ক্ষমতাতন্ত্রের কাঠামো ভাঙতে ম্যাসক্যুলিনিটি বা পৌরুষকে চিনব কীভাবে?

থাকথিত প্রান্তিক যৌনতা-র মানুষদের অধিকার আদায়ে জুন মাসের গুরুত্ব আমরা সকলেই জানি। লিঙ্গগত ক্ষমতা কাঠামোর কেন্দ্রটিকে ভালো করে পড়তে পারলে অপরায়নের রাজনীতির স্বরূপ বোঝার খানিকটা সুবিধা হয়। যুগ থেকে যুগান্তরের পথে লিঙ্গ রাজনৈতিক ক্ষমতাকেন্দ্র দখল করে আছে পৌরুষ বা ম্যাসকুলিনিটি। কিন্তু এই সংক্রান্ত বিদ্যায়তনিক চর্চা শুরু হয়েছে খুব সম্প্রতি। আমাদের লেখায় আমরা লিঙ্গবিদ্যার তত্ত্বগত দিক থেকে পৌরুষ বিষয়টিকে বুঝতে চাইব।

মূলত বিশ শতকের আশির দশক থেকে masculinity এক বিশেষ তত্ত্বপ্রস্থান হিসেবে গড়ে উঠেছে। সেখানে masculinity-র অর্থ কেবল পুরুষ-সম্বন্ধী বা পুরুষ-বিষয়ক নয়। এমনকি masculinity, masculinities এবং maleness-এর মধ্যেও তত্ত্বগত পার্থক্য রয়েছে। অনেক masculinity-র (masculinities) এক সম্মিলক ধারণা হল masculinity। Masculinity কোনও সরল একরৈখিক বয়ান নয়। এই masculinity কিন্তু পুরুষদেহের থেকে আলাদা। পৃথক আকৃতি, বর্ণ, উচ্চতা প্রভৃতি সত্ত্বেও এই পৃথিবীর সমস্ত পুরুষ-দেহকে এক হিসেবে দেখা হয় তার লৈঙ্গিক (genital) পরিচিতির উপর ভিত্তি করে। যা এক শারীরিক বৈশিষ্ট্য। এই জৈবিক (biological) ধারণাকেই maleness বলে। অথচ এক শারীরিক গঠন সত্ত্বেও এই পৃথিবীতে অসংখ্য লিঙ্গগত অভিব্যক্তি রয়েছে। তথাকথিত পুরুষত্ব (masculine) এবং মেয়েলিত্ব (feminine) কোনও একরৈখিক ধারণা নয়। সেখানেও বিপুল বৈচিত্র‍্য। সমস্ত লিঙ্গগত অভিব্যক্তিকে পুরুষত্ব-মেয়েলিত্ব এই নির্মিত প্রকোষ্ঠে ফেলা যায় না। এই জন্যই masculine এবং masculinity পরস্পর পৃথক। Masculinity-এর সঙ্গে যুক্ত থাকে এক ধরনের সাংস্কৃতিক প্রতর্ক।

তখন মনে করা হত পুরুষ এবং নারীর শারীরিক এবং মনস্তাত্ত্বিক কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। জন্মসূত্রে প্রাপ্ত শারীরিক লিঙ্গ বৈশিষ্ট্য এবং মনস্তাত্ত্বিক লিঙ্গ-পরিচয় এক না হলে, তাকে অস্বাভাবিকতা বলেই মনে করা হত সেই সময়। ঠিক এই জন্য তখন সমকামকেও এক ধরনের ‘disturbance of an appropriate identity’ বলে মনে করা হত।

Masculinity-র ধারণাটি ১৯৮০-র দশকে জড়িয়ে ছিল Sex Role Theory-র সঙ্গে। সেখানে sex role-কে ধরে নেওয়া হত অভিন্ন, স্থায়ী, আদর্শ এক রূপরেখা হিসেবে। পুরুষ যেগুলো মেনে চলে অথবা চলে না। বিখ্যাত মনস্তত্ত্ববিদ Joseph Pleck তাঁর The Myth of Masculinity বইয়ে বলেছেন, সেই সময়ে Male Sex Role Identity Paradigm (MSRI)-এর কোনও সুসংবদ্ধ রূপ ছিল না। তিনি ‘Psychological Sex Typing’-এর কথা বলেন। অর্থাৎ পৌরুষ বা মেয়েলিত্ব তাঁর কাছে অনেকটাই মনস্তাত্ত্বিক। তখন মনে করা হত পুরুষ এবং নারীর শারীরিক এবং মনস্তাত্ত্বিক কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। জন্মসূত্রে প্রাপ্ত শারীরিক লিঙ্গ বৈশিষ্ট্য এবং মনস্তাত্ত্বিক লিঙ্গ-পরিচয় এক না হলে, তাকে অস্বাভাবিকতা বলেই মনে করা হত সেই সময়। ঠিক এই জন্য তখন সমকামকেও এক ধরনের ‘disturbance of an appropriate identity’ বলে মনে করা হত।

MSRI paradigm-এর কথা বলার পর Pleck পৌরুষচর্চার এক অন্য বয়ান সামনে আনেন। তিনি Sex Role Strain (SRS) paradigm-এর কথা বলেন। এই প্যারাডাইমের মূল কথা হল, …sex roles operationally defined by sex role stereotypes and norms.

তাঁর মতে Male Sex Role-এর মূল সমস্যাটি হল, এই role বা ভূমিকা নির্ধারিত হয় কিছু পূর্বনির্মিত ধারণার ওপর ভিত্তি করে। কিন্তু সেই ভূমিকাগুলির পূর্বনির্ধারিত প্রকোষ্ঠের বাইরে থেকে যান অসংখ্য পুরুষ। Pleck-ও বলেন এই Sex Role কোনও ধ্রুবক ধারণা নয়। বরং এই ধারণা পরিবর্তনশীল।

পৌরুষচর্চায় Pleck-এর পরবর্তী সময়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্ভবত, Harry Brod-এর সম্পাদনায় প্রকাশিত এক সংকলনগ্রন্থ। The Making of Masculinities: The New Men’s Studies (১৯৮৭)।

এতদিন পর্যন্ত জ্ঞানচর্চার পরিসরে পৌরুষের কোনও স্বতন্ত্র বর্গ ছিল না। জ্ঞানচর্চার বিভিন্ন পরিসর নারীত্ব (ফেমিনিটি), সমকামিতা, রূপান্তরকামিতা প্রভৃতিকে পৃথকভাবে বর্গীকরণ ও চিহ্নিত করে এই প্রাথমিক চাহিদা থেকে যে, তাদের যেন সহজে উপেক্ষা করা না যায়। ভুলে যাওয়ার রাজনীতি তাদের ওপর চট করে যেন টেনে দিতে না পারে অবদমনের অন্ধকার। পৌরুষ তথা ম্যাসকুলিনিটি-র জন্য এতদিন ধরে যে কোনও পৃথক বর্গ ছিল না, এই সাংস্কৃতিক, আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক এবং ঐতিহাসিক ক্ষমতা কাঠামোটি যে কার্যত অদৃশ্য হয়ে ছিল সমাজমনের কাছে, সে কি ক্ষমতাতন্ত্রের কেন্দ্রে থাকা পৌরুষকে ভুলে যাওয়ার কোনও অবকাশই নেই বলে? দৃশ্যমানতার এই অভাব কি একদিক থেকে এর ক্ষমতাকেন্দ্রের অধিকার টিকিয়ে রাখতেই সহায়ক হয়নি?

হেজিমনিক ম্যাসকুলিনিটি বস্তুত ক্ষমতাকে লিঙ্গ কাঠামোর কেন্দ্রীয় বিষয় বলে বর্ণনা করতে চায়। দেখাতে চায় বিভিন্ন লিঙ্গের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয় মূলত ক্ষমতার সমীকরণের ওপর ভিত্তি করে।

ক্ষমতাতন্ত্রের চিরচেনা কাঠামোকে ভাঙতেই ম্যাসকুলিনিটি তথা পৌরুষকে চিহ্নিত করা প্রয়োজন হয়ে পড়ছিল। তাই Brod পৌরুষচর্চাকে দেখতে চাইলেন “a necessary complement to women’s studies” হিসেবে। মনে রাখা প্রয়োজন ১৯৯০-এ Brod বিখ্যাত আমেরিকান পত্রিকা The Chronicle of Higher Education-এ একটি প্রবন্ধ লিখবেন যার নাম, ‘Scholarly Studies of Men: An Essential Complement to Women’s Studies’। Brod বস্তুত জ্ঞানচর্চার এই নতুন পরিসরটিকে “the studies of masculinities and male experiences as specific and varying social-historical-cultural formations” হিসেবে দেখতে চান।

এই নতুন Men’s Studies-এর লক্ষ্য হয়ে উঠতে থাকে ম্যাসকুলিনিটি তথা পৌরুষকে দৃশ্যমান করে তোলা। সমালোচকের আতস কাচের তলায় এনে তত্ত্বগতভাবে খুঁজে চলা প্রয়োজন এই ক্ষমতাকাঠামোর ভেতরকার অবদমন এবং অবদমিতের স্বরূপ। এই জন্যই Michael Kimmel, Invisible Masculinity নামে প্রবন্ধ লিখবেন। কিন্তু ১৯৮০-র দশকে জ্ঞানচর্চার এক নয়া পরিসর হিসেবে পৌরুষচর্চার উদ্ভব কিন্তু অনিবার্য সমস্যারও জন্ম দিচ্ছিল। প্রথম থেকেই Men’s Study বা Masculinity Studies, Women’s Studies-এর সঙ্গে একধরনের তির্যক দ্বিরালাপ বজায় রেখেছে। কোথাও কোথাও এই দুই তত্ত্বের সীমারেখা হালকা হতে হতে কার্যত মিলিয়ে গেছে। আবার এই Men’s Studies, নারীবাদী প্রকল্পের এক প্রসারিত অভিক্ষেপ নাকি এ নারীবাদের এক antithesis তা নিয়েও দীর্ঘ চর্চা চলেছে। একে দেখা হয়েছে বিরুদ্ধ তত্ত্বপ্রস্থান নির্মাণের সুগভীর চক্রান্ত হিসেবে যা আখেরে পুরুষতান্ত্রিক ক্ষমতা কাঠামোর এক তাত্ত্বিক কৈফিয়ৎ নির্মাণ করবে।

এই সম্ভাবনা এবং সন্দেহ দৃঢ় হয়ে উঠছিল ক্রমশ। সেই কারণেই ১৯৯০ সালে প্রকাশিত Robert Bly-এর বহুখ্যাত এবং বহুসমালোচিত বই Iron John: A Book About Men-এর ভূমিকায় লেখক এই বিধিসম্মত সতর্কীকরণ দেন যে এই বই, “does not seek to turn men against women, not to return men to the dominating mode that has led to repression of women and their values for centuries.”। তিনি এ-ও বলেন যে men’s movement নারী আন্দোলনের থেকে সম্পূর্ণ অন্য সময়রেখায় ক্রিয়াশীল। এই আন্দোলন সমকামী পুরুষদেরও ব্রাত্য করে রাখে না। কিন্তু এই বই ১৯৯০ দশকের শুরুর দিকে পৌরুষচর্চার সঙ্গে যুক্ত তাত্ত্বিকদের মধ্যে প্রবল প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। কারণ এই বইয়ের মূলগত ধারণা Mythopoetic Men’s Movement-এর সঙ্গে বৃহত্তরভাবে জড়িত ছিল। Mythopoetic Men’s Movement বস্তুত এমন এক আন্দোলন যা পুরুষকে তার ঐতিহ্যাগত ভূমিকায় পুনর্প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিল। এইজন্যই Theorizing Masculinity বইয়ে Scott Coltrane, Bly-এর ‘Misogynist overtone’ এর দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

Mythopoetic Men’s Movement পুরুষতন্ত্রের মধ্যে জমে ওঠা আত্মগ্লানির প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করেছিল কিনা তা তর্কের বিষয়। তবে একথা অনস্বীকার্য এই আন্দোলন নানা ধরনের পৌরুষকে বিদ্যায়তনিক চর্চার আলোয় আনে। আসলে নারীবাদ এবং পৌরুষচর্চা লিঙ্গরাজনীতির সমর ক্ষেত্রে দ্বন্দ্বরত কোনও জ্ঞানতাত্ত্বিক প্রতিপক্ষ নয়। এরা উভয়েই এক নির্মিত ক্ষমতা কাঠামোকে প্রশ্ন করে। এরা কেউই মূলগতভাবে সেই ক্ষমতা কাঠামোর বাইরে কোনও আরেক ক্ষমতা কেন্দ্র তৈরিতে বিশ্বাসী নয়। শেষ পর্যন্ত ম্যাসকুলিনিটি চর্চা তত্ত্বগতভাবে পিতৃতন্ত্রের বিরোধী। পৌরুষচর্চার সব থেকে প্রভাবশালী তত্ত্ব সম্ভবত হেজিমনিক ম্যাসকুলিনিটি। R.W. Connell তাঁর বিখ্যাত বই Masculinities (১৯৯৫)-এ এই তত্ত্বের এক সুসংবদ্ধ রূপ গড়ে তোলেন। যদিও তাঁর আগে Toward a New Sociology of Masculinity (১৯৮৭) প্রবন্ধে Tim Carrigan, Bob Connell এবং John Lee-এ নিয়ে আলোচনা করেছিলেন।

হেজিমনিক ম্যাসকুলিনিটি বস্তুত ক্ষমতাকে লিঙ্গ কাঠামোর কেন্দ্রীয় বিষয় বলে বর্ণনা করতে চায়। দেখাতে চায় বিভিন্ন লিঙ্গের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয় মূলত ক্ষমতার সমীকরণের ওপর ভিত্তি করে। Connell-এর মতে হেজিমনিক ম্যাসকুলিনিটির আলোচনার ক্ষেত্র হল, “the relations between different kind of masculinity: relations of alliance, dominance and subordination”। এই সম্পর্কগুলি আবার পরিবর্তনশীল। Connell এই সম্পর্কের কাঠামোকে চারটি পর্যায়ে ভাগ করেছেন। Hegemony, Subordination, Complicity এবং Marginalization। ইতালীয় তাত্ত্বিক আন্তনীয় গ্রামসির থেকেই হেজিমনির ধারণাটি নিয়েছিলেন Connell। গ্রামসি হেজিমনিকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কাঠামো বর্ণনা করতে ব্যবহার করেছিলেন। পৌরুষও বস্তুত রাষ্ট্রের মতোই এক স্বয়ংসম্পূর্ণ ক্ষমতা কাঠামো। রাষ্ট্রের সঙ্গে পৌরুষের সম্পর্ক নিয়েও পরবর্তীকালে আলোচনা হয়েছে।

Connell ইউনাইটেড স্টেটে ব্ল্যাক ম্যাসকুলিনিটিকে প্রান্তিক বলে চিহ্নিত করেছিলেন। Connell-এর Masculinities প্রকাশের দশ বছরেরও বেশি সময় পরে প্রকাশিত হয়েছিল Robert Staples-এর বিখ্যাত বই Black Masculinity: The Black Male’s Role in American Society। ১৯৯৫-এ মৃণালিনী সিন্‌হার Colonial Masculinity প্রকাশিত হবে। যেখানে এই জাতিকেন্দ্রিক পৌরুষচর্চা অন্য দিগন্ত পাবে। দেখা যাবে ঔপনিবেশিক জ্ঞানতত্ত্ব কীভাবে উপনিবেশিত জাতিকে নির্বীর্য, পৌরুষহীন, মেয়েলি বলে প্রতিপন্ন করতে চায়।

১৯৯৮-এ John MacInnes-এর বিতর্কিত বই End of Masculinity প্রকাশিত হয়। সেখানে তিনি দাবি করেন পুরোনো পৌরুষ সংক্রান্ত বিশেষ সুবিধাগুলি এখন অন্তর্হিত। তিনি দাবি করেন নতুন যুগের পুরুষরা তাঁদের পিতা-পিতামহের মতো পৌরুষের বাঁধাবাঁধি ধারণায় আর আটকে থাকে না।

পৌরুষ যেমন নারী-পুরুষ নির্বিশেষে যে কারও মধ্যে থাকতে পারে, ঠিক তেমনই নারীত্ব স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে যে-কারও মধ্যে থাকতে পারে। কারণ পৌরুষ এবং নারীত্ব শেষ পর্যন্ত এক সাংস্কৃতিক নির্মাণ যা জন্মসূত্রে প্রাপ্ত জৈবিক বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভরশীল নয়।

তারা গার্হস্থ্য-শ্রম নিজেদের সঙ্গীর সঙ্গে ভাগ করে নিতেই পছন্দ করে। মূল শহরের বাইরে সমকামভীতি থাকলেও সমকামের প্রতি এক ধরনের সহনশীলতাও দেখা যাচ্ছে। যদিও বলা বাহুল্য দেশ আর সময়ের ভিত্তিতে সার্বিকভাবে পৌরুষের সমাপ্তি কখনোই হয়নি।

Cornwall এবং Lindisfarne বলেছিলেন sexed body আর gendered individual-কে একসঙ্গে বেঁধে রাখা অনুচিত। পৌরুষ এবং নারীত্ব উভয়েরই যে পুরুষ এবং নারীরূপ (male version and female version) হতে পারে তা তাঁরাই প্রথম জানান। অর্থাৎ পৌরুষ যেমন নারী-পুরুষ নির্বিশেষে যে কারও মধ্যে থাকতে পারে, ঠিক তেমনই নারীত্ব স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে যে-কারও মধ্যে থাকতে পারে। কারণ পৌরুষ এবং নারীত্ব শেষ পর্যন্ত এক সাংস্কৃতিক নির্মাণ যা জন্মসূত্রে প্রাপ্ত জৈবিক বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভরশীল নয়। আসলে পৌরুষ এবং নারীত্বের কোনও জৈবিক বাস্তবতা নেই। এদের রূপক হিসেবে দেখাই শ্রেয়। এই রূপকগুলোই সত্তার নির্মাণ ঘটায়। যদিও তাঁরা মেনে নেন, …an essentialist “male-female” dichotomy cannot account for the ways people are gendered in different places at different times… the idea of “being a man” can no longer be treated as universal.

অর্থাৎ পৃথক স্থান এবং পৃথক কালখণ্ডে পৌরুষের তথা নারীত্বের বিভিন্ন অভিক্ষেপ সম্ভব। আসলে সাময়িক এবং স্থানিক পরিসর অনুসারে ক্ষমতা কাঠামোও তো বদলে বদলে যায়। ক্ষমতা কাঠামোর অপরদিকে লগ্ন-থাকা বৈশিষ্ট্যগুলিকেই পৌরুষ বলে চিহ্নিতকরণের প্রবণতা দেখা যায়।

এইভাবেই আমরা পৌরুষকে একটা টেক্সট হিসেবে পড়ে ফেলতে পারি। আমরা বুঝতে চেষ্টা করতে পারি কীভাবে তথাকথিত পৌরুষের এক ভ্রান্ত ধারণা পুরুষ শরীর নিয়ে জন্মানো এক মানুষকেও চূড়ান্ত অসহায় করে তুলতে পারে। পৌরুষের বহুস্বরিক বিস্তার বুঝতে পারলে লিঙ্গ রাজনীতির অলিগলি চিনে ফেলা আমাদের পক্ষে আরেকটু সুবিধা হবে।

Written by