সিঁদুর পরা বা না পরার সিদ্ধান্ত নিক মেয়েরাই, জয়ী হোক ইচ্ছের স্বাধীনতা

 

– “বিয়েটা কি আছে? না গেছে? সিঁথিতে এতটুকু লাল দাগ তো দেখি না!”
– “অত বড়ো চাকরি করে, কিন্তু সিঁদুর, শাঁখা সব পরে…”
– “মাথায় এতটুকু সিঁদুর নেই, কে বলবে সবে বিয়ে হয়েছে?” 

কান পাতলে এসব কথা শোনা আজও তেমন দুর্লভ নয়। হিন্দু এয়োস্ত্রী মানেই যে সিঁথিতে সিঁদুর, হাতে শাঁখা, পলা, লোহা— এই ধারণাকে আইনি সিলমোহর দিয়েছিলেন গৌহাটি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি অজয় লাম্বা ও বিচারপতি সৌমিত্র শইকিয়া। পরে গুয়াহাটি হাইকোর্টের এই রায়কে দৃষ্টান্ত হিসাবে উল্লেখ করে ইন্দোরের একটি পারিবারিক আদালত রায় দেয়, বিবাহিত হিন্দু নারীর সিঁদুর পরা আবশ্যিক ধর্মীয় কর্তব্য। এসব মোটেই খুব পুরোনো ঘটনা নয়।

আসলে শিবঠাকুরের আপন দেশে সিঁথির সিঁদুর-এর তাৎপর্য-ই আলাদা। হিন্দু এয়োস্ত্রীর সিঁদুর কৌটোর এক চিলতে সিঁদুর বদলে দিতে পারে গোটা উপমহাদেশের আবহাওয়া। ২০২৫-এ মাত্র ২৫ মিনিটের অপারেশন সিঁদুরে কোণঠাসা পাকিস্তান! ‘এক চুটকি সিন্দুর কা কিমত তুম ক্যায়া জানো রমেশবাবু!’

ব্রহ্মপুরাণে উল্লেখ রয়েছে, শাঁখা-সিঁদুরের কথা। সিন্ধু সভ্যতাতেও শাঁখা-সিঁদুর ব্যবহারের উল্লেখ মেলে। সিঁদুর-আলতা যেমন আবহমান সংস্কৃতির অঙ্গ, তেমনই আবার কখনও তা হয়ে উঠেছে বেড়ি, বর্ম, বিপ্লব।

দেবী চলেছেন বিসর্জনে। বিদায়ের বরণে বিজোড় সংখ্যায় এয়োস্ত্রীরা পাক খাচ্ছেন তাঁকে ঘিরে। লালপেড়ে শাড়ির ঘোমটায় ঢাকা মাথা। রাঙা মুখ। সিঁথি ভরে উঠেছে রাঙা কুমকুমে। দেবীর সিঁথিটিও রাঙা। বরণডালার সিঁদুর দিয়েই চলছে এয়োদের সিঁদুর খেলা। একটু পরেই সমাজ মাধ্যমের দেওয়াল ভরে উঠবে রাঙা মুখের হাসিমাখা ছবিতে। এ যেন এক রূপকথার জীবন। পুজোর মরসুমে সিঁদুরখেলা মাস্ট! তেমনই অবিচ্ছেদ্য আলতা। হিন্দু বিবাহিতা নারীর বৈবাহিক চিহ্ন শাঁখা-নোয়া-সিঁদুর-আলতা। চিরন্তন বঙ্গবধূ। ঘোমটা ঢাকা মুখে কাজল কালো চোখ, কপালে সিঁদুর বিন্দু, পা দুটি তার আলতা রাঙা। সিঁদুর এখন মার্কারি সালফাইড। আদিতে তা ছিল প্রাকৃতিক উপাদান জাত। আলতা প্রাচীনকালে এটি লাক্ষা থেকে তৈরি হত। আলতার লাল রং রক্তের প্রতীক। যা জীবন, শক্তি, সমৃদ্ধি এবং উর্বরতাকে ইঙ্গিত করে। আলতা মূলত পায়ের পাতায় ছত্রাকজনিত রোগ প্রতিরোধী একটি আয়ুর্বেদিক ওষুধ হিসাবে ব্যবহৃত হত।

ব্রহ্মপুরাণে উল্লেখ রয়েছে, শাঁখা-সিঁদুরের কথা। সিন্ধু সভ্যতাতেও শাঁখা-সিঁদুর ব্যবহারের উল্লেখ মেলে। সিঁদুর-আলতা যেমন আবহমান সংস্কৃতির অঙ্গ, তেমনই আবার কখনও তা হয়ে উঠেছে বেড়ি, বর্ম, বিপ্লব। নতুন বিয়ে হয়েছে, বউয়ের মাথায় একটু সিঁদুর নেই! লোকে কী বলবে! ২০২৫-এ দাঁড়িয়ে মধ্যবিত্ত শহুরে পরিবারেও এমন বাক্য শোনা যায় হামেশাই। আবার বাড়িতে অতিথি আত্মীয়া বিবাহিতা কিন্তু শাঁখা-সিঁদুর ব্যবহার করেন না–এমন অতিথি নিয়েও গৃহকর্ত্রীর বিরক্তির অন্ত নেই! বলে দিতে হয় না বিরক্তির কারণ সিঁদুরের অনুপস্থিতি। মাথার সিঁথিতে এক চিলতে ‘লাল রং’-এর অনুপস্থিতি গড়ে দিয়েছে কয়েকশো যোজন দূরত্ব।

এ নেহাৎ বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। চারপাশে তাকালে চোখে পড়বে এমন বহু। গ্রাম-মফস্বল-ছোটো শহর-বড়ো শহরের তফাৎ সেখানে ম্লান। সিঁদুর পরা বা না-পরার মধ্যে দিয়েই স্বামীর প্রতি অনুগত্য, পারিবারিক সংস্কৃতি- সবটাই চলে আসে আতশকাচের তলায়। গ্রাম, মফস্বল কিংবা শহরতলির দিকে আজও বিবাহিতা নারীর ‘সিঁথির সিঁদুর’ বাধ্যতামূলক। নাহলে গাঁয়ে মন্দ রটবে। সেই নারীর হাতের জল কেউ খাবে না! হিন্দু বিবাহ অনুষ্ঠানে সিঁদুরদান গুরুত্বপূর্ণ আচার। এই পর্বে বরবেশী পুরুষটি সিঁদুরের রেখা এঁকে দেয় নববধূর সিঁথিতে। সেই মুহূর্ত থেকে সেই নারী তার অধীন। স্বামীর মৃত্যুতে সিঁদুররেখার বৈবাহিক চিহ্নটি মুছে ফেলে নারী। আলতার রংও হারিয়ে যায় জীবন থেকে। বৈধব্য জীবনে বহু আচার অনুষ্ঠান থেকে রাতারাতি ব্রাত্য হয়ে যায়। বিয়ে, পুজো, বরণের মতো ‘শুভ কাজে’ বিধবা, বিবাহবিচ্ছিন্না, সন্তানহীনা, মৃত বৎসা নারী ‘অশুচি’। লাল রঙের রেখার থাকা-না থাকায় সমাজ বদলে দেয় এক নারীর গোটা দুনিয়াটাই।

আলতা-সিঁদুরের ব্যবহারে এসেছে পাল্টা হাওয়া। অনেকের কাছেই আজ তা সামাজিক অচলায়তন ভাঙার অস্ত্র। ‘স্বামী’ এখন ‘পার্টনার’, ‘বন্ধু’, ‘বেস্ট ফ্রেন্ড’। তাই আধিপত্যের লাল রং অনেক সময়ই হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানের বিশেষ সাজ। কখনও তা একক নারীর স্পর্ধা।

হিন্দু নারীর সিঁদুর ব্যবহারের প্রথা প্রসঙ্গে সাংস্কৃতিক নৃতত্ত্ব বলে, লাল বর্ণের সিঁদুর কপালে ধারণ করার অর্থ জড়িয়ে রয়েছে আদিম উর্বরাশক্তির উপাসনার মধ্যে। লাল রং সৃষ্টির প্রতীক। বিবাহিতা মহিলাদের কপালে কুমকুম তাদের সন্তানধারণক্ষম হিসাবেই বর্ণনা করা করে। এ প্রসঙ্গে আরও একটি মত পাওয়া যায়। প্রাচীনকালে নারী যখন পিতৃতন্ত্রের হাতে পুরুষের সম্পত্তি হয়ে পড়ল তখন নারীকে অধিকার করার পর পুরুষরা ধারালো পাথর বা অস্ত্র দিয়ে তার কপালে ক্ষত তৈরি করে দিত। সেই দগদগে ক্ষত-ই পরে সিঁদুরের রূপ নেয়। আর একটি মত বলে কন্যাহরণের সময় যুদ্ধে জয়লাভকারী যুবক নিজের আঙুল কেটে রক্ত বের করে পরিয়ে দিত কন্যার সিঁথিতে। নারীর উপর পুরুষের আধিপত্য কায়েমের জন্যই এই প্রথা।

তাই বধূর সিঁদুর কমলে বাড়লে, দেখা গেলে বা না দেখে গেলে, তা আজও হয়ে ওঠে পারিবারিক মাথা ব্যথার কারণ। অন্যরকম কি নেই? অবশ্যই আছে। ভুরি ভুরি আছে, কিন্তু সেই উদাহরণের চাপে এই সত্যকেও অস্বীকার করা যায় না। সিঁদুর আবার পরিস্থিতি ভেদে বর্মও বটে। কেমন? একটা উদাহরণ থাক। মধ্যবিত্ত মুক্তমনা এক বাঙালি পরিবার। মা-বাবা-দুই কন্যার সংসার। মা কখনও সিঁদুর-আলতা ব্যবহার করেননি। কিন্তু দুই মেয়েকেই কর্মসূত্রে যেতে হয় অনেক দূর। তাই অবাঞ্ছিত দৌরাত্ম এড়াতে মা মেয়েদের অল্প হলেও সিঁদুরের দাগ রাখতে বলেন। হয়তো ‘বিবাহিতা’ বলে বেঁচে যাবে বিপদ থেকে। ‘বিপদ’টা যে কী, সে আর বলে দিতে হয় না।

পঞ্চশোর্ধ রেবা প্রধান (নাম পরিবর্তিত) ব্যাংকে ভালো পদে কর্মরতা। জীবনের মধ্য পর্বেই স্বেচ্ছায় স্বামীকে ত্যাগ করেছেন। বেলঘরিয়ায় বাস। একা থাকেন। দৃঢ় ও স্বাধীন স্বভাবে বদল আনতে পারেনি তাঁর একা জীবন। কিন্তু পাকা চুলের মাঝেও জ্বলজ্বল করে ঘন সিঁদুর। হাতে সোনায় মোড়া শাঁখা আর পায়ের ফি বিসুতবার আলতার দাগ। আত্মীয়রা নানা কথা বলে। ‘স্বামী কই যে সিঁদুর পরছে!’ এমন কথাও নিত্য কানে আসে। তাঁর সাফ কথা, “আমি সিঁদুর পরি, এভাবে দেখতে নিজেকে ভালো লাগে বলে।” সিঁদুর-আলতা তাঁর কাছে কোনও বৈবাহিক সংস্কারের অঙ্গ হয়ে থাকেনি। হয়ে উঠেছে ফ্যাশন স্টেটমেন্ট।

আলতা-সিঁদুরের ব্যবহারে এসেছে পাল্টা হাওয়া। অনেকের কাছেই আজ তা সামাজিক অচলায়তন ভাঙার অস্ত্র। ‘স্বামী’ এখন ‘পার্টনার’, ‘বন্ধু’, ‘বেস্ট ফ্রেন্ড’। তাই আধিপত্যের লাল রং অনেক সময়ই হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানের বিশেষ সাজ। কখনও তা একক নারীর স্পর্ধা। ‘ও কার জন্য সিঁদুর পরে?’র জবাব হয়ে ওঠে ‘নিজের জন্য’। জীবনের একটা রং শুধু আধিপত্যের- একটা রং নির্দিষ্ট করে দেবে শুভ-অশুভর গণ্ডি- এমন ছককে দাপট দেখাচ্ছে নারীর এমন সোচ্চার লড়াই। বাঁধন ছেঁড়ার এই সাধনাও কম কঠিন নয়। সংস্কারী হিন্দু নারীর সহিষ্ণুতা, আত্মত্যাগ, পতীব্রতা সাধবী স্ত্রীর ভাবমূর্তি-সব যেন বুঝিয়ে দেওয়া যায় ওই এক লাল রেখার দাগে। ভারতীয় দর্শকদের সনাতন সেন্টিমেন্টে ঘা দিয়ে বারবার সাফল্য পেয়েছে ফিল্মি দুনিয়া। বলিউড থেকে রোজকার ডেইলি সোপ- ‘অপারেশন সিঁদুর’ দর্শক টানার এক অব্যর্থ দাওয়াই। কিন্তু এই ভাবনার বিপ্রতীপে দাঁড়িয়ে থাকা মুখগুলোও তেমনই নাছোড়। সমাজের দেগে দেওয়া লাল দাগের গণ্ডি তারা মানতে নারাজ। সপাট প্রশ্ন, বিয়ে মানে কি সিঁদুরের শিকল?

পিতৃতন্ত্রের এক মোক্ষম প্রতীক সিঁদুর। কৌম আদিম সমাজে পাখির ডানার পালক, ধারালো অস্ত্র এমনকি নখ দিয়েও নারীর সিঁথি-কপাল চিরে লিখে দেওয়া হত মালিকানার স্বাক্ষর। বিবাহযাত্রার আগে বরবেশী পুরুষকে আজও জিজ্ঞাসা করা হয়- কী আনতে যাচ্ছ? সে উত্তর দেয় ‘দাসী’। আশপাশ হেসে উঠে বলে, ‘দাসী নয়, বলো বউ’। নারী পুরুষের সংসারে গৃহিনী, সেবিকা, সন্তানের জননী। তার নামই হল সতী। আর সিঁদুর সেই সতীর চিহ্ন। যার স্বামী আছে, তারই আছে যথাযথ স্থান-মান। সেই সমাজে এয়োস্ত্রীর সিঁথিভরা টকটকে লাল সিঁদুর মেয়েদের সবচেয়ে বড়ো সম্মান-প্রতীক।

এই ভাবনাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে মেয়েরাই! প্রশ্ন তোলে সিঁদুর পরার প্রয়োজনীয়তা নিয়েই! স্বামী, প্রভু এমনকি জীবনসঙ্গীর ধারণাও খারিজ করেছে তারা। স্বাধীন আত্মনির্ভরশীল জীবনে তারা চায় সুখে-দুখে সঙ্গে চলার সাথী, বন্ধু। প্রভু নয়। বাঙালি জীবনের অঙ্গ আলতা-সিঁদুরের দুনিয়ায় পাঁচ দশকের বেশী সময় ধরে জুড়ে আছে একটি নাম। একটি ব্র্যান্ড। বাঙালি মেয়েদের জীবনের নানারকম পালা বদলের সাক্ষী ‘খুকুমণি’। গোপীকান্ত রায়চৌধুরি ও শ্রীকান্ত রায়চৌধুরির হাত ধরে যার যাত্রা শুরু। তবে শুরুর গল্পটা ছিল অন্যরকম। হাওড়ার বাগনানের মুগকল্যাণ গ্রামের হরিনারায়ণপুরে আদি বাস। সেখানেই শুরু করেন ব্যবসা। আগে ছিল বইয়ের দোকান। পরে তা বদলে যায় প্রসাধন সামগ্রীর উৎপাদনে। আরও পরে সিঁদুর আলতায়। এই সব কিছুর নেপথ্যে ছিলেন এক নারী।  গোপীকান্ত রায়চৌধুরীর স্ত্রী সন্ধ্যা রায়চৌধুরী। উৎপাদন থেকে শুরু করে সব ধরনের কাজেই তিনি ছিলেন সমান উদ্যমী। গ্রামের মহিলাদের মধ্যেও আর্থিকভাবে স্বাধীন হওয়ার ভাবনা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। ১৯৮০ সালে ‘খুকুমণি’ চলে আসে বাগনানের খাদিনানে। এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন তাঁদের উত্তরসূরী প্রদীপ রায়চৌধুরি। ঘরে তৈরি ব্র্যান্ড হিসাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পর আরও আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত হয়ে ওঠে উৎপাদন। খুকুমণির সিঁদুর আলতা ল্যাবরিটারি টেস্ট পাস করে করে তবেই বাজারে আসে। খুকুমণি আজও নারী শক্তিকে প্রাধান্য দিয়ে চলেছে আগামীর পথে।

বলিউড থেকে রোজকার ডেইলি সোপ- ‘অপারেশন সিঁদুর’ দর্শক টানার এক অব্যর্থ দাওয়াই। কিন্তু এই ভাবনার বিপ্রতীপে দাঁড়িয়ে থাকা মুখগুলোও তেমনই নাছোড়। সমাজের দেগে দেওয়া লাল দাগের গণ্ডি তারা মানতে নারাজ। সপাট প্রশ্ন, বিয়ে মানে কি সিঁদুরের শিকল?

সিঁদুর-আলতা যে কীভাবে ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে জুড়ে আছে তা বোঝা যায় বৃহৎ ক্ষুদ্র প্রতিটি ক্ষেত্রে। ২০২৫-এর ২২ এপ্রিলে ঘটা পহেলগাঁও জঙ্গি হামলায় ভারতীয় সেনার জবাব ছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’। তারই রেশ হিসাবে ২০২৫ সালের কান চলচ্চিত্র উৎসবে সিঁথি ভরা সিঁদুর নিয়ে নজর কেড়েছিলেন বলিউড অভিনেত্রী ঐশ্বর্য রাই। সিঁদুর পরা বা সিঁদুর না পরা- দুই সিদ্ধান্তই স্থির করুক নারী। আধিপত্যবাদের দাপট বা মোরাল পুলিশিং প্রভাবে নয়, তার স্বাধীন ইচ্ছেয়। ইচ্ছের স্বাধীনতা নতুন রোদ আনুক আর খাঁচার দরজাগুলো খুলে যাক রোজকার জীবনে… যেখানে থাকবে না দ্বেষের ভ্রুকুটি, বিদ্রুপের কটাক্ষ, আর বিরোধীতার তীর…

Written by