
দি বয়েজ ওন লাইব্রেরি এন্ড ইয়ং মেনস ইনস্টিটিউট (The Boys’ Own Library and Young Men’s Institute) বন্ধের মুখে, শতবর্ষ প্রাচীন গ্রন্থাগারের আজ ভগ্নপ্রায় দশা; একসময় যে তিন তরুণের উদ্যোগে কলকাতা শহরের বুকে স্বতন্ত্র পাঠকেন্দ্রের জায়গা করে নিয়েছিল এই গ্রন্থাগার, শতবর্ষেরও বেশি সময় জুড়ে যা আশ্রয় দিয়ে চলেছে অসংখ্য পাঠককে — সেটিই আজ পাঠক ও সঠিক পরিকাঠামোর অভাবে বন্ধ হতে চলেছে।
এখন ‘পাঠক’ ব্যাপারটি স্বাভাবিক কারণেই গ্রন্থাগার প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ; বিশেষ করে ‘সাধারণ পাঠক’। একটু ইতিহাসের পাতা ওল্টানো যাক, ‘গ্রন্থাগার’ কবে সাধারণ গ্রন্থাগার (public library) হল, তা ফিরে দেখতে গেলে আমাদের ১৮৩৫-এ মেকলে মিনিটস-এর সময়কালে আশ্রয় নিতে হবে। কারণ এই বছরই ২০ অগাস্ট কলকাতার টাউন হলে অনুষ্ঠিত এক সভায় সাধারণ গ্রন্থাগার স্থাপনের প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং তার ফলেই ১৮৩৬-এর ৯ মার্চ এসপ্ল্যানেড রো-তে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘ক্যালকাটা পাবলিক লাইব্রেরি’। এই লাইব্রেরিটি নানা বদলের মধ্যে দিয়ে প্রথমে ইম্পেরিয়্যাল লাইব্রেরি ও দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৪৮-এ ন্যাশনাল লাইব্রেরি হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে।

লাইব্রেরির মূল ফটক
১৯০৯-এর পয়লা মে, দি বয়েজ ওন স্কুল এন্ড কিন্ডার গার্টেন’-এর তিন পড়ুয়া, জীবনকৃষ্ণ দে, প্রদ্যুৎকুমার রূদ্র ও কৃষ্ণপ্রসন্ন ঘোষ কুড়িটা পাঠ্য বই ও একটা প্রাচীন আলমারি সম্বল করে শুরু করেন এই লাইব্রেরির যাত্রা। প্রাথমিক ভাবে তাঁদের স্কুলের নামানুসারেই নাম হল, দি বয়েজ ওন লাইব্রেরি।
এত কথা বলার কারণ এই যে, সাধারণ গ্রন্থাগার বলতে আমরা যা বুঝি এর আগে তা ছিল না। ছিল নানা মানুষের বাড়িতে ব্যক্তিগত গ্রন্থাগার; অনেকে এশিয়াটিক সোসাইটিকে প্রথম গ্রন্থাগারের মর্যাদা দিলেও তা কখনোই সাধারণ গ্রন্থাগার নয়। তাছাড়া ১৮২৮ অবধি এখানে ভারতীয়দের প্রবেশাধিকারও ছিল না। এটির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের উদ্যোগ ধরলে, বর্তমানে ৬৭/১/২ নিমতলা ঘাট স্ট্রিট-এ ১৮৭২-এ স্থাপিত ইউনাইটেড রিডিং রুমকেও প্রথমদিকে সাধারণ মানুষের উদ্যোগে স্থাপিত পাবলিক লাইব্রেরির মর্যাদা দেওয়া যেতে পারে।
লক্ষ করলে দেখা যাবে, মেকলে মিনিটস-এর পরপরই কিন্তু সাধারণের জন্য গ্রন্থাগার স্থাপনের উদ্যোগ শুরু হচ্ছে; আমরা সকলেই জানি, মেকলের এই প্রস্তাব ছিল প্রকারান্তরে ব্রিটিশ সরকারের পদলেহনকারী কেরানি বানানোর নামান্তর, সেখানে ঠিক এই সময় থেকেই পাবলিক লাইব্রেরি স্থাপন গুরুত্বপূর্ণ আর্থ-সামাজিক বৈশিষ্ট্য নির্দেশ করে। পাশ্চাত্য শিক্ষার বিস্তার যত হয়েছে, সাধারণ গ্রন্থাগারের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন তা গ্রন্থপিপাসু মনের খিদে মেটাতে নাকি শিক্ষার কলের যন্ত্র হিসেবে – এ প্রশ্ন থেকেই যায়।

১২ রামনাথ ভট্টাচার্য লেন, লাইব্রেরির প্রথম ঠিকানা (বাঁদিকে), ৭৬/২ বিধান সরণীতে দি বয়েজ ওন লাইব্রেরির নিঃশুল্ক পাঠকক্ষ (ডানদিকে)
ফিরে আসি দি বয়েজ ওন লাইব্রেরির কথায়। ১৯০৯-এর পয়লা মে, দি বয়েজ ওন স্কুল এন্ড কিন্ডার গার্টেন’-এর তিন পড়ুয়া, জীবনকৃষ্ণ দে, প্রদ্যুৎকুমার রূদ্র ও কৃষ্ণপ্রসন্ন ঘোষ কুড়িটা পাঠ্য বই ও একটা প্রাচীন আলমারি সম্বল করে শুরু করেন এই লাইব্রেরির যাত্রা। প্রাথমিক ভাবে তাঁদের স্কুলের নামানুসারেই নাম হল, দি বয়েজ ওন লাইব্রেরি। গ্রন্থাগারের প্রাথমিক আস্তানা ছিল ১২ রাম নারায়ণ ভট্টাচার্য লেন-এ ড. গিরিশচন্দ্র দত্তের বাড়ি। এখানেও আমরা দেখব, লাইব্রেরির বইয়ের তালিকা হিসেবে কিন্তু থাকছে কেবলই স্কুলপাঠ্য বই। পাঠাগার শুরু হয়েছিল, মাসিক দুই আনা চাঁদায়। কোনো আলাদা প্রবেশমূল্য ছিল না। শুরু থেকেই নানা বদলের মধ্যে দিয়ে গেছে এই পাঠাগার। প্রাথমিক আস্তানা থেকে আজকের স্থায়ী আস্তানায় আসতে সময় লেগেছিল প্রায় ৫০ বছর। কখনও ৭/৩ বিডন স্ট্রিট, কখনও ৭১ মসজিদ বাড়ি স্ট্রিট আবার কখনও ৭৬/২ বিধান সরনি পাঠাগারের ঠিকানা হয়েছে। এত বদলে যাওয়া ঠিকানার মধ্যে বর্তমান ভবন ছাড়া স্থায়ী হয়েছে কেবলমাত্র বিধান সরনিস্থিত বাড়িটিই। ১৯৩৬-এ জনৈক কালীশঙ্কর মিত্রের বদান্যতাতে এই ভবন ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। নিঃশুল্ক পাঠকক্ষ হিসেবে। এর দেওয়ালে আজও উজ্জ্বল তাঁর বাবার নামাঙ্কিত স্মৃতি ফলক, ‘NARENDRA FREE READING ROOM’। কয়েক বছর আগেও এই পাঠকক্ষ খোলা হত নিয়মিত, মানুষ এসে বিনামূল্যে সংবাদপত্র পড়তেন, পড়তেন প্রয়োজনীয় বইপত্রও। নিঃশুল্ক হওয়ার জন্য বিশেষ করে উপকৃত হতেন পল্লীর ছাত্রছাত্রীরা। লাইব্রেরির সহ-গ্রন্থাগারিক মিতা গুপ্ত বঙ্গদর্শন.কম-কে বলেন, “আমাদের কাছে এই ভবন ছোটো লাইব্রেরি নামে পরিচিত, কিন্তু ক-মাস আগে আমরা খেয়াল করি পাঠকক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ সংবাদপত্র, বই, নথি চুরি যাচ্ছে। আমরা বাধ্য হই বন্ধ করে দিতে। আসলে যাঁরা আজ লাইব্রেরির দায়িত্বে রয়েছেন তাঁরা প্রায় সকলেই বিনামূল্যে, স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে এই লাইব্রেরিকে কোনোমতে বাঁচিয়ে রেখেছেন। আমরা একসঙ্গে কত দিক সামলাব! সিসিটিভি বসানোর পরিকাঠামো নেই, সেখানে মানুষের যদি এই নীতিবোধ হয়, তাহলে বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া উপায় কী!”
— এদিন লাইব্রেরির সহায়ক সঞ্জয়বাবুকে অনুরোধ করে এই ভবনটি খোলানো হলে দেখা গেল, ইঁদুর-ছুঁচোর আস্তানা, কত পুরোনো বই, আলমারি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে অযত্নে। শহরের ঝাঁ চকচকে বহুতলের আড়ালে আরও একটা ইতিহাস মুছে যাওয়ার পথে। যেহেতু লাইব্রেরির নামের সঙ্গে বালক জড়িয়ে, তাই লাইব্রেরির কার্যক্রম, বইপত্রের বিষয় পরিধিও প্রথমদিকে বেশি বিস্তৃত ছিল না। একটা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত লাইব্রেরির গ্রন্থ-তালিকায় ছিল না বাংলা নাটক, উপন্যাসের স্থান। কিন্তু অবলীলায় স্থান পেয়েছিল ইংরেজি বই। (এই উদাহরণ আমাদের আবারও মেকলে মিনিটস মনে করাতে বাধ্য)। যাই হোক, একসময় দ্বিজেন্দ্রলাল রায় তাঁর ‘মেবার পতন’ নাটকটি সই করে এঁদের উপহার দেন, তখন থেকেই তালিকাভুক্ত হয় বাংলা নাটক। এ সময় থেকেই বাংলা উপন্যাসেরও পাঠতালিকায় অন্তর্ভুক্তি হয়েছিল, তবে ১৬ বছরের কম পাঠককে পড়তে দেওয়া হত না। এমনকী বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাসেরও প্রথমে স্থান হয়নি। তবে ধীরে-ধীরে সংস্কারপন্থী মানসিকতা বদলাতে শুরু করে। প্রতিবছর পাঠাগারে বাৎসরিক অনুষ্ঠান হত। ১৯১৫-তে পাঠাগারের ষষ্ঠ বাৎসরিক অনুষ্ঠানে সাহিত্যিক বিজয়কৃষ্ণ মজুমদার-এর নাটক ‘সংশোধন’ মঞ্চস্থ হল। (প্রসঙ্গত, ১৯১২ থেকে এই লাইব্রেরির সদস্যরা প্রকাশ করতেন হাতে লেখা পত্রিকা ‘বাল্যপ্রতিভা’, বিজয়কৃষ্ণ পরবর্তীকালে এর সম্পাদক হন)। নাটকটি মঞ্চস্থ হওয়ার আগে আবার নিন্দার ঝড় উঠল! পাঠাগারের সভ্যরা মেয়ে সেজে স্টেজে নামবে! কী লজ্জার কথা! কিন্তু অবশেষে নানা বিতর্কের পর নাটকটি মঞ্চস্থ হয়। প্রতিষ্ঠাতা ত্রয়ীও এতে অংশ নিয়েছিলেন। পাঠাগার প্রযোজিত প্রথম নাটক এটিই। পরে প্রতি বছরই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নাটক মঞ্চস্থ করে গেছে এই পাঠাগার। একইসঙ্গে চলেছে বিতর্ক; যেমন রজত জয়ন্তী উপলক্ষে মঞ্চস্থ হওয়া ‘জহরা’ নাটকে বাঈজীর চরিত্র ঘিরে বিতর্ক হয়, তেমনি ১৯৫৭-র বাৎসরিক উৎসব উপলক্ষে রঙমহল-এ মঞ্চস্থ হয় ‘কেরানির জীবন’, যেখানে সদস্যা মহিলারাই স্ত্রী চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। যা অপেশাদারি থিয়েটার চর্চার ইতিহাসের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ তো বটেই।

হাতে লেখা পত্রিকা বাল্যপ্রতিভা
বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতির ইতিহাসে এই পাঠাগার কেবলমাত্র একটি পাঠাগার হয়েই থাকেনি, শিল্পের নানা চর্চায় নিজেকে নিয়োজিত করেছে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে, অপেশাদারি রঙ্গমঞ্চের ইতিহাসে এমন উদাহরণ খুব কমই আছে, একটি লাইব্রেরি হয়ে যাঁরা আজ পর্যন্ত প্রায় ১০০-রও বেশি নাটক মঞ্চস্থ করেছেন এবং অকুণ্ঠ প্রশংসা পেয়েছেন গুণীজনের। পাঠাগারে ১৯১২ থেকে যে হাতে লেখা পত্রিকা শুরু হয়েছিল, তা কয়েকবছর চলেই বন্ধ হয়ে যায়। অনেক পরে ৭০-এর দশকে সৌমিত্র মিত্রের সম্পাদনায় শুরু হয় পক্ষীরাজ নামের একটি দেওয়াল পত্রিকা, কিন্তু পরে উৎসাহ ও লোকবলের অভাবে তাও অনিয়মিত হয়ে পড়ে।
কর্মীদের সকলের মুখেই আফসোসের সুর শোনা গেল, লাইব্রেরিতে ছোটোরা আসা কমিয়ে দিয়েছে, যারা আসে, তারা বাংলা বই পড়ে না। এমনও অনেক ক্লাস নাইন-টেনে পড়া কিশোর-কিশোরীরা রয়েছে যাঁরা শোনেইনি ফেলুদা সমগ্র হিসেবে আস্ত একটা বই-ই রয়েছে।

প্রতিষ্ঠা ফলক (বাঁদিকে), প্রতিষ্ঠালিপি (ডানদিকে)
পাঠাগারের কার্যক্রম আর বালোকচিত কাজকর্ম বদলে আসছিল দ্রুত, তাই ১৯১৭-তে বালকের সঙ্গে জুড়ে গেছিল, ‘ইয়ং মেন্স’! পাঠাগারের নাম হল, দি বয়েজ ওন লাইব্রেরি এন্ড ইয়ং মেনস ইনস্টিটিউট। পাঠাগারে একে একে শুরু হল শিশুদের বিভাগ। (৩০-এর দশক), স্বতন্ত্র ভবন নির্মাণের জন্য ৪০-এর দশকে তহবিল তৈরি করা হল, ১৯৬০-এ ডালিমতলা লেন-এ প্রায় সাড়ে ৩৬ হাজার টাকা দিয়ে নিজেদের জন্য জমি কিনল পাঠাগার। বর্তমানে যেখানে পাঠাগারের অবস্থান সেখানে ১৯৬২-তে পাঠাগারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু। ১৯৬৮-তে নির্মাণ সম্পূর্ণ হয়, দ্বারোদঘাটন করেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ড. ত্রিগুণা সেন (যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য)। এই অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেছিলেন তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়া এই পাঠাগারের সভাপতির দায়িত্বও নানা সময়ে বিভিন্ন নানা গুণীজন সামলেছেন। সাহিত্যিক খগেন্দ্রনাথ মিত্র, প্রথম বাঙালি একাউন্টটেন্ট জেনারেল জ্যোতিষচন্দ্র মিত্র যাঁদের মধ্যে অন্যতম। নানা সময়ে পাঠাগারে বক্তৃতা দিয়ে গেছেন প্রেমেন্দ্র মিত্র, নারায়ণ সান্যালের মতো সাহিত্যিক।
বিশিষ্ট কলকাতা গবেষক পি.টি নাইয়ার তাঁর হিস্ট্রি অফ ক্যালকাটা স্ট্রিটস বইতে দেখাচ্ছেন, ১৯৮১-তে পাঠাগারের ৩৭তম প্রতিষ্ঠা দিবসে কর্পোরেশনের তরফে ডালিমতলা লেন বদলে, গ্রন্থাগারের নামে রাস্তার নামকরণ করা হয়, বয়েজ ওন লাইব্রেরি রো। লাইব্রেরির জন্য রাস্তার নাম বদলে যাচ্ছে শহরের ইতিহাসের দিক থেকে এ-ও গুরুত্বপূর্ণ আঙ্গিক।

পাঠকক্ষের জীর্ণ অন্দর
এত ইতিহাসের সাক্ষী হয়েও লাইব্রেরির ভবিষ্যৎ আজ অনিশ্চিত। প্রতিষ্ঠাতা জীবনকৃষ্ণ দে-র পুত্র সমীর দে তিনি আজও লাইব্রেরিতে আসেন ঝড়-বৃষ্টি, ৮৩ বছরের বার্ধক্য ভারের প্রতিকূলতা পেরিয়ে। আসেন দূরদূরান্ত থেকে আরও নানা মানুষ, শুধু বইকে ভালোবেসে, স্বেচ্ছা শ্রম দিতে। সরকারি তরফে বেশ কয়েকবছর অনুদান আসা বন্ধ হয়েছে, এখন সবটাই চলছে সঞ্চিত তহবিল থেকে, পাশাপাশি এই ভবনেই একটি থিয়েটার হল নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে স্বল্প মূল্যে নানা থিয়েটার দল ভাড়া নিয়ে থাকে। পাশাপাশি একটি কক্ষে রিহার্সাল স্পেসও রয়েছে, যা এই লাইব্রেরি থিয়েটার দলগুলিকে ভাড়া দিয়ে থাকে। লাইব্রেরির আয় বলতে এটুকুই।

সহ-গ্রন্থাগারিক মিতা গুপ্ত
এদিন মিতা গুপ্ত বলছিলেন টাকা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রক্ষণাবেক্ষণ তো বন্ধই, নতুন বইও কেনা হয়ে উঠছে না। কর্মীদের সকলের মুখেই আফসোসের সুর শোনা গেল, লাইব্রেরিতে ছোটোরা আসা কমিয়ে দিয়েছে, যারা আসে, তারা বাংলা বই পড়ে না। এমনও অনেক ক্লাস নাইন-টেনে পড়া কিশোর-কিশোরীরা রয়েছে যাঁরা শোনেইনি ফেলুদা সমগ্র হিসেবে আস্ত একটা বই-ই রয়েছে। তারা বোঝে ইংরেজি বই আর কমিক্স। এ দায় কার? সময়ের নাকি সমাজের?
উত্তর খোঁজে গৌরবময় ইতিহাস নিয়ে নিজের অস্তিত্বের সংকটে দাঁড়িয়ে থাকা দি বয়েজ ওন লাইব্রেরি এন্ড ইয়ং মেনস ইন্সটিটিউ ও সময়ের সাক্ষী হয়ে থাকে জীর্ণ চল্লিশ হাজারেরও বেশি বই, পত্রপত্রিকার হলদে হয়ে যাওয়া পাতা…


