন্য আলাদাভাবে কোনো পারিশ্রমিক দিতে হচ্ছে না ছাত্রছাত্রীদের। শুরুতে দু-চারজনকে নিয়ে শুরু হলেও অল্প সময়ের মধ্যে আজ তা চল্লিশ ছাড়িয়েছে। শিলিগুড়ি ও তার আশপাশের বিভিন্ন ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের মুখে মুখে ঘুরছে দেবরাজ স্যারের নাম।

বছর ছাব্বিশের শিক্ষক দেবরাজ ঘোষ বঙ্গদর্শন-কে জানিয়েছেন, ছাত্রছাত্রীদের শুধু টেক্সট বই পড়লেই চলবে না, প্র্যাকটিক্যালও করতে হবে। থিওরির সঙ্গে প্র্যাক্টিক্যাল ক্লাস  করলে ছাত্রছাত্রীদের মননশীলতা বৃদ্ধি পায়, পড়াশোনার প্রতি আগ্রহও বেড়ে যায়।

কলকাতার আলিপুরে বাড়ি দেবরাজ ঘোষের। তাঁর বাবা কলকাতা জিমখানা ক্লাবের কর্মকর্তা এবং একজন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী। হার্টলে হাইস্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে আশুতোষ কলেজ (Ashutosh College) থেকে মাইক্রোবায়োলজিতে স্নাতক পাশ করেন তিনি। টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে বায়োটেকনোলজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি। এরপর কলকাতা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ থেকে ব্যাকটেরিয়ার ওপর তাঁর বিশেষ মাইক্রোবায়োলজির গবেষণা। বোস ইন্সটিটিউট, ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ কলেজ এন্ড এপিডেমিক ডিজিজের কিছু যন্ত্রপাতির সাহায্য এবং তথ্য সংগ্রহ করে নেদারল্যান্ডের একটি জার্নালে তাঁর গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। তরুণ গবেষক দেবরাজ জানাচ্ছেন, “মানুষের ত্বকে সংক্রমণ হলে রাইবোফ্লোভন নামে একরকম ভিটামিন প্রয়োগ করা যায় ত্বকে। তারপর সেই ভিটামিনে আলো প্রয়োগ করে উত্তেজিত করে তোলা হয়। আর যত তা উত্তেজিত হবে, ততই ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়াগুলোকে নষ্ট করবে।”

দেবরাজের এই গবেষণা ত্বক বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে। ইন্ডিয়ান সায়েন্স কংগ্রেসের আজীবন সদস্য ছাব্বিশ বছরের এই তরুণ। ২০২০ সালে দাতের ইনফেকশন নিয়ে ইন্ডিয়ান সায়েন্স কংগ্রেসে তাঁর আর একটি গবেষণা পত্র প্রকাশিত হয়েছে। পাঠ্য বিষয় পড়ার সঙ্গে গবেষণাধর্মী মৌলিক এক মানসিকতা তৈরি করতেই ল্যাবরেটরি খোলা হয়েছে বলে দেবরাজ জানাচ্ছেন। ভবিষ্যতে উত্তর পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার শিলিগুড়িতে তিনি একটি এডুকেশন হাব খুলতে চান বলেও জানিয়েছেন।

Written by